ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা

ঘরোয়া হোটেলের খিচুড়িতে পাওয়া গেল পেরেক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ির মধ্যে লোহার পেরেক পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন মার-আ-নূর ইসলাম সভিন নামে এক ক্রেতা।

সভিন জানিয়েছেন, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি ও একজন বন্ধু হোটেলে খিচুড়ি খেতে যান। ২৯০ টাকা করে দুটি খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ি অর্ডার করার পর কয়েক লোকমা খাওয়ার পর তিনি খাবারের মধ্যে লোহার পেরেক দেখতে পান।

সভিন বলেন, একটু দেরি হলে গলায় ঢুকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমন ঘটনা দেশের নামিদামী রেস্টুরেন্টেও অকল্পনীয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি ওয়েটারকে জানালে ভিডিও করতে বাধা দেয় এবং বলেছেন, এ রকম দুর্ঘটনা হতেই পারে, বাড়াবাড়ি করবেন না। তারা খাবার বদলাতে চেয়েছিল এবং বারবার বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ঘরোয়া হোটেলের ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা লাকড়ির চুলায় রান্না করি। তাই দুই-একটা পেরেক চলে আসতে পারে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
এদিকে স্থানীয়রা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম সবুজ জানান, ওয়েবসাইটে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের মাধ্যমে মালিকপক্ষকে ডেকে শোনা হবে। প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘরোয়া হোটেলের স্বত্বাধিকারীর ছেলে আরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, খাবারের মধ্যে পেরেক থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খুঁজে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তিনি সমঝোতার ইঙ্গিতও দেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুধু ক্ষমা বা বিল মওকুফের মাধ্যমে দায়মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন—নামি রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোরভাবে পরীক্ষা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

ঘরোয়া হোটেলের খিচুড়িতে পাওয়া গেল পেরেক

আপডেট সময় ০৭:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ির মধ্যে লোহার পেরেক পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন মার-আ-নূর ইসলাম সভিন নামে এক ক্রেতা।

সভিন জানিয়েছেন, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি ও একজন বন্ধু হোটেলে খিচুড়ি খেতে যান। ২৯০ টাকা করে দুটি খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ি অর্ডার করার পর কয়েক লোকমা খাওয়ার পর তিনি খাবারের মধ্যে লোহার পেরেক দেখতে পান।

সভিন বলেন, একটু দেরি হলে গলায় ঢুকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমন ঘটনা দেশের নামিদামী রেস্টুরেন্টেও অকল্পনীয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি ওয়েটারকে জানালে ভিডিও করতে বাধা দেয় এবং বলেছেন, এ রকম দুর্ঘটনা হতেই পারে, বাড়াবাড়ি করবেন না। তারা খাবার বদলাতে চেয়েছিল এবং বারবার বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ঘরোয়া হোটেলের ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা লাকড়ির চুলায় রান্না করি। তাই দুই-একটা পেরেক চলে আসতে পারে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
এদিকে স্থানীয়রা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম সবুজ জানান, ওয়েবসাইটে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের মাধ্যমে মালিকপক্ষকে ডেকে শোনা হবে। প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘরোয়া হোটেলের স্বত্বাধিকারীর ছেলে আরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, খাবারের মধ্যে পেরেক থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খুঁজে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তিনি সমঝোতার ইঙ্গিতও দেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুধু ক্ষমা বা বিল মওকুফের মাধ্যমে দায়মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন—নামি রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোরভাবে পরীক্ষা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।