ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বুড়িচংয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ বালাইনাশক বিক্রি, মোবাইল কোর্টে জরিমানা মিডিয়াকে লাঠির মতো ব্যবহার করে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী : রিজভী কুমিল্লায় জাইতুন ও মিয়ামী রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, জরিমানা ৭০ হাজার টাকা ডিএমপির ৫ অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে বদলি ঢাকায় পৌঁছেছেন আইপিইউ সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ ১৮০ দিনে সরকারের বিরুদ্ধে ৪৬৪টি অপতথ্য প্রচার হয়েছে : জাহেদ উর রহমান কুমিল্লায় আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান, অর্ধশতাধিক ভ্যান-ফুডকার্ট বিনষ্টের অভিযোগ গুম প্রতিরোধে ১৪ দাবিতে স্পিকারের কাছে ১১ দলীয় জোটের স্মারকলিপি ডিলারের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার উত্তোলনের অভিযোগ, ২০ বস্তা জব্দ মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষকদের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ

মাদারীপুর জেলা রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছিল ২১ শয্যা বিশিষ্ট একটি পুরাতন ভবনে। বহু পুরাতন এই হাসপাতালটি নতুন ভবন নির্মাণ করে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করন করা হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে । তখন রাজৈর উপজেলার জনসংখ্যা ছিল কম। বর্তমানে রাজৈর উপজেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি সেই তুলনায় রাজৈর হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর পরিমাণে। বর্তমানে এই হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর চাপ বেড়েছে অনেক বেশি । আমার সংবাদ পত্রিকার সংবাদদাতা সরজমিনে গিয়ে দেখতে পাই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি করা হয়েছে ৯৩ জন । না পাই বেড, না পাই বেড শীট, বালিশ ও ফোম সে কারণে হাসপাতালটি অতি দ্রুত কমপক্ষে ১০০ বেডে উন্নীত করণের জন্য বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ । হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোগীর স্বজনদের আহাজারি বেড না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়ির পাশে, বারান্দাতেও রোগীর জায়গা হচ্ছে না, নার্স, ডাক্তার সবাই হিমসিম খাচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় ডাক্তার এর সংখ্যা সীমিত । আউট ডোরে প্রচুর পরিমাণে রোগীর ভিড় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ রোগী সেবা নিতে আসে এত পরিমাণ রোগীর চাপ, হাতে গোনা যে কয়জন ডাক্তার আছে তাদের পক্ষে রোগীর সেবা প্রদান করা দুরহ ব্যাপার বলে জানা যায়।
এই হাসপাতালে ১২/১৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে ৭/৮ জন। ১২ অক্টোবর সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৯ জন ডাক্তার আউট ডোরে রোগী সেবা দেওয়ার কথা সেখানে দেখা যায় দুই জন মেডিকাল এসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কম পক্ষে ১৫০/২০০ রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পক্ষকে না পেয়ে অতীতে বলা কথাগুলো তুলে ধরলাম।
এবিষয়ে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা জানান , আমি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে আমার উপর মহলে অনেক লিখিত আবেদন করেছি। তিনি আরো বলেন ডাক্তার, নার্স, ক্লিনার, নৈশ প্রহরী,আয়া, সকল দপ্তরে জনবলের সঙ্কটের কারণে রোগীর সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দৃষ্টি দেবে বলে আশা করি।
এছাড়াও হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা করার যন্ত্র পাতি নষ্ট থাকে বলে জানা যায়। এই অসুস্থ কোন রোগী এলে বহন করার মত কোন টলির ব্যবস্থা নাই ,ভ্যান রিক্সার মাধ্যমে তিন তলা ভবনে রোগী উঠাতে হয়। এবং কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলে বাহিরে ভ্যানরিকশা নিয়ে দ্বিতীয় তলা তৃতীয় তলা থেকে রোগী হাসপাতালের বাহিরে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিতে হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। যাহা একটি গরিব অসহায় সাধারণ রোগীদের জন্য খুবই দুঃসাধ্য। গরিব অসহায় বিধায় রোগীরা সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচের চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। অতি দ্রুত হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ডেন্টাল মেশিন ,ইসিজি মেশিন দ্বারা সাধারণ করিম অসহায় রোগীরা যাতে উপকৃত হয় সে ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে বলে সাধারণ রোগীরা দাবি করছে। রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাই। যদিও হাসপাতালে নিজস্ব একটি জেনারেটর আছে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেটা ব্যবহার করা হয় না , জেনারেটর চালানোর জন্য ইঞ্জিনের তেলের ব্যবস্থা নাকি সরকার বহন করে না। তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করে ইঞ্জিন জেনারেটর হাসপাতালে সাজিয়ে রাখার দরকার কি, অতি দ্রুত এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করি। নানা সমস্যাই উপজেলা হাসপাতালটি জর্জরিত। সাধারণ রোগীরা ও এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে বাথরুম গুলোর বেহাল অবস্থা বাথরুমে ঢুকলে ভালো মানুষ রোগী হয়ে যায় । হাসপাতালে এই বিষয়গুলো নিয়ে, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ আশা করছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বুড়িচংয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ বালাইনাশক বিক্রি, মোবাইল কোর্টে জরিমানা

