বরগুনার আমতলীতে ধান কাটতে বাঁধা, চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম। বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে ধান কাঁটতে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে । ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান। এর মধ্যে কদ ভানু ও নুর নাহার এ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গেছে, হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়ার মন্নাফ হাওলাদার ও জামাল গাজীর মধ্যে ১৫ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১১ নভেম্বর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষই আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার একটিতে মন্নাফ হাওলাদার ও তার ১১ স্বজন গত ২৪ নভেম্বর থেকে জেল হাজতে রয়েছেন।
এ সুযোগে শুক্রবার বিকেলে জামাল গাজীর ভাই ও হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল বিরোধীয় জমির ধান কাটতে যায়। তখন মন্নাফ হাওলাদারের বাড়ির নারীরা বাঁধা দিলে হামলাকারীরা কদভানু (৪৫), শেফালী (৪০), নুর নাহার (৩৫), মমতাজ (৭০) ও সাদ্দাম হোসেনকে (৩০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
ভুক্তভোগীরা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পরপরই আরিফ গাজীর লোকজন আহত কদভানুর ঘরে আগুন দেয়। এছাড়া হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয় এবং শহীদুল ইসলাম নামের একজনকে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসী দলটি ধান কাটার মেশিন নিয়ে জমিতে ঢুকে ধান কাটতে শুরু করে। নারীরা বাঁধা দিলে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ গাজী বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, পাঁচজনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে জাকারিয়া, সগির ও লিপি বেগমকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোর্টার 




















