ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নান্দাইলে ‘হাইত’ উৎসবে মাছ শিকারির ঢল

নান্দাইল উপজেলায় খাল-বিলের পানি কমতে না কমতেই শুরু হয়ে গেছে ‘হাইত’ উৎসব। বৃহস্পতিবার বলদা’র বিলে মাছ ধরার এই উৎসব হয়েছে। স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা শৌখিন মৎস্য শিকারীদের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইতে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রতিবছরে মতো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার অন্যান্য বিলেও পর্যায়ক্রমে এই উৎসব হবে।

কার্তিক মাসে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিলে দল বেঁধে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় ‘হাইত’ বলা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, বিলপাড়ের লোকজন একত্রে বসে কোন বিলে কোন দিন হাইত হবে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পরে বিভিন্ন হাট-বাজারে মাইকিং করে বা ঢোল পিটিয়ে উৎসবের তারিখ লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। লোকজনকে হাইতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।

প্রচার শুনে দূর-দুরান্তের মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে বিলের দিকে রওনা হন। অনেকেই শুকনা খাবার নিয়ে হাইত উৎসবের আগের দিন বিল পাড়ে এসে অবস্থান নেন। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই সমস্বরে চিৎকার করতে করেতে মাছ ধরার জন্য বিলে নেমে পড়েন। মাত্র দুই ঘণ্টা সময় চলে মাছ শিকার। অনেকেই একাধিক মাছ শিকার করতে পারেন, আবার কেউ কেউ ধরতে পারেন না। কিন্তু যারা ধরতে পারেন না তাদের মধ্যেও আনন্দের কমতি থাকে না।

বৃহস্পতিবারও বলদা বিলেও হাজারো শৌখিন মৎস্য শিকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইত উৎসবে মেতে ওঠেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, বহু বছর আগে থেকে হেমন্তকালে খাল-বিলে ‘হাইত উৎসব’ হয়ে আসছে। গ্রামের লোকজন এখনো হাইতের আয়োজন করেন। বৃষ্টিবিহীন এই সময়টিতে খাল-বিলের পানি কমতে থাকে, আর তখনই হাইতের আয়োজন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষ টাক জাল, ঠেলাজালি ও পলো নিয়ে বিলে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। শিশু-কিশোরদেরও এই উৎসবে অংশ নিতে দেখা যায়।

বলদা বিলপাড়ের বাসিন্দারা জালাল উদ্দিনের ভাষ্য, অনেক জায়গায় জমির মালিকরা বিলে মৎস্য খামার করছেন। এতে বিলের পরিধি ছোট হয়ে যাওয়ায় হাইত হচ্ছে না।

দাতারাটিয়া গ্রামের মৎস্য শিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন তিনি, বাড়িতে এসেই হাইতের খবর পেয়ে মাছ শিকারে চলে এসেছেন। কেমন মাছ পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ পেলাম কি পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, একত্রে মাছ ধরার আনন্দটাই আসল।’

নান্দাইল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনিন জানান, জলাশয়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানির আগের সেই প্রবাহ না থাকায় অন্য জলাশয় থেকে বিভিন্নজাতের মাছ বিলে আসতে পারছে না। তাছাড়া জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বিলে আগের মতো মাছ না পাওয়া গেলেও এই উৎসব চলতে থাকবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

নান্দাইলে ‘হাইত’ উৎসবে মাছ শিকারির ঢল

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

নান্দাইল উপজেলায় খাল-বিলের পানি কমতে না কমতেই শুরু হয়ে গেছে ‘হাইত’ উৎসব। বৃহস্পতিবার বলদা’র বিলে মাছ ধরার এই উৎসব হয়েছে। স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা শৌখিন মৎস্য শিকারীদের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইতে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রতিবছরে মতো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার অন্যান্য বিলেও পর্যায়ক্রমে এই উৎসব হবে।

কার্তিক মাসে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিলে দল বেঁধে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় ‘হাইত’ বলা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, বিলপাড়ের লোকজন একত্রে বসে কোন বিলে কোন দিন হাইত হবে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পরে বিভিন্ন হাট-বাজারে মাইকিং করে বা ঢোল পিটিয়ে উৎসবের তারিখ লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। লোকজনকে হাইতে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।

প্রচার শুনে দূর-দুরান্তের মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে বিলের দিকে রওনা হন। অনেকেই শুকনা খাবার নিয়ে হাইত উৎসবের আগের দিন বিল পাড়ে এসে অবস্থান নেন। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই সমস্বরে চিৎকার করতে করেতে মাছ ধরার জন্য বিলে নেমে পড়েন। মাত্র দুই ঘণ্টা সময় চলে মাছ শিকার। অনেকেই একাধিক মাছ শিকার করতে পারেন, আবার কেউ কেউ ধরতে পারেন না। কিন্তু যারা ধরতে পারেন না তাদের মধ্যেও আনন্দের কমতি থাকে না।

বৃহস্পতিবারও বলদা বিলেও হাজারো শৌখিন মৎস্য শিকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাইত উৎসবে মেতে ওঠেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, বহু বছর আগে থেকে হেমন্তকালে খাল-বিলে ‘হাইত উৎসব’ হয়ে আসছে। গ্রামের লোকজন এখনো হাইতের আয়োজন করেন। বৃষ্টিবিহীন এই সময়টিতে খাল-বিলের পানি কমতে থাকে, আর তখনই হাইতের আয়োজন করা হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষ টাক জাল, ঠেলাজালি ও পলো নিয়ে বিলে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। শিশু-কিশোরদেরও এই উৎসবে অংশ নিতে দেখা যায়।

বলদা বিলপাড়ের বাসিন্দারা জালাল উদ্দিনের ভাষ্য, অনেক জায়গায় জমির মালিকরা বিলে মৎস্য খামার করছেন। এতে বিলের পরিধি ছোট হয়ে যাওয়ায় হাইত হচ্ছে না।

দাতারাটিয়া গ্রামের মৎস্য শিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন তিনি, বাড়িতে এসেই হাইতের খবর পেয়ে মাছ শিকারে চলে এসেছেন। কেমন মাছ পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছ পেলাম কি পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, একত্রে মাছ ধরার আনন্দটাই আসল।’

নান্দাইল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনিন জানান, জলাশয়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানির আগের সেই প্রবাহ না থাকায় অন্য জলাশয় থেকে বিভিন্নজাতের মাছ বিলে আসতে পারছে না। তাছাড়া জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বিলে আগের মতো মাছ না পাওয়া গেলেও এই উৎসব চলতে থাকবে।