ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে গণপূর্তের ৩ প্রকৌশলীকে রাজউকে ‘অথরাইজড অফিসার’ পদে নিয়োগ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার পদে যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন সহকারী প্রকৌশলীকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তাুকর্মচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই পদায়ন রাজউকের নিজস্ব বিধিমালা পরিপন্থী এবং এতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজউকের যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা ও অনুমোদনুসংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য রাজউকের অথরাইজড অফিসার পদে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়া বাধ্যতামূলক। রাজউকের নিয়োগ বিধিমালার ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে-অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর), অথবা সহকারী প্রধান স্থপতি/উপস্থপতি/উপনগর পরিকল্পনাবিদ হতে হবে। এর নিচে কেউ এ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।
কিন্তু যে তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে— রকিবুল হাসান, মেহেদী রায়হান নাদিম ও হাসানুর রেজা। তাঁরা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী।
রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলীকে এ দায়িত্ব দেওয়া শুধু বিধিবহির্ভূতই নয়, রাজউকের চলমান কাজ ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে রাজউকে ১১ জন অথরাইজড অফিসার আছেন, যাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাদের অকার্যকর করে রেখে বাইরে থেকে কর্মকর্তা আনা হচ্ছে—যা ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন একাধিক কর্মকর্তা।
রাজউকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “২০১৯ সালেও গণপূর্তের দুই সহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে পাঠানো হয়েছিল। যোগ্যতার অভাবে তারা যোগ দিতে পারেননি, পরে আদেশ বাতিল করা হয়। অথচ আবারও একই ভুল কেন করা হলো?”
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসমিন ফারহানা মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের এক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা গণপূর্তে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, “ভারপ্রাপ্ত পদ কোনোভাবেই প্রকৃত নির্বাহী প্রকৌশলীর জায়গা পূরণ করে না; আর রাজউকের বিধিমালায় ‘ভারপ্রাপ্ত’ শব্দটির কোনো স্থান নেই। বিধি যেখানে যা বলে, তা মানতেই হবে।”
রাজউকের বোর্ড সদস্য (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিনের ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমি দেশের বাইরে আছি। সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানি না। দেশে ফিরে আদেশ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
রাজউক কর্মকর্তাদের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজউকের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই তারা বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই অথরাইজড অফিসার নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে গণপূর্তের ৩ প্রকৌশলীকে রাজউকে ‘অথরাইজড অফিসার’ পদে নিয়োগ

আপডেট সময় ০২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার পদে যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন সহকারী প্রকৌশলীকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তাুকর্মচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই পদায়ন রাজউকের নিজস্ব বিধিমালা পরিপন্থী এবং এতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রাজউকের যোগ্য কর্মকর্তাদের প্রতি চরম অবমাননা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা ও অনুমোদনুসংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য রাজউকের অথরাইজড অফিসার পদে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়া বাধ্যতামূলক। রাজউকের নিয়োগ বিধিমালার ১৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে-অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পঞ্চম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর), অথবা সহকারী প্রধান স্থপতি/উপস্থপতি/উপনগর পরিকল্পনাবিদ হতে হবে। এর নিচে কেউ এ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।
কিন্তু যে তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে— রকিবুল হাসান, মেহেদী রায়হান নাদিম ও হাসানুর রেজা। তাঁরা সবাই ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী।
রাজউকের কর্মকর্তারা বলছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলীকে এ দায়িত্ব দেওয়া শুধু বিধিবহির্ভূতই নয়, রাজউকের চলমান কাজ ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে রাজউকে ১১ জন অথরাইজড অফিসার আছেন, যাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাদের অকার্যকর করে রেখে বাইরে থেকে কর্মকর্তা আনা হচ্ছে—যা ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন একাধিক কর্মকর্তা।
রাজউকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “২০১৯ সালেও গণপূর্তের দুই সহকারী প্রকৌশলীকে একইভাবে পাঠানো হয়েছিল। যোগ্যতার অভাবে তারা যোগ দিতে পারেননি, পরে আদেশ বাতিল করা হয়। অথচ আবারও একই ভুল কেন করা হলো?”
এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসমিন ফারহানা মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের এক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা গণপূর্তে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে রাজউকের কর্মকর্তাদের মতে, “ভারপ্রাপ্ত পদ কোনোভাবেই প্রকৃত নির্বাহী প্রকৌশলীর জায়গা পূরণ করে না; আর রাজউকের বিধিমালায় ‘ভারপ্রাপ্ত’ শব্দটির কোনো স্থান নেই। বিধি যেখানে যা বলে, তা মানতেই হবে।”
রাজউকের বোর্ড সদস্য (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিনের ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমি দেশের বাইরে আছি। সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানি না। দেশে ফিরে আদেশ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
রাজউক কর্মকর্তাদের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজউকের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই তারা বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই অথরাইজড অফিসার নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।