বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) মুক্তমঞ্চে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চশব্দে গান-বাজনা চলতে থাকায় এর প্রতিবাদ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদকারী আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে ‘দুষ্কৃতিকারী’ ও ‘মবকারি’ আখ্যা দিয়ে গভীররাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ও ববিচাসের নেতৃবৃন্দ। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ১২ টার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে “চারুকলা সংসদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান” চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২:০০ টার পরেও উচ্চস্বরে গান বাজানো অব্যাহত থাকায় শেরে বাংলা হল ও বিজয় ২৪ হলের প্রায় ৩৫-৪০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানাতে এবং অনুষ্ঠান বন্ধ করতে মুক্তমঞ্চের দিকে যান। যদিও তাদের মধ্যে ২-১ জনকে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানা যায়।
মুক্তমঞ্চের কাছে পৌঁছানোর পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন মুক্তমঞ্ছের মাইকে ঘোষণা দেয় ” আপনারা দেখছেন কতিপয় দুষ্কৃতকারী শিক্ষার্থী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পারিচয় দিয়ে অনুষ্ঠানে বাঁধা দিতে আসছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচর্চা হবে, এখানে কারো বাঁধা মেনে নেয়া হবে না।” ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতির এমন বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা যায়। সাথে ছাত্রদলের ভোটার অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত আবাসিক শিক্ষার্থীদের ‘মবকারি,’ ‘দুষ্কৃতিকারী,’ এবং ‘জামায়াত শিবির’ বলে আখ্যায়িত করেন।
এরপরই ছাত্রদল ও চারুকলা সংসদ ক্যাম্পাসে “মবের বিরুদ্ধে” স্লোগান দেয়।
শিক্ষার্থীদের ‘মবকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন ও মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে টিএসসির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল শেষে ছাত্রদল নেতা মোশাররফ, মিজানসহ কয়েকজন নেতাকর্মী হলে এসে প্রতিবাদ করতে যাওয়া কয়েক জন আবাসিক শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে হুমকি-ধামকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াহিদুর রহমান বলেন,মধ্যরাত পর্যন্ত কনসার্ট চলতে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রথমে প্রতিবাদ জানাতে যান। তিনি বলেন, তারা স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।তবে, সেই সময় ছাত্রদলের উস্কানিতে সেখানে উপস্থিত দুটি গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। পরবর্তীতে আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে গেলে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই শিক্ষার্থীদের ‘মবসৃষ্টিকারী’ আখ্যা দিয়ে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “এখানে ববিচাস-এর প্রোগ্রাম ছিল, আমরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলাম। হল থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী এসে সমস্যা তৈরি করে। আর তারা কারা ছিল ক্যাম্পাসের সবাই জানে।” শিক্ষার্থীদের ‘মব সৃষ্টিকারী’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা মিছিল করিনি, তবে তাদের সাথে ছিলাম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, “ঘটনা আমি শোনা মাত্রাই কল করি আধাঘন্টার মধ্যে কনসার্ট তারা বন্ধ করে দেয়। আর যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এটা কাম্য নয়। আমি বিষয়ে কথা বলবো তাদের সাথে।”
ববি প্রতিনিধি 






















