ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ঢুকে ১৪ জনের মৃত্যু আউটসোর্সিং ঠিকাদার প্রথা বাতিল না হলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হবে না: শিমুল বিশ্বাস মির্জাপুরে নবাগত ইউএনও হিসেবে জহিরুল আলমের যোগদান ৩ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন দিলেন চ্যান্সেলর আদিতমারীতে সার আইন লঙ্ঘনে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ কম্ব্যাট পাইলট হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায় জুয়ারিয়া ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ‘কাউকে ছাড় নয়’ ধামরাইয়ে রাইস মিল ও ৩ মিষ্টির দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

অধিক লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে শীতের ফুলকপি গ্রীষ্মে আবাদ

বিস্তীর্ণ সবুজের চাদরে মোড়ানো মাঠ। কোথাও দোল খাচ্ছে পাটের লম্বা গাছ, কোথাও কচুর ঘন পাতার ছায়া, আবার কোথাও সবজি খেতে ব্যস্ত কৃষকরা। বৈচিত্র্যময় দৃশ্যের মাঝেই বিশেষভাবে নজর কেড়ছে ফুলকপির খেত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ আর আষাঢ়ের বৃষ্টিতেও থেমে নেই কৃষকরা।

আগাম ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই। কেউ আগাছা তুলছেন, কেউ আবার পোকামাকড় রোধে ছিটাচ্ছেন কীটনাশক। বাজারে চাহিদা বেশি, দামও ভালো এ কারণেই শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষে আগ্রহী কৃষকরা। ঝুঁকি থাকলেও আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় গ্রীষ্মকালে এই সবজির চাষ ‍বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভুইয়াপাড়া গ্রামের মো. দাউদ আলী গত বছর আগাম গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছিলেন। ১ বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৬৫ থেকে ৭০ দিনে ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। গতবছর অধিক লাভ হওয়ায় এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে তুফান জাতের গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছেন। তার ফুলকপি গাছে ইতোমধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিরেন মধ্যে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করতে পারবেন। ভারি বৃষ্টিতে আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ফলন ভালো হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে এই কৃষকের।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলার কাপাশাটিয়া, চাদপুর ও দৌলতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালে আগাম ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে তুলন জাতের ফুলকপি রয়েছে। শীতকালীন এই ফুলকপির চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। যার কারণে বৃষ্টি এবং প্রখর রোদে পোকামাকড় ও পাতা পচার ঝুকি থাকলেও গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক।

ফুলকপি চাষি কৃষক মো. আশাদুল ইসলাম বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছি। গত বছর ১ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করি। সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রয় করি। একবিঘা জমিতে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ দিনে এই লাভের মুখ দেখেছি। যার কারণে এবছর ৪ বিঘা জিমতে তুফান জাতের গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছি। এখনো বিক্রয় উপযোগী হয়নি। তবে আর কিছুদিনের মধ্যেই এই কপিগুলো বাজারে বিক্রয় করতে পারবো।

কৃষক মো. ইজাজুল ইসলাম বলেন, শীতকালে যে সবজি চাষ করা হয় সেখানে সার-কীটনাশক খুব কম লাগে। যার কারণে খরচ খুবই কম। কিন্তু গ্রীষ্মকালে ফুলকপি চাষে পোকামাকড় ও পাতা পচার জন্য প্রতিদিন কীটনাশক এবং ছত্রানাশক স্প্রে করতে হয়। তারপও এই সময়ে বাজারে ফুলকপির চাহিদা অনেক, দামটাও অনেক বেশি। এ কারণে রোদ এবং বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও আগাম সবজি চাষ করে থাকি।

আরেক কৃষক মো. দাউদ আলী বলেন, উন্নত জাত এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে গ্রীষ্মকালেও এই সবজি চাষে সল সফলতা পেয়েছি। গত বছর লাভ হওয়ায় এবছর দুই বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছি। তবে এবছর বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটা বেশি, যার কারণে এখনো বলা যাচ্ছে না কেমন লাভ হবে। তবে খেতে ফুলকপির যে গ্রোথ, তাতে আশা করা যায় গত বছরের তুলনাই বেশি ফলন পাবো।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, এই মৌসুমে হরিণাকু্ন্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের রিশখালি ব্লকের ভুইয়াপাড়াসহ চাদপুর এবং কাপাশাটিয়া ইউনিয়নের ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ হয়েছে। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী কৃষক একবিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে ৮০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছে।

তিন বলেন, বাজারে এই সবজির সাপ্লাই কম এবং চাহিদা বেশি। মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ফুলকপি চাষ করেন। এই মৌসুমে বৃষ্টির কারণে জমিতে বিভিন্ন পোকামাকড় উপস্থিত থাকে, যার করণে বেশি বেশি বালাই-নাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আরও বলেন, আমাদের কৃষি অফিস এবং বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী ও কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষককে সহণীয় মাত্রায় বালাইনাশক দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। আশাকরি এ বছরও কৃষক অনেক লাভবান হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা

