বিনা মূল্যে জরুরি রোগী ও লাশ পরিবহনে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে সি-অ্যাম্বুল্যান্স চালু করা হয়েছে। ৪০০ অশ্ব ক্ষমতাশক্তিসম্পন্ন স্পিডবোটের অ্যাম্বুল্যান্সটি আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একজন রোগী ও তার অভিভাবকদের নিয়ে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
এ সময় ওমানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাত প্রবাসীর অভিভাবকরাও ওই বোটের যাত্রী ছিলেন। নিহত প্রবাসীদের লাশ গ্রহণ করতে তাদের অভিভাবকরা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাবেন।
জানা গেছে, সন্দ্বীপের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল মোস্তফা খোকনের পৃষ্ঠপোষকতায় চালু হয়েছে এ আধুনিক সি-অ্যাম্বুল্যান্স। যানটি জরুরি রোগী ও লাশ পরিবহনে সন্দ্বীপ চ্যানেলে সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
উদ্বোধনী যাত্রায় শনিবার সকালে অ্যাম্বুল্যান্সটি ২৫ জন যাত্রী নিয়ে ১৪ মিনিটে ২০ কিলোমিটার চ্যানেল পথ পাড়ি দিয়ে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সি অ্যাম্বুল্যান্সটিতে রয়েছে শৌচাগার ও আরামদায়ক আসন ছাড়াও বৃষ্টি-রোদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সুব্যবস্থা।
এর সঙ্গে যুক্ত হবে রোগীদের অক্সিজেন সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা। প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি এ সি-অ্যাম্বুল্যান্সে রাত-দিন সেবা দেওয়ার সব সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেন এর পৃষ্ঠপোষক সিআইপি নূরুল মোস্তফা খোকন।
খোকন বলেন, সন্দ্বীপ চ্যানেলে জরুরি রোগী পরিবহনের কোনো সুব্যবস্থা নেই। সূর্যাস্তের সঙ্গে দ্বীপের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বীপের অনেক প্রসূতিকে ফেরিঘাটে সন্তান প্রসব করতে হয়েছে, সময়মতো নৌযানের ব্যবস্থা না থাকায় মা ও শিশুদের অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও সন্দ্বীপে আমরা একটি নিরাপদ মাতৃত্বের পরিবেশ গড়ে তুলতে পারিনি— এটি আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। মানবিক কারণে আমি এই সেবা চালু করেছি। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে মানবিক সহায়তা হিসেবে আরো পাঁচটি সি অ্যাম্বুল্যান্স চালু করার ইচ্ছা পোষণ করছি। এগুলো বিনা মূল্যে জরুরি রোগী ও লাশ পরিবহন করবে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 




















