ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১২ কোটির যন্ত্র কেনা হচ্ছে ২০ কোটিতে বসিলা ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু, দৈনিক চলবে ৬ লঞ্চ মন্ত্রীর স্বস্তির আশ্বাস, বাস্তবে বাস-ট্রেনে চরম ভোগান্তি সাত দিনের ছুটি শুরু স্বস্তির আশায় গাবতলী-কল্যাণপুরে ঘরমুখো মানুষের জটলা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত ঘরমুখো মানুষের স্রোত, নির্ধারিত সময়ে ছাড়ছে ট্রেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক আহম্মদুল্লাহর নামে/বেনামে শতশত কোটি টাকার সম্পদ ভারতের কাছে ৩ ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান

ছেঁড়া নোটে ৯০ শতাংশ অক্ষত থাকলেই মিলবে পুরো মূল্য, ব্যাংকের জন্য কড়া নির্দেশনা

ছবি- সংগৃহীত

কারও কাছে থাকা টাকার নোট ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ। এখন থেকে কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলেই ব্যাংক থেকে তার পুরো মূল্য ফেরত পাওয়া যাবে। দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গেলেই এই নোট বদলে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘নোট রিফান্ড রেগুলেশন্স’-এর আওতায় নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে। গত ৯ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিস্তারিত এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছেঁড়া, ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ ভালো থাকলে ব্যাংক গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে এর পুরো বিনিময় মূল্য বুঝিয়ে দেবে। তবে নোটের অক্ষত অংশ যদি ৯০ শতাংশ বা তার কম হয়, অথবা নোটটি যদি অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংক কাউন্টার থেকে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। এসব নোটকে ‘দাবিযোগ্য’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। ব্যাংক সেই আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পর সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক তার টাকা ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় অপ্রচলনযোগ্য বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বদলের সেবা চালু রাখতে হবে। কোনো শাখা যদি গ্রাহককে এই সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা ফিরিয়ে দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে ‘ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বিনিময় করা হয়’—মর্মে নোটিশ টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নোটের অবস্থাভেদে সেগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: পুনঃ প্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। এর মধ্যে পুনঃ প্রচলনযোগ্য নোট স্বাভাবিকভাবে বাজারে চলবে। আর অপ্রচলনযোগ্য ও ত্রুটিপূর্ণ নোটগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে বদলে নেওয়া যাবে।

আগুনে পোড়া বা ঝলসানো নোটের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যাংক শাখাগুলো কোনো টাকা ফেরত দিতে পারবে না। এ ধরনের নোট বদলাতে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

নীতিমালায় আরও সতর্ক করা হয়েছে, যদি কেউ জালিয়াতির উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে বা জাল নোট বদলানোর চেষ্টা করে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট অপচয় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

ছেঁড়া নোটে ৯০ শতাংশ অক্ষত থাকলেই মিলবে পুরো মূল্য, ব্যাংকের জন্য কড়া নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৫:১৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কারও কাছে থাকা টাকার নোট ছিঁড়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ। এখন থেকে কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকলেই ব্যাংক থেকে তার পুরো মূল্য ফেরত পাওয়া যাবে। দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গেলেই এই নোট বদলে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘নোট রিফান্ড রেগুলেশন্স’-এর আওতায় নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে। গত ৯ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিস্তারিত এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছেঁড়া, ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ ভালো থাকলে ব্যাংক গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে এর পুরো বিনিময় মূল্য বুঝিয়ে দেবে। তবে নোটের অক্ষত অংশ যদি ৯০ শতাংশ বা তার কম হয়, অথবা নোটটি যদি অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত হয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংক কাউন্টার থেকে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। এসব নোটকে ‘দাবিযোগ্য’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের নোটের ক্ষেত্রে গ্রাহককে ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। ব্যাংক সেই আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পর সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক তার টাকা ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় অপ্রচলনযোগ্য বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বদলের সেবা চালু রাখতে হবে। কোনো শাখা যদি গ্রাহককে এই সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা ফিরিয়ে দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি শাখার দৃশ্যমান স্থানে ‘ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিপূর্ণ নোট বিনিময় করা হয়’—মর্মে নোটিশ টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নোটের অবস্থাভেদে সেগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: পুনঃ প্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। এর মধ্যে পুনঃ প্রচলনযোগ্য নোট স্বাভাবিকভাবে বাজারে চলবে। আর অপ্রচলনযোগ্য ও ত্রুটিপূর্ণ নোটগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে বদলে নেওয়া যাবে।

আগুনে পোড়া বা ঝলসানো নোটের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যাংক শাখাগুলো কোনো টাকা ফেরত দিতে পারবে না। এ ধরনের নোট বদলাতে গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখা অফিসে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

নীতিমালায় আরও সতর্ক করা হয়েছে, যদি কেউ জালিয়াতির উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে বা জাল নোট বদলানোর চেষ্টা করে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।