ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত কিছু ছবি, হাজারো স্মৃতি—আমার জুলাই পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব চার বছরেও থেমে আছে বিচার-ভোলায় নূরে আলমকে স্মরণে বিএনপি-ছাত্রদলের শ্রদ্ধা ও বিচার দাবি ভারত থেকে ২ হাজার ৯০০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি ববিসাস’র আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আলোকচিত্র প্রদর্শনী পাবনায় ‘মদ্যপ অবস্থায়’ ২ রাশিয়ান নাগরিকের মারামারি, নিহত ১

বরগুনায় হানাদারমুক্ত দিবস আজ

আজ ৩ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে বরগুনা জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্থানী সেনা ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণ করে ও পালিয়ে যায়। বরগুনার মাটিতে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার মুক্তির মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা।
বরগুনার মুক্তিকামী তরুনেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে রনাঙ্গনে। যার যেমন সাধ্য পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে। প্রায় বিনা বাঁধায় পাক বাহিনী সেনারা বরগুনা শহর দখলে নিয়ে নেয়। চলে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা বর্বর পাক সেনারা জেলখানায় ৭৬ জনকেগুলি করে হত্যা করে। এদিকে নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে ছিল তৎকালীন বরগুনা মহাকুমা। ওদিকে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় ফিরে আসেন। নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ জনের একটি দল নৌকা যোগে বরগুনা এসে অবস্থান নেন। ফজরের আযানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযানের সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে গুলি শুরু করেন। এতে আতংকিত পাক বাহীনির সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় গুলি করতে করতে জেলখানায় পৌঁছুলে জেলখানায় অবস্থানরত পাক সমর্থক পুলিশ ও তাদের দোসর রাজাকারদের আত্মসমর্পন করে। হানাদার মুক্ত হয় বরগুনা। বরগুনা বিজয়ী এমন কয়েকজনর ইতিহাসের স্বাক্ষি বীর সেনানী জানান সেই স্মৃতিময় সময়ের বীরত্বকাব্য।
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে ব্যর্থতা, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ যোদ্ধাদের।
মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতির যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব মুক্তিকামী যোদ্ধারা, তাঁেদর কার্যত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র উন্নতির শিখর পৌঁছবে স্বপ্নের সোনার বাংলা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত

বরগুনায় হানাদারমুক্ত দিবস আজ

আপডেট সময় ০৩:২৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ৩ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে বরগুনা জেলা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্থানী সেনা ও তাদের দোসররা আত্মসমর্পণ করে ও পালিয়ে যায়। বরগুনার মাটিতে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতার মুক্তির মন্ত্রে দিক্ষিত হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা।
বরগুনার মুক্তিকামী তরুনেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে রনাঙ্গনে। যার যেমন সাধ্য পাক সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে শুরু করে। প্রায় বিনা বাঁধায় পাক বাহিনী সেনারা বরগুনা শহর দখলে নিয়ে নেয়। চলে পৈশাচিক নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা বর্বর পাক সেনারা জেলখানায় ৭৬ জনকেগুলি করে হত্যা করে। এদিকে নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে ছিল তৎকালীন বরগুনা মহাকুমা। ওদিকে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় ফিরে আসেন। নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীনে আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের ২১ জনের একটি দল নৌকা যোগে বরগুনা এসে অবস্থান নেন। ফজরের আযানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে আযানের সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে গুলি শুরু করেন। এতে আতংকিত পাক বাহীনির সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় গুলি করতে করতে জেলখানায় পৌঁছুলে জেলখানায় অবস্থানরত পাক সমর্থক পুলিশ ও তাদের দোসর রাজাকারদের আত্মসমর্পন করে। হানাদার মুক্ত হয় বরগুনা। বরগুনা বিজয়ী এমন কয়েকজনর ইতিহাসের স্বাক্ষি বীর সেনানী জানান সেই স্মৃতিময় সময়ের বীরত্বকাব্য।
স্বাধীনতার ৫০ বছরেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তিতে ব্যর্থতা, ভূয়াদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় স্থান পাওয়া ও রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ যোদ্ধাদের।
মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতির যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব মুক্তিকামী যোদ্ধারা, তাঁেদর কার্যত চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র উন্নতির শিখর পৌঁছবে স্বপ্নের সোনার বাংলা এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।