সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার দায় নির্যাতকের : জোনায়েদ সাকি

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আকারে শূন্যতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার এই প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আশির দশকে কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের হাল ধরেছেন এবং জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি অগ্রণী নেতৃত্বে ছিলেন। এই লড়াই তিনি এমনভাবে পরিচালনা করেছিলেন, জনগণের বিরাট অংশে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে অভিহিত হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দেখেছি তিনি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে তার ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষ স্মরণে রাখবে।

তিনি বলেন, বিশেষভাবে ১/১১ সরকারের আমলে তিনি যে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে আমরা একটা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হতে দেখেছি। তার ওপর নানা ধরনের জুলুম-নির্যাতনসহ তাকে বন্দি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তার যে অসুস্থতা এবং যে অসুস্থতার কারণে আজ তার এই মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে, সেই অসুস্থতার দায় নির্যাতকের।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক। নানা জুলুম-নির্যাতন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি যে আপসহীন লড়াই চালিয়েছেন, তা-ই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল প্রেরণা। এই অকুতোভয় নেতৃত্বের কারণে তিনি দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দেশনেত্রী হিসেবে সমাদৃত।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন হাসপাতালে তাকে দেখতে এসেছিলাম, তখন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। সেই অবস্থায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলেছিলেন— আপনারা জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন নিশ্চিত করুন; দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিন এবং দেশটাকে বাঁচান। তার সেই সাহসী আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতা রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা তার কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার দায় নির্যাতকের : জোনায়েদ সাকি

আপডেট সময় ০৬:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আকারে শূন্যতা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার এই প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আশির দশকে কঠিন পরিস্থিতিতে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের হাল ধরেছেন এবং জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি অগ্রণী নেতৃত্বে ছিলেন। এই লড়াই তিনি এমনভাবে পরিচালনা করেছিলেন, জনগণের বিরাট অংশে তিনি আপসহীন নেত্রী হিসেবে অভিহিত হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে দেখেছি তিনি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে তার ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষ স্মরণে রাখবে।

তিনি বলেন, বিশেষভাবে ১/১১ সরকারের আমলে তিনি যে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে আমরা একটা ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হতে দেখেছি। তার ওপর নানা ধরনের জুলুম-নির্যাতনসহ তাকে বন্দি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তার যে অসুস্থতা এবং যে অসুস্থতার কারণে আজ তার এই মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে, সেই অসুস্থতার দায় নির্যাতকের।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক। নানা জুলুম-নির্যাতন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি যে আপসহীন লড়াই চালিয়েছেন, তা-ই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল প্রেরণা। এই অকুতোভয় নেতৃত্বের কারণে তিনি দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে দেশনেত্রী হিসেবে সমাদৃত।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন হাসপাতালে তাকে দেখতে এসেছিলাম, তখন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। সেই অবস্থায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আমাদের স্পষ্ট করে বলেছিলেন— আপনারা জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন নিশ্চিত করুন; দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিন এবং দেশটাকে বাঁচান। তার সেই সাহসী আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীকালে ছাত্র-জনতা রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা তার কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।