সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

ইহুদি উৎসবে হামলায় ১৫ জন নিহতের জেরে অস্ট্রেলিয়ায় কঠোর হচ্ছে ‘বিদ্বেষ বিরোধী’ আইন

বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আর ঘৃণা ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সম্প্রতি একটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর ‘হেট স্পিচ’ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব হানুক্কার প্রথম দিনে দুই মুসলিম ব্যক্তির চালানো বন্দুক হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘‘যারা সমাজে ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রপন্থা ছড়ায়, তাদের দমন করাই হবে আমাদের নতুন আইনের মূল লক্ষ্য।’’

প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন পদক্ষেপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হবে। যারা বিদ্বেষ ছড়াবে, তাদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হবে। এছাড়া সহিংসতা উসকে দেওয়া ধর্মীয় বক্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে ‘অ্যাগ্রাভেটেড হেইট স্পিচ’ বা গুরুতর বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এমনকি অনলাইনে হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে সাজার মাত্রা নির্ধারণে ‘ঘৃণা’ বা হেইট-কে একটি গুরুতর উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন আলবানিজ। তিনি বলেন, প্রতিটি ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানের অধিকার আছে নিরাপদ বোধ করার। সরকার ইহুদিবিদ্বেষ সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিনিধি জিলিয়ান সেগালের গত জুলাইয়ের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো ‘সম্পূর্ণ সমর্থন ও গ্রহণ’ করবে।

৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে সরকার যথেষ্ট তৎপর ছিল না—ইহুদি সম্প্রদায়ের এমন অভিযোগ মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায় স্বীকার করছি। তবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা আমার দায়িত্ব। আইএস অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়াবাসী ভালোবাসা দিয়ে তার জবাব দিয়েছে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়ে বলেন, বাকস্বাধীনতার নীতি ব্যবহার করে কেউ কেউ সীমালঙ্ঘন করছে, যা অস্ট্রেলিয়ায় অগ্রহণযোগ্য।

তবে নতুন এসব পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বন্ধের পরিকল্পনায় বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সমালোচকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

ইহুদি উৎসবে হামলায় ১৫ জন নিহতের জেরে অস্ট্রেলিয়ায় কঠোর হচ্ছে ‘বিদ্বেষ বিরোধী’ আইন

আপডেট সময় ০৪:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে আর ঘৃণা ছড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সম্প্রতি একটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনার পর ‘হেট স্পিচ’ বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দমনে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব হানুক্কার প্রথম দিনে দুই মুসলিম ব্যক্তির চালানো বন্দুক হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘‘যারা সমাজে ঘৃণা, বিভাজন ও উগ্রপন্থা ছড়ায়, তাদের দমন করাই হবে আমাদের নতুন আইনের মূল লক্ষ্য।’’

প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন পদক্ষেপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হবে। যারা বিদ্বেষ ছড়াবে, তাদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হবে। এছাড়া সহিংসতা উসকে দেওয়া ধর্মীয় বক্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে ‘অ্যাগ্রাভেটেড হেইট স্পিচ’ বা গুরুতর বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এমনকি অনলাইনে হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে সাজার মাত্রা নির্ধারণে ‘ঘৃণা’ বা হেইট-কে একটি গুরুতর উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি নতুন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন আলবানিজ। তিনি বলেন, প্রতিটি ইহুদি অস্ট্রেলিয়ানের অধিকার আছে নিরাপদ বোধ করার। সরকার ইহুদিবিদ্বেষ সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিনিধি জিলিয়ান সেগালের গত জুলাইয়ের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো ‘সম্পূর্ণ সমর্থন ও গ্রহণ’ করবে।

৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ ঠেকাতে সরকার যথেষ্ট তৎপর ছিল না—ইহুদি সম্প্রদায়ের এমন অভিযোগ মেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায় স্বীকার করছি। তবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা আমার দায়িত্ব। আইএস অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছিল, কিন্তু অস্ট্রেলিয়াবাসী ভালোবাসা দিয়ে তার জবাব দিয়েছে।’’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়ে বলেন, বাকস্বাধীনতার নীতি ব্যবহার করে কেউ কেউ সীমালঙ্ঘন করছে, যা অস্ট্রেলিয়ায় অগ্রহণযোগ্য।

তবে নতুন এসব পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে অর্থায়ন বন্ধের পরিকল্পনায় বাকস্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সমালোচকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হতে পারে।