সাভারে ডিইপিজেড এলাকায় তিনটি বিদেশি পোশাক কারখানা লে অফ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বকেয়া বেতনের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে শ্রমিক পথচারীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
শিল্প পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন ধরে ডিইপিজেড এলাকার বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টর এক্সপোটিং লিমিটেড, সাউথ চায়না ও গোল্ড টেক্স কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। আজ সোমবার সকালে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু করেই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। শিল্প পুলিশ লাঠিপেটাসহ জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরবর্তীতে শ্রমিকরা আবারও জড়ো হয়ে ডিইপিজেড গেটে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাদের অবরোধের কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দমাতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ, জলকামান ব্যবহার, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে আবার সংঘর্ষ বাধে। শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, গত তিন মাস ধরে অ্যাক্টর এক্সপোটিং লিমিটেড, সাউথ চায়না ও গোল্ড টেক্স কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধ করছে না। বেতন না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন। এই অবস্থায় সকালে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ প্রথমে তাদের বাধা দেয় এবং পরে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরাতে গিয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আগে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জলকামান ব্যাবহার করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শরীফুল ইসলাম বলেন, সাউথ চায়না, গোল্ডটেক্স লিমিটেড ও অ্যাক্টর স্পোর্টিং লিমিটেড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি কারখানার শ্রমিকদের আড়াই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলো চালুর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে নির্দিষ্ট সময় পর সরকারি নিয়ম অনুসারে কারখানা বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
সাভার (ঢাকা) 





