অধিক লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে শীতের ফুলকপি গ্রীষ্মে আবাদ

আপডেট সময় ০৩:১৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বিস্তীর্ণ সবুজের চাদরে মোড়ানো মাঠ। কোথাও দোল খাচ্ছে পাটের লম্বা গাছ, কোথাও কচুর ঘন পাতার ছায়া, আবার কোথাও সবজি খেতে ব্যস্ত কৃষকরা। বৈচিত্র্যময় দৃশ্যের মাঝেই বিশেষভাবে নজর কেড়ছে ফুলকপির খেত। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ আর আষাঢ়ের বৃষ্টিতেও থেমে নেই কৃষকরা।

আগাম ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই। কেউ আগাছা তুলছেন, কেউ আবার পোকামাকড় রোধে ছিটাচ্ছেন কীটনাশক। বাজারে চাহিদা বেশি, দামও ভালো এ কারণেই শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষে আগ্রহী কৃষকরা। ঝুঁকি থাকলেও আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় গ্রীষ্মকালে এই সবজির চাষ ‍বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভুইয়াপাড়া গ্রামের মো. দাউদ আলী গত বছর আগাম গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছিলেন। ১ বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৬৫ থেকে ৭০ দিনে ৬০ হাজার টাকা লাভ করেন। গতবছর অধিক লাভ হওয়ায় এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে তুফান জাতের গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছেন। তার ফুলকপি গাছে ইতোমধ্যে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিরেন মধ্যে বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করতে পারবেন। ভারি বৃষ্টিতে আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ফলন ভালো হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে এই কৃষকের।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলার কাপাশাটিয়া, চাদপুর ও দৌলতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে গ্রীষ্মকালে আগাম ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে তুলন জাতের ফুলকপি রয়েছে। শীতকালীন এই ফুলকপির চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। যার কারণে বৃষ্টি এবং প্রখর রোদে পোকামাকড় ও পাতা পচার ঝুকি থাকলেও গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক।

ফুলকপি চাষি কৃষক মো. আশাদুল ইসলাম বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছি। গত বছর ১ বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করি। সেখানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রয় করি। একবিঘা জমিতে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ দিনে এই লাভের মুখ দেখেছি। যার কারণে এবছর ৪ বিঘা জিমতে তুফান জাতের গ্রীষ্মকালীন ফুলকপি চাষ করেছি। এখনো বিক্রয় উপযোগী হয়নি। তবে আর কিছুদিনের মধ্যেই এই কপিগুলো বাজারে বিক্রয় করতে পারবো।

কৃষক মো. ইজাজুল ইসলাম বলেন, শীতকালে যে সবজি চাষ করা হয় সেখানে সার-কীটনাশক খুব কম লাগে। যার কারণে খরচ খুবই কম। কিন্তু গ্রীষ্মকালে ফুলকপি চাষে পোকামাকড় ও পাতা পচার জন্য প্রতিদিন কীটনাশক এবং ছত্রানাশক স্প্রে করতে হয়। তারপও এই সময়ে বাজারে ফুলকপির চাহিদা অনেক, দামটাও অনেক বেশি। এ কারণে রোদ এবং বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও আগাম সবজি চাষ করে থাকি।

আরেক কৃষক মো. দাউদ আলী বলেন, উন্নত জাত এবং সঠিক পরিচর্যার ফলে গ্রীষ্মকালেও এই সবজি চাষে সল সফলতা পেয়েছি। গত বছর লাভ হওয়ায় এবছর দুই বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছি। তবে এবছর বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটা বেশি, যার কারণে এখনো বলা যাচ্ছে না কেমন লাভ হবে। তবে খেতে ফুলকপির যে গ্রোথ, তাতে আশা করা যায় গত বছরের তুলনাই বেশি ফলন পাবো।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, এই মৌসুমে হরিণাকু্ন্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের রিশখালি ব্লকের ভুইয়াপাড়াসহ চাদপুর এবং কাপাশাটিয়া ইউনিয়নের ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ হয়েছে। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী কৃষক একবিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে ৮০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছে।

তিন বলেন, বাজারে এই সবজির সাপ্লাই কম এবং চাহিদা বেশি। মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ফুলকপি চাষ করেন। এই মৌসুমে বৃষ্টির কারণে জমিতে বিভিন্ন পোকামাকড় উপস্থিত থাকে, যার করণে বেশি বেশি বালাই-নাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার আরও বলেন, আমাদের কৃষি অফিস এবং বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী ও কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষককে সহণীয় মাত্রায় বালাইনাশক দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। আশাকরি এ বছরও কৃষক অনেক লাভবান হবে।