দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা মোবাইল ফোন নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলেও এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না ক্লোন ও নকল আইএমইআইযুক্ত হ্যান্ডসেটগুলো। নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই শনাক্ত হলেও সাধারণ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সরকার এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সেটকে আপাতত ব্লক না করে ‘গ্রে’ (Grey) তালিকাভুক্ত করে নজরদারিতে রাখা হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআইযুক্ত হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে। কোনো কোনো সেটের আইএমইআই নম্বর ‘১১১১…’, ‘০০০০…’ বা ‘৯৯৯৯…’-এর মতো অদ্ভুত প্যাটার্নের। এসব ডিভাইসের কোনো নিরাপত্তা মানদণ্ড নেই এবং রেডিয়েশন পরীক্ষাও করা হয়নি। তবুও চারটি অপারেটরের নেটওয়ার্কে এগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে। হুট করে এগুলো বন্ধ করে দিলে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় অন্তর্বর্তী সরকার এখনই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না।
তথ্য বিশ্লেষণে ভয়াবহ এক চিত্র উঠে এসেছে। গত ১০ বছরে কেবল একটি আইএমইআই নম্বর (৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯)-এর বিপরীতে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ‘৪৪০০১৫২০২০০০’ নম্বরের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ এবং ‘৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪’ নম্বরের বিপরীতে সাড়ে ১৭ লাখ ডিভাইস চলছে। এমনকি শুধু ‘০’ আইএমইআই নম্বরেও সচল আছে প্রায় ৬ লাখ ফোন।
সরকার বলছে, স্মার্টফোন ছাড়াও সিসিটিভি বা বিভিন্ন আইওটি (IoT) ডিভাইসেও একই আইএমইআই ব্যবহার হতে পারে। অপারেটররা এখনো মোবাইল ও অন্যান্য ডিভাইসের পার্থক্য আলাদা করতে পারছে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশে আন-অফিশিয়াল ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রির এক বিশাল প্রতারণা চক্র গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি এবং ৮৫ শতাংশ ই-কেওয়াইসি জালিয়াতি ঘটে অবৈধ বা ক্লোন ফোন ব্যবহার করে। ২০২৩ সালে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ফোন চুরির রিপোর্ট হলেও, ক্লোন আইএমইআইয়ের কারণে এর অধিকাংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জনস্বার্থে সরকার পর্যায়ক্রমে এই অবৈধ চক্রের লাগাম টানতে বদ্ধপরিকর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























