ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

নাগেশ্বরীতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫ জন আহত

‎কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুর রহমান রানা ও তরুণ নেতা ডা. ইউনুছের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

‎অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমান রানার সমর্থক ও যুবদল থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান দ্বিপ মণ্ডল (৪৫) এই সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন বাজি মণ্ডল (৩৮), মুরাদ মণ্ডল (৪৩), বক্তার আলী মণ্ডল(৪৯), গোলজার আলী মণ্ডল (৬০), লাভলু মণ্ডল (৪০), রাজীব মণ্ডল (৩৫)সহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী।

‎অন্যদিকে, ডা. ইউনুছপন্থী বিএনপি নেতা মো. মজিবর মণ্ডলের সঙ্গে ছিলেন রায়গঞ্জ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ, বিপ্লব মিয়া, যুবদল নেতা রবিউল ইসলআম।

‎ঘটনার সূত্রপাত ২২ সেপ্টেম্বরের এক জনসভা থেকে। ওই দিন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দ্বিপ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সাইফুর রহমান রানার জনসভায় যোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে বি এন পি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় । পরে আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

‎এরপর ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দ্বিপ ও রিয়াজ উদ্দিনসহ কয়েকজন জেলা বি এন পি র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার নাগেশ্বরী বাসায় বৈঠক করেন। বৈঠকের কিছু পরেই রাতে রায়গঞ্জ বাজারে ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রনি ও খাইরুল ইসলাম অবস্থান করাকালে আরিফুজ্জামান দিপ ও তার সহযোগীরা অর্তকিত হামলা চালান। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরের পর তাদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে আটক করে রাখার অভিযোগ ওঠে।

‎পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আবারও হামলা হয়। এসময় চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দিপের হাতে থাকা রামদার আঘাতে মো. আরিফ সরকারের (৩০) ডান পায়ের রগ কেটে যায়। তাকে রক্ষা করতে গেলে মজিবর রহমান সরকার (৬৭) ও জাকির হোসেন ফজুর (৫০) মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।

‎আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মো. মজিবর রহমান (৬৭), ছাত্রদল নেতা মো. আরিফ (২৫), সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুল (৩২), যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম রনি (৩৪) ও মো. জাকির হোসেন ফজু (৫০)।

‎বাজারের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্য দুইজনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠান।

‎নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,
‎“ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

নাগেশ্বরীতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫ জন আহত

আপডেট সময় ০৬:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

‎কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সাইফুর রহমান রানা ও তরুণ নেতা ডা. ইউনুছের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

‎অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমান রানার সমর্থক ও যুবদল থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া রায়গঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান দ্বিপ মণ্ডল (৪৫) এই সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে ছিলেন বাজি মণ্ডল (৩৮), মুরাদ মণ্ডল (৪৩), বক্তার আলী মণ্ডল(৪৯), গোলজার আলী মণ্ডল (৬০), লাভলু মণ্ডল (৪০), রাজীব মণ্ডল (৩৫)সহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী।

‎অন্যদিকে, ডা. ইউনুছপন্থী বিএনপি নেতা মো. মজিবর মণ্ডলের সঙ্গে ছিলেন রায়গঞ্জ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ, বিপ্লব মিয়া, যুবদল নেতা রবিউল ইসলআম।

‎ঘটনার সূত্রপাত ২২ সেপ্টেম্বরের এক জনসভা থেকে। ওই দিন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দ্বিপ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সাইফুর রহমান রানার জনসভায় যোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে বি এন পি নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় । পরে আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

‎এরপর ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দ্বিপ ও রিয়াজ উদ্দিনসহ কয়েকজন জেলা বি এন পি র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার নাগেশ্বরী বাসায় বৈঠক করেন। বৈঠকের কিছু পরেই রাতে রায়গঞ্জ বাজারে ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম রনি ও খাইরুল ইসলাম অবস্থান করাকালে আরিফুজ্জামান দিপ ও তার সহযোগীরা অর্তকিত হামলা চালান। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরের পর তাদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে আটক করে রাখার অভিযোগ ওঠে।

‎পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আবারও হামলা হয়। এসময় চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দিপের হাতে থাকা রামদার আঘাতে মো. আরিফ সরকারের (৩০) ডান পায়ের রগ কেটে যায়। তাকে রক্ষা করতে গেলে মজিবর রহমান সরকার (৬৭) ও জাকির হোসেন ফজুর (৫০) মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।

‎আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মো. মজিবর রহমান (৬৭), ছাত্রদল নেতা মো. আরিফ (২৫), সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুল (৩২), যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম রনি (৩৪) ও মো. জাকির হোসেন ফজু (৫০)।

‎বাজারের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্য দুইজনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠান।

‎নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,
‎“ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে