ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ধর্মপাশা- গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনর্নির্মাণের দাবিতে দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ পালিত

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত প্রধান সড়ক দ্রুত ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের দাবিতে সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) ধর্মপাশা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ আয়োজিত এ কর্মসূচি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। এতে হাজারো সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকরা অংশ নেন। ‘‘আমাদের দাবি একটাই—ধর্মপাশায় রাস্তা চাই’’—এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কর্মসূচির সঞ্চালনায় ছিলেন নাজমুল ইসলাম তপু, এবং সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোল্লা মাহমুদ হাসান। বক্তব্য রাখেন আজহারুল ইসলাম দিপ্ত, সামিউল হক সৌরভ, অনিক মজুমদার, মুফতি মহসিন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি মুফীদ শাহ ও মুফতি যোবায়ের আলম।
অবরোধ চলাকালীন এএসপি সার্কেল মো. এস এম ফজলে রাব্বি রাজিব (ধর্মপাশা) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের অনুরোধ করেন কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, “দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া কোনোভাবেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।”
উল্লেখ্য, ধর্মপাশা থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত সড়কটি সুনামগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন।
অবরোধ চলাকালীন নেত্রকোণা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি অবরোধকারীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্রের কথা বলিয়ে দেন।
পার্থ প্রতীম মিত্র বলেন,
“এ রাস্তার বিষয়ে মিটিংয়ে আমাদের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এখন শুধু ঠিকাদার নিয়োগ বাকি। আমাদের একটু সময় দিন—কাজ অগ্রাধিকারে পাঠানো হয়েছে।”
তবে আন্দোলনকারীরা এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য আজহারুল ইসলাম দিপ্ত বলেন,
“আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও মহোদয়, প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওপেন টেবিল বৈঠকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। আমরা ‘লাস্ট ফিনিশিং’ চাই—বিগত ১০ বছর ধরে কেবল প্রতিশ্রুতিই শুনছি।”
সামিউল হক সৌরভ বলেন,
“আমরা ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা চাই না, চাই টেকসই ও উন্নত রাস্তা, যাতে ভবিষ্যতে মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।”
অবরোধকালীন সময়ে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
শেষ মুহূর্তে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’ ঘোষণা দেয়—
“আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই সড়কের সমস্যার সুরাহা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হব।”
পুরো কর্মসূচি জুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

ধর্মপাশা- গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনর্নির্মাণের দাবিতে দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ পালিত

আপডেট সময় ০৭:২৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত প্রধান সড়ক দ্রুত ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণের দাবিতে সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) ধর্মপাশা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলন, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ আয়োজিত এ কর্মসূচি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। এতে হাজারো সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকরা অংশ নেন। ‘‘আমাদের দাবি একটাই—ধর্মপাশায় রাস্তা চাই’’—এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কর্মসূচির সঞ্চালনায় ছিলেন নাজমুল ইসলাম তপু, এবং সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোল্লা মাহমুদ হাসান। বক্তব্য রাখেন আজহারুল ইসলাম দিপ্ত, সামিউল হক সৌরভ, অনিক মজুমদার, মুফতি মহসিন, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মুফতি মুফীদ শাহ ও মুফতি যোবায়ের আলম।
অবরোধ চলাকালীন এএসপি সার্কেল মো. এস এম ফজলে রাব্বি রাজিব (ধর্মপাশা) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের অনুরোধ করেন কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য। তবে আন্দোলনকারীরা জানান, “দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া কোনোভাবেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।”
উল্লেখ্য, ধর্মপাশা থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত সড়কটি সুনামগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন।
অবরোধ চলাকালীন নেত্রকোণা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি অবরোধকারীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্রের কথা বলিয়ে দেন।
পার্থ প্রতীম মিত্র বলেন,
“এ রাস্তার বিষয়ে মিটিংয়ে আমাদের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এখন শুধু ঠিকাদার নিয়োগ বাকি। আমাদের একটু সময় দিন—কাজ অগ্রাধিকারে পাঠানো হয়েছে।”
তবে আন্দোলনকারীরা এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য আজহারুল ইসলাম দিপ্ত বলেন,
“আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও মহোদয়, প্রধান প্রকৌশলী, এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওপেন টেবিল বৈঠকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। আমরা ‘লাস্ট ফিনিশিং’ চাই—বিগত ১০ বছর ধরে কেবল প্রতিশ্রুতিই শুনছি।”
সামিউল হক সৌরভ বলেন,
“আমরা ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তা চাই না, চাই টেকসই ও উন্নত রাস্তা, যাতে ভবিষ্যতে মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।”
অবরোধকালীন সময়ে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
শেষ মুহূর্তে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’ ঘোষণা দেয়—
“আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই সড়কের সমস্যার সুরাহা না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হব।”
পুরো কর্মসূচি জুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।