বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ তালিকায় জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতা করা কয়েকজন শিক্ষকের নাম থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র সংগঠনগুলো। আজ রোববার থেকে পদোন্নতি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। গত সপ্তাহে সিন্ডিকেট বিষয়টি অনুমোদন দেয়।
পদোন্নতি বন্ধ রাখতে উপাচার্যের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতা করা শিক্ষকদের পুনর্বাসনের জন্য পদোন্নতি বোর্ড
বসানো হচ্ছে। অথচ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিস্টদের বিচার দাবি করে আসছেন। আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুচিতা শরমিন ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাত করায় আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র সেশনজট, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা রয়েছে। তা সমাধান না করে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের আয়োজন চলছে। তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতাকারী অন্তত সাত শিক্ষক পদোন্নতির তালিকায় আছেন। এর মধ্যে ইতিহাস, মার্কেটিং, লোকপ্রশাসন, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একজন করে এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুজন শিক্ষক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র আন্দোলন ও পরিকল্পনা সম্পাদক মোকাব্বেল শেখ বলেন, বিচারের আগে তাদের পদোন্নতি চান না শিক্ষার্থীরা। আপ বাংলাদেশের সদস্য শরিফ উল্লাহ বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিচারের আওতায় না এনে পদোন্নতির চেষ্টা আমরা মানব না।
ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ বলেন, বর্তমান উপাচার্যের কাছে দাবি ছিল শেখ হাসিনার সমর্থক শিক্ষকদের বিচার করতে হবে। অথচ তিনি এদের পদোন্নতি দিয়ে ফ্যাসিস্ট নিয়ে থাকতে চান।
পদোন্নতি না দিলে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জামাল উদ্দিন। এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীন বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে ক্ষমতা অর্পণ করেছে সিন্ডিকেট। উপাচার্য কমিটি করে বা অন্য কোনো উপায়ে তাদের চিহ্নিত করবেন। এর আগে এ বিষয়ে কমিটি হয়েছিল, তবে তা কার্যকর হয়নি।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
বরিশাল প্রতিনিধি 




















