ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় যোগদানের পর থেকেই সততা, সাহসিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান (পিপিএম)। অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ নিরাপত্তার অঞ্চল হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, উচ্চ পদস্থ কূটনীতিকদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই জনপদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা সবসময়ই পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ওসি হাফিজুর রহমান অদম্য সাহস ও অসাধারণ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে গুলশান থানাকে একটি আদর্শ থানা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “গুলশান ডিএমপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা। এখানে প্রতিদিন বহু দেশি-বিদেশি নাগরিক চলাফেরা করেন। তাই কোনো ধরনের অপরাধ বা অনিয়ম বরদাস্ত করার সুযোগ নেই।” যোগদানের পর থেকেই তিনি থানা এলাকার অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, ছিনতাইরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, ইভটিজিং বন্ধ ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
তার নেতৃত্বে গুলশান থানার অধীনস্ত কর্মকর্তারা আগের তুলনায় আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক আচরণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বললেও একই চিত্র উঠে আসে। তাদের ভাষায়, “দেশের প্রতিটি থানায় যদি এমন একজন সৎ ও সাহসী ওসি থাকতো, তাহলে পুলিশের প্রতি মানুষের নেতিবাচক ধারণা অনেকটাই বদলে যেত।”
দালালমুক্ত থানা—সবার জন্য উন্মুক্ত সেবা : ওসি হাফিজুর রহমান যোগদানের পরই প্রথম কাজ হিসেবে থানাটিকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ঘোষণা করেন। বিভিন্ন থানায় দীর্ঘদিন ধরে দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ছিল। কিন্তু গুলশানে তার কঠোর অবস্থানের কারণে থানার ভেতরে-বাইরে দালালচক্র কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন— থানায় জিডি বা মামলা করতে কোনো টাকা দিতে হয় না, এবং যদি কেউ অর্থ দাবি করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সচেতনতা সৃষ্টির ফলে থানার প্রতি স্থানীয়দের আস্থা বেড়ে গেছে বহু গুণ। অভিযোগকারীরা জানান, থানায় গেলে তাদের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করা হয় এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে গুলশান থানা এখন দেশের অন্যতম সেবাধর্মী থানার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
গুলশানের অপরাধচক্রে বড় ধরনের আঘাত : ওসি হাফিজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর গুলশান এলাকায় সংঘটিত অপরাধের ধরনে ব্যাপক পার্থক্য এসেছে। তার নেতৃত্বে একের পর এক চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করা একটি কুখ্যাত গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে রেখেছিল। অবশেষে ওসি হাফিজুর রহমানের দক্ষতায় সেই গ্যাংয়ের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), ইব্রাহীম হোসেন (২৪), মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২), সাদমান সাদাব (২১) ও মো. আমিনুল ইসলাম (১৩)ুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযান গুলশান এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
এ ছাড়াও বহু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত সেলিম প্রধান—যিনি একসময় ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ এবং পরবর্তী সময়ে কুখ্যাত মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত—তাকেও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করতে সক্ষম হয় গুলশান থানা। এ ঘটনা পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা নতুনভাবে তৈরি করে।
ওসি হাফিজুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, গুলশান এলাকার সব অবৈধ স্পা ও সিসা লাউঞ্জ স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা হবে। এ লক্ষ্যেই নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অনেক অবৈধ ব্যবসা আগেই বন্ধ হয়েছে। এ পদক্ষেপকে নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযান-একটার পর একটা বড় সাফল্য : গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মাদক ব্যবসা। এখানে অভিজাত ফ্ল্যাট, সিসা লাউঞ্জ, স্পা সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক সময় গোপনে মাদকের লেনদেন চলত। ওসি হাফিজুর দায়িত্ব নেওয়ার পর সে প্রবণতা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে।
