সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর দুইজনের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তারা হলেন- রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের শান্ত মন্ডল এবং উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের উত্তর পান্ডুল গ্রামের মো. মমিনুল ইসলাম। মিশনে যাওয়ার এক মাসের মাথায় তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শান্ত মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের ছোট ছেলের মৃত্যুর সংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েছে শান্তর মা ও স্বজনরা। স্থানীয়রা জানায়, দুই বছর আগে শান্ত উপজেলার নাজিমখান এলাকার দিলরুবা আক্তার বৃষ্টিকে বিয়ে করেন। এখন তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তারা জানায়, মন্ডলপাড়ার সাবেক সেনা সদস্য নুর ইসলাম মন্ডল ও সাহেরা বেগমের ছোট ছেলে শান্ত মন্ডল। তার বড় ভাই সোহাগ মন্ডলও একজন সেনা সদস্য। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিনি। এরপর চলতি বছরের নভেম্বরে শান্তি মিশনে সুদানে যান। সেখানে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারান।
প্রতিবেশীদের দাবি, শান্তর মরদেহ দেশে এনে দাফন করা হোক। মা সাহেরা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে এক নজর দেখতে চাই। তার মরদেহটা দ্রুত আনার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান বলেন, সুদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য শান্ত মন্ডলের নিহতের ঘটনা শুনেছি। কিন্তু এখনও কোন চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে একই মিশনে নিহত মো. মমিনুল ইসলামের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকাবহ অবস্থা। স্থানীয় লোকজন বাড়িতে এসে ভিড় করছেন। বাড়ির ভেতরে দেখা যায়, নিহত মমিনুলের স্ত্রী আহাজারি করছেন। একটু পর পর অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, দুই কন্যা সন্তানের জনক মমিনুল। তার চাকরির বয়স ১৭ বছর ৫ মাস। দুই মেয়ের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এমন করুণ মৃত্যুতে মমিনুলের স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষাই তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। স্বজনদের দাবি, মমিনুলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করে সরকার এবং এই পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করারও অনুরোধ জানান তারা।
মমিনুলের ছোটবেলার বন্ধু মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে ফোনে কথা হয় মমিনুলের সঙ্গে। অনেক স্বপ্নের কথা বলে সে। দেশে ফিরে কি কি করবে সেসব জানায়। কিন্তু নিষ্ঠুর পৃথিবী তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিলো।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 






















