নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত একটি মামলায় শপথ নিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে বাদী ও আসামিসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৮ জুলাই বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের মো. মহিবুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন বাদী হাফেজা মোসা. সুমাইয়া আক্তার মিম (২১)। মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাদের মধ্যে বাদী নিজেও রয়েছেন।
সোমবার আদালতে বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে বাদী সুমাইয়া হঠাৎ বলেন— “আমরা আপস করেছি। মামলার ঘটনা সত্য ছিল না। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলা করা হয়েছিল।”
এতে আদালত বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণ, শপথ নিয়ে পূর্বে দেওয়া সাক্ষ্যে বাদীসহ অপর চারজন আসামিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিশ্চিত করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি রনজুয়ারা সিপু বলেন,
“বাদী একজন কুরআনে হাফেজা। তাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু শপথ করে আদালতে মিথ্যা বলার অপরাধ গুরুতর। এ ঘটনায় বিচারক বাদীসহ তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
তিনি জানান, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের অপরাধে বাদী সুমাইয়া আক্তার মিম, তার নানা মো. শাহ আলম সিকদার এবং আসামি মো. মহিবুল্লাহকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে আসামি মহিবুল্লাহর জামিনও বাতিল করা হয়েছে।
পিপি আরও বলেন, “এ ঘটনায় একটি বার্তা যাবে— মিথ্যা মামলা ও সাক্ষ্য দিলে কেউ রেহাই পাবে না। এতে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
এ ঘটনায় আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারি আসলাম জানান, “মহিবুল্লাহ এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না। যদি আবার আমার কাছে আসে তাহলে পরবর্তীতে আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করব।”
মোঃ আব্দুল মোতালেব, স্টাফ রিপোর্টার , বরগুনা 





















