ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে, সালিশে দেড় লাখে ‘রফা’

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে ওই তরুণীর ঘরে মাদ্রাসা শিক্ষক প্রবেশ করলে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে গ্রাম্য সালিশে দেড় লাখ টাকায় ঘটনা রফাদফা করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

অভিযোগ ওঠা মাদ্রাসাশিক্ষকের নাম এমরান হোসেন। তিনি উপজেলার বটতলী ফাতেমা জহুরা ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক। এমরান ক্ষেতলাল উপজেলার আটিদাশরা গ্রামের ওয়ালেদুল ইসলামের ছেলে।

ভুক্তভোগী তরুণীর স্বজনদের ভাষ্য, এমরান মাদ্রাসায় চাকরির পাশাপাশি কালাই উপজেলার এলাতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ঈমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কবিরাজি চিকিৎসাও করেন তিনি। ভুক্তভোগী তরুণী শারীরিক সমস্যার কারণে মসজিদের ঈমাম এমরান হোসেনের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এমরান বিবাহিত হলেও একপর্যায়ে কৌশলে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাসে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও হয়। এসবের দৃশ্য কৌশলে এমরান তাঁর মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন। কিছুদিন আগে তরুণী এমরানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ের তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার রাতে এমরান ওই তরুণীকে মোবাইলে কল দিয়ে তাঁর কথামতো না চললে আগের ভিডিও ক্লিপগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে তরুণী বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানান। শনিবার দুপুরে এমরান তরুণীর বাড়িতে এসে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তখন পরিবারের সদস্যরা দু’জনকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয়রা গ্রাম্য সালিশে এমরানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনার মীমাংসা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি ওই সালিশে উপস্থিত ছিলাম। গ্রামের লোকজন আটকের পর দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা করে দিয়েছেন। এমরানের স্ত্রী টাকা নিয়ে এখানে এসেছিল। আসলে এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। ’

ভুক্তভোগী তরুণীর মামা জানান, তাঁর দুলাভাই মারা যাওয়ার পর থেকে ভাগ্নি তাদের এখানে থাকে। অনেকদিন ধরে সে অসুস্থ। তাই হুজুরের কাছে (মাদ্রাসাশিক্ষক) কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবারের ঘটনায় তাঁরা মামলা করতে চাইলে গ্রামের মাতুব্বররা দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনা আপস করে দেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে এমরান হোসেন বলেন, তিনি তরুণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন এটা সত্য, তবে কোনো খারাপ কাজ করেননি। টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। স্থানীয় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন বলেন, ওই তরুণী তাঁর আত্মীয়। ঘটনা জানার পর সেখানে গিয়ে দেখতে পান গ্রামের লোকজন দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তাঁর স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে, সালিশে দেড় লাখে ‘রফা’

আপডেট সময় ০৭:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে ওই তরুণীর ঘরে মাদ্রাসা শিক্ষক প্রবেশ করলে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে গ্রাম্য সালিশে দেড় লাখ টাকায় ঘটনা রফাদফা করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

অভিযোগ ওঠা মাদ্রাসাশিক্ষকের নাম এমরান হোসেন। তিনি উপজেলার বটতলী ফাতেমা জহুরা ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক। এমরান ক্ষেতলাল উপজেলার আটিদাশরা গ্রামের ওয়ালেদুল ইসলামের ছেলে।

ভুক্তভোগী তরুণীর স্বজনদের ভাষ্য, এমরান মাদ্রাসায় চাকরির পাশাপাশি কালাই উপজেলার এলাতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে ঈমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কবিরাজি চিকিৎসাও করেন তিনি। ভুক্তভোগী তরুণী শারীরিক সমস্যার কারণে মসজিদের ঈমাম এমরান হোসেনের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এমরান বিবাহিত হলেও একপর্যায়ে কৌশলে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের আশ্বাসে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও হয়। এসবের দৃশ্য কৌশলে এমরান তাঁর মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন। কিছুদিন আগে তরুণী এমরানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ের তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার রাতে এমরান ওই তরুণীকে মোবাইলে কল দিয়ে তাঁর কথামতো না চললে আগের ভিডিও ক্লিপগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে তরুণী বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানান। শনিবার দুপুরে এমরান তরুণীর বাড়িতে এসে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তখন পরিবারের সদস্যরা দু’জনকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয়রা গ্রাম্য সালিশে এমরানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনার মীমাংসা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমি ওই সালিশে উপস্থিত ছিলাম। গ্রামের লোকজন আটকের পর দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা করে দিয়েছেন। এমরানের স্ত্রী টাকা নিয়ে এখানে এসেছিল। আসলে এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। ’

ভুক্তভোগী তরুণীর মামা জানান, তাঁর দুলাভাই মারা যাওয়ার পর থেকে ভাগ্নি তাদের এখানে থাকে। অনেকদিন ধরে সে অসুস্থ। তাই হুজুরের কাছে (মাদ্রাসাশিক্ষক) কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবারের ঘটনায় তাঁরা মামলা করতে চাইলে গ্রামের মাতুব্বররা দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে ঘটনা আপস করে দেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে এমরান হোসেন বলেন, তিনি তরুণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন এটা সত্য, তবে কোনো খারাপ কাজ করেননি। টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। স্থানীয় বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন বলেন, ওই তরুণী তাঁর আত্মীয়। ঘটনা জানার পর সেখানে গিয়ে দেখতে পান গ্রামের লোকজন দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তাঁর স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।