রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ির মধ্যে লোহার পেরেক পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন মার-আ-নূর ইসলাম সভিন নামে এক ক্রেতা।
সভিন জানিয়েছেন, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি ও একজন বন্ধু হোটেলে খিচুড়ি খেতে যান। ২৯০ টাকা করে দুটি খাসির মাংসের ভুনা খিচুড়ি অর্ডার করার পর কয়েক লোকমা খাওয়ার পর তিনি খাবারের মধ্যে লোহার পেরেক দেখতে পান।
সভিন বলেন, একটু দেরি হলে গলায় ঢুকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমন ঘটনা দেশের নামিদামী রেস্টুরেন্টেও অকল্পনীয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি ওয়েটারকে জানালে ভিডিও করতে বাধা দেয় এবং বলেছেন, এ রকম দুর্ঘটনা হতেই পারে, বাড়াবাড়ি করবেন না। তারা খাবার বদলাতে চেয়েছিল এবং বারবার বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
ঘরোয়া হোটেলের ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা লাকড়ির চুলায় রান্না করি। তাই দুই-একটা পেরেক চলে আসতে পারে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
এদিকে স্থানীয়রা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম সবুজ জানান, ওয়েবসাইটে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের মাধ্যমে মালিকপক্ষকে ডেকে শোনা হবে। প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘরোয়া হোটেলের স্বত্বাধিকারীর ছেলে আরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, খাবারের মধ্যে পেরেক থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি খুঁজে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তিনি সমঝোতার ইঙ্গিতও দেন।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুধু ক্ষমা বা বিল মওকুফের মাধ্যমে দায়মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন—নামি রেস্টুরেন্টগুলোকে কঠোরভাবে পরীক্ষা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