তিনি প্রতিদিন গড়ে বেশ কয়েকটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ‘মাদকসম্রাট’ ও বড় মাপের ডিলারকে আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক তরুণকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, “গুলশানে মাদক এখন আগের মতো সহজলভ্য নয়—এটা ওসি সাহেবের কঠোর অবস্থানেরই ফল।”
২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নিরাপত্তা সংকটে সাহসী নেতৃত্ব : গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুরো দেশের মতো গুলশানেও এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। অনেক বাসিন্দা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে থাকেন। ঠিক সেই সময় ওসি হাফিজুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে না দিয়ে অল্প সময়েই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন তিনি।
এলাকার মানুষ বলেন, “সেই সময়ে তিনি যেন এক শান্তির দূত হয়ে আসেন। প্রতিদিন ডিউটির সময় তাকে আমরা এলাকায় টহল দিতে দেখতাম। এতে মানুষের ভয়-আতঙ্ক দূর হয়ে যায়।”
উত্তরা পশ্চিম থেকে গুলশান—সাফল্যের একই ধারাবাহিকতা : গুলশান থানায় যোগদানের আগে ওসি হাফিজুর রহমান দায়িত্ব পালন করেছেন ডিএমপি উত্তরা জোনের আওতাধীন উত্তরা পশ্চিম থানায়। সেখানে যোগদানের পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি ডিএমপির মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম এনডিসির হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়িত্ব থাকাকালে তিনি ছয়বার ডিএমপির শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন-যা একজন কর্মকর্তার জন্য বিরল অর্জন।
গুলশান থানায় যোগদানের পরেও তিনি একই ধারাবাহিকতায় গুলশান জোনে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন, যা তার দক্ষতা, সততা ও কর্মপ্রতিশ্রুতির প্রমাণ।
মানুষের আস্থার জায়গায় ওসি হাফিজুর : থানায় আসা সাধারণ মানুষদের সঙ্গে আলাপ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়—ওসি হাফিজুর রহমান শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি একজন মানবিক পুলিশ অফিসারও। থানায় কেউ মামলা করতে আসলে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয় না, বরং দ্রুত আইনি সাহায্য দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনেকের মতে, “তিনি থানাকে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করেছেন। থানায় গিয়ে মনে হয়—এখানে আমাদের কথা শোনা হবে।” স্থানীয়রা আরও বলেন, “ওসি হাফিজুর রহমান স্যার গুলশানে দীর্ঘদিন থাকুক। তিনি আমাদের গর্ব।”
মিডিয়া ও কমিউনিটির সঙ্গে সুসম্পর্ক : ওসি হাফিজুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মিডিয়া ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। সাংবাদিকরা বলেন, “তিনি সবসময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তবে আইনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় গোপনীয়তাও বজায় রাখেন।”
কমিউনিটির সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সচেতনতা কার্যক্রম, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ সভা—এসবই তাকে একজন আধুনিক, যুগোপযোগী ওসি হিসেবে তুলে ধরে।
ডিএমপির গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান (পিপিএম) বর্তমানে শুধু একটি থানা এলাকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—এটাই নয়, তিনি এখন গুলশানবাসীর নিকট নিরাপত্তার প্রতীক, সততার উদাহরণ এবং সাহসের প্রতিচ্ছবি। সকল ধরনের অপরাধ দমনে তার কঠোর অবস্থান, দালালমুক্ত থানা প্রতিষ্ঠা, জনগণের প্রতি মানবিক আচরণ এবং ধারাবাহিক সাফল্য তাকে দেশের সেরা পুলিশ অফিসারদের কাতারে স্থান দিয়েছে।
গুলশান থানায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন—একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মটনিষ্ঠ অফিসার চাইলে একটি থানাকে কীভাবে মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে পারেন। গুলশানবাসীর ভাষায়- ওসি হাফিজুর রহমান গুলশানের শান্তির দূত।
সংবাদ শিরোনাম ::
গুলশানের নিরাপত্তায় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন ডিএমপির শ্রেষ্ঠ ওসি হাফিজুর রহমান
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৮:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
- ৫৮১ বার পড়া হয়েছে
Tag :