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৯:১৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

মাদারীপুর জেলা রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছিল ২১ শয্যা বিশিষ্ট একটি পুরাতন ভবনে। বহু পুরাতন এই হাসপাতালটি নতুন ভবন নির্মাণ করে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করন করা হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে । তখন রাজৈর উপজেলার জনসংখ্যা ছিল কম। বর্তমানে রাজৈর উপজেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি সেই তুলনায় রাজৈর হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রচুর পরিমাণে। বর্তমানে এই হাসপাতালে অসুস্থ রোগীর চাপ বেড়েছে অনেক বেশি । আমার সংবাদ পত্রিকার সংবাদদাতা সরজমিনে গিয়ে দেখতে পাই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি করা হয়েছে ৯৩ জন । না পাই বেড, না পাই বেড শীট, বালিশ ও ফোম সে কারণে হাসপাতালটি অতি দ্রুত কমপক্ষে ১০০ বেডে উন্নীত করণের জন্য বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ । হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রোগীর স্বজনদের আহাজারি বেড না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়ির পাশে, বারান্দাতেও রোগীর জায়গা হচ্ছে না, নার্স, ডাক্তার সবাই হিমসিম খাচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় ডাক্তার এর সংখ্যা সীমিত । আউট ডোরে প্রচুর পরিমাণে রোগীর ভিড় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ রোগী সেবা নিতে আসে এত পরিমাণ রোগীর চাপ, হাতে গোনা যে কয়জন ডাক্তার আছে তাদের পক্ষে রোগীর সেবা প্রদান করা দুরহ ব্যাপার বলে জানা যায়।
এই হাসপাতালে ১২/১৪ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে ৭/৮ জন। ১২ অক্টোবর সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ৯ জন ডাক্তার আউট ডোরে রোগী সেবা দেওয়ার কথা সেখানে দেখা যায় দুই জন মেডিকাল এসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কম পক্ষে ১৫০/২০০ রোগী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পক্ষকে না পেয়ে অতীতে বলা কথাগুলো তুলে ধরলাম।
এবিষয়ে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা জানান , আমি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে আমার উপর মহলে অনেক লিখিত আবেদন করেছি। তিনি আরো বলেন ডাক্তার, নার্স, ক্লিনার, নৈশ প্রহরী,আয়া, সকল দপ্তরে জনবলের সঙ্কটের কারণে রোগীর সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই জনবল সংকটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দৃষ্টি দেবে বলে আশা করি।
এছাড়াও হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা করার যন্ত্র পাতি নষ্ট থাকে বলে জানা যায়। এই অসুস্থ কোন রোগী এলে বহন করার মত কোন টলির ব্যবস্থা নাই ,ভ্যান রিক্সার মাধ্যমে তিন তলা ভবনে রোগী উঠাতে হয়। এবং কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলে বাহিরে ভ্যানরিকশা নিয়ে দ্বিতীয় তলা তৃতীয় তলা থেকে রোগী হাসপাতালের বাহিরে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিতে হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। যাহা একটি গরিব অসহায় সাধারণ রোগীদের জন্য খুবই দুঃসাধ্য। গরিব অসহায় বিধায় রোগীরা সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচের চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। অতি দ্রুত হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ডেন্টাল মেশিন ,ইসিজি মেশিন দ্বারা সাধারণ করিম অসহায় রোগীরা যাতে উপকৃত হয় সে ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে বলে সাধারণ রোগীরা দাবি করছে। রাজৈর উপজেলা হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নাই। যদিও হাসপাতালে নিজস্ব একটি জেনারেটর আছে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেটা ব্যবহার করা হয় না , জেনারেটর চালানোর জন্য ইঞ্জিনের তেলের ব্যবস্থা নাকি সরকার বহন করে না। তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করে ইঞ্জিন জেনারেটর হাসপাতালে সাজিয়ে রাখার দরকার কি, অতি দ্রুত এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করি। নানা সমস্যাই উপজেলা হাসপাতালটি জর্জরিত। সাধারণ রোগীরা ও এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ। হাসপাতালে বাথরুম গুলোর বেহাল অবস্থা বাথরুমে ঢুকলে ভালো মানুষ রোগী হয়ে যায় । হাসপাতালে এই বিষয়গুলো নিয়ে, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষ আশা করছে।