ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

স্বর্ণের লোভে মামী ও মামাতো বোনেকে গলা কেটে হত্যা করে পারভেজ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে (১৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘাতক পারভেজ হোসেন নিহত মীমের মামাতো ভাই।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন বলেন, টাকার অভাবে মামার বাসা থেকে স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করে। তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুটি দোকান থেকে ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার পারভেজ রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর মহাদের বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ঘাতক পারভেজ দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের চাপ ও তার ব্যাংক হিসেবে থাকা টাকা তুলতে পারছিল না সে। সে তার মামার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর বিকেলে সে বাজার থেকে একটি চাকু কিনে আমড়া ও আপেল নিয়ে তার মামার বাড়িতে যায়। পরে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে আমড়া ও আপেল খেতে দেয়। মামাতো বোন মীমের সঙ্গে বাসার দ্বিতীয় তলায় যায়। সেখানে মীম তার হাতে ছুরি দেখে চিৎকার দিলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মামী জুলেখাকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ঘটনার ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পারভেজকে রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

এসপি বলেন, হত্যা মামলায় পারভেজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পারভেজ একাই পর্যায়ক্রমে তার মামী ও মামাতো বোনকে হত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর রামগঞ্জ উপজেলায় উত্তর চন্ডীপুর গ্রামে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা ও মেয়ে কলেজছাত্রী মীমকে হত্যা করে। পরে ঘাতক পারভেজ বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ব্যবসায়ী মিজান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

স্বর্ণের লোভে মামী ও মামাতো বোনেকে গলা কেটে হত্যা করে পারভেজ

আপডেট সময় ১২:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধূ জুলেখা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে তানহা আক্তার মীমকে (১৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘাতক পারভেজ হোসেন নিহত মীমের মামাতো ভাই।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকতার হোসেন বলেন, টাকার অভাবে মামার বাসা থেকে স্বর্ণ চুরি করতে গিয়ে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করে। তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুটি দোকান থেকে ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার পারভেজ রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর মহাদের বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ঘাতক পারভেজ দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে লক্ষ্মীপুরে আসে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের চাপ ও তার ব্যাংক হিসেবে থাকা টাকা তুলতে পারছিল না সে। সে তার মামার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ৯ অক্টোবর বিকেলে সে বাজার থেকে একটি চাকু কিনে আমড়া ও আপেল নিয়ে তার মামার বাড়িতে যায়। পরে সে তার মামী ও মামাতো বোনকে আমড়া ও আপেল খেতে দেয়। মামাতো বোন মীমের সঙ্গে বাসার দ্বিতীয় তলায় যায়। সেখানে মীম তার হাতে ছুরি দেখে চিৎকার দিলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার মামী জুলেখাকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে ঘটনার ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পারভেজকে রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে ৬ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে দুটি দোকানে বিক্রি করা ১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

এসপি বলেন, হত্যা মামলায় পারভেজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পারভেজ একাই পর্যায়ক্রমে তার মামী ও মামাতো বোনকে হত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর রামগঞ্জ উপজেলায় উত্তর চন্ডীপুর গ্রামে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী জুলেখা ও মেয়ে কলেজছাত্রী মীমকে হত্যা করে। পরে ঘাতক পারভেজ বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ব্যবসায়ী মিজান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।