ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি প্রাইভেটকারে পরীক্ষা নিয়ে বাস-ট্রাকের লাইসেন্স দেন আবু পলাশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একটি একটি পূরণ করছেন: মঈন খান নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৪০৩ পল্লবীতে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ব্রাহ্মণপাড়া​ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে স্বর্ণের চেইন চুরি, নারী চোরচক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার মুরাদনগরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ‘পাশে আছি’, বালেন্দ্র শাহকে ফোন মোদির, দিলেন সাহায্যের আশ্বাস মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা আত্রাইয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

একাধিক ছাত্রীকে যৌ-ন হয় রানির অভিযোগ, কলেজশিক্ষক বহিষ্কার

ঝিনাইদহে তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগে এক কলেজশিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলার এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম (৪৯)। তিনি সদর এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর জরুরি সভা আহ্বান করে শিক্ষককে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম একাধিক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও মেসেজ প্রদানের ঘটনাটি এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জানাজানি হয়। পরে কলেজের একাধিক ছাত্রী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি নজরুল স্যারকে অনেক সম্মান করতাম। তিনি আমাদের শিক্ষক। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে নানাভাবে আপত্তিকর মেসেজ দিতেন। রিপ্লাই না করলে, সরাসরি দেখা হলে তিনি নানাভাবে আপত্তিকর কথা বলতেন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি গুরুতর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা তার শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আমরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি। গুরুতর অভিযোগ হওয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মোবাইল ফোনটি হ্যাক হয়েছে। যে কারণে এরকম মেসেজ ছাত্রীদের কাছে চলে গিয়েছে। দীর্ঘ ৪/৫ মাস ধরে মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে থাকে কিভাবে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। কলেজ অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগের কপি ইউএনও অফিসে জমা দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্রই আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হবে জানান কলেজের অধ্যক্ষ।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি

একাধিক ছাত্রীকে যৌ-ন হয় রানির অভিযোগ, কলেজশিক্ষক বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৮:৩৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ঝিনাইদহে তিন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগে এক কলেজশিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সদর উপজেলার এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্রীসহ অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নজরুল ইসলাম (৪৯)। তিনি সদর এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর জরুরি সভা আহ্বান করে শিক্ষককে বহিষ্কার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম একাধিক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর মেসেজ দিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও মেসেজ প্রদানের ঘটনাটি এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জানাজানি হয়। পরে কলেজের একাধিক ছাত্রী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি নজরুল স্যারকে অনেক সম্মান করতাম। তিনি আমাদের শিক্ষক। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোনে নানাভাবে আপত্তিকর মেসেজ দিতেন। রিপ্লাই না করলে, সরাসরি দেখা হলে তিনি নানাভাবে আপত্তিকর কথা বলতেন। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি গুরুতর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা তার শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওলিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আমরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি। গুরুতর অভিযোগ হওয়ায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মোবাইল ফোনটি হ্যাক হয়েছে। যে কারণে এরকম মেসেজ ছাত্রীদের কাছে চলে গিয়েছে। দীর্ঘ ৪/৫ মাস ধরে মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে থাকে কিভাবে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। কলেজ অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগের কপি ইউএনও অফিসে জমা দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়া মাত্রই আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ঝিনাইদহ জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকেও অবহিত করা হবে জানান কলেজের অধ্যক্ষ।