ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

তথ্য গোপন করে বীর নিবাসের বাড়ি পেলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন

মনিরামপুর উপজেলায় তথ্য গোপন করে ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সরকার ঘোষিত বীর নিবাস প্রকল্পে ১৮ লাখ টাকার একটি বাড়ি বরাদ্দ নিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান সদস্য সচিব ও সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার সম্প্রতি মনিরামপুর উপজেলার পাঁচজন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে তালিকার ৪ নম্বরে আলাউদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর নামে বাড়িটি নির্মিত হওয়ার কথা ঝাঁপা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে পৈতৃকভিটায়। অভিযোগ অনুযায়ী, আলাউদ্দিনের মনিরামপুর পৌরশহরে সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজস্ব জমিতে প্রাচীর ঘেরা একতলা ভবন রয়েছে, যা বর্তমানে তিনতলা করা হচ্ছে। ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় রয়েছে একটি ফ্ল্যাট বাসা। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, পান সরকারি পেনশন। নিয়মিত পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। তাঁর ছেলে একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে প্রবাসী (অস্ট্রেলিয়া)। এসব আর্থিক ও পারিবারিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে আবেদন করেন। জানা গেছে, প্রয়াত সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে ২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান আলাউদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কমান্ডারের পদে ছিলেন। সম্প্রতি গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে সদস্য সচিব করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী বলেন, “আলাউদ্দিনের নামে বীর নিবাস ঘর বরাদ্দের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু সেটি ধোপে টেকেনি।” তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, “আলাউদ্দিন আবেদনপত্রে গ্রামের ঠিকানা দিয়েছেন। গ্রামে গিয়ে তাঁর কোনো স্থায়ী ঘর পাওয়া যায়নি, তাই সুপারিশ করা হয়।” ঝাঁপা এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আবদুল কাদের বিশ্বাসের স্ত্রী লাইলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে ঘর পাওয়ার আবেদন করেও আলাউদ্দিনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। অথচ তিনি নিজেই সরকারি ঘর নিলেন।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না বলেন, “নিজেকে অসচ্ছল দাবি করে প্রকৃত অবস্থা গোপন করে আবেদন করেছেন আলাউদ্দিন। তদন্ত কমিটি কীভাবে তাঁর পক্ষে মত দিয়েছে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্প যখন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো উচিত, তখন সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত হওয়া জনমনে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

তথ্য গোপন করে বীর নিবাসের বাড়ি পেলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন

আপডেট সময় ১২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

মনিরামপুর উপজেলায় তথ্য গোপন করে ‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে সরকার ঘোষিত বীর নিবাস প্রকল্পে ১৮ লাখ টাকার একটি বাড়ি বরাদ্দ নিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান সদস্য সচিব ও সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকার সম্প্রতি মনিরামপুর উপজেলার পাঁচজন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে তালিকার ৪ নম্বরে আলাউদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁর নামে বাড়িটি নির্মিত হওয়ার কথা ঝাঁপা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে পৈতৃকভিটায়। অভিযোগ অনুযায়ী, আলাউদ্দিনের মনিরামপুর পৌরশহরে সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিজস্ব জমিতে প্রাচীর ঘেরা একতলা ভবন রয়েছে, যা বর্তমানে তিনতলা করা হচ্ছে। ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় রয়েছে একটি ফ্ল্যাট বাসা। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, পান সরকারি পেনশন। নিয়মিত পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। তাঁর ছেলে একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এবং মেয়ে প্রবাসী (অস্ট্রেলিয়া)। এসব আর্থিক ও পারিবারিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে আবেদন করেন। জানা গেছে, প্রয়াত সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে ২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান আলাউদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কমান্ডারের পদে ছিলেন। সম্প্রতি গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে সদস্য সচিব করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলী বলেন, “আলাউদ্দিনের নামে বীর নিবাস ঘর বরাদ্দের বিরোধিতা করেছি। কিন্তু সেটি ধোপে টেকেনি।” তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, “আলাউদ্দিন আবেদনপত্রে গ্রামের ঠিকানা দিয়েছেন। গ্রামে গিয়ে তাঁর কোনো স্থায়ী ঘর পাওয়া যায়নি, তাই সুপারিশ করা হয়।” ঝাঁপা এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আবদুল কাদের বিশ্বাসের স্ত্রী লাইলি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে ঘর পাওয়ার আবেদন করেও আলাউদ্দিনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। অথচ তিনি নিজেই সরকারি ঘর নিলেন।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না বলেন, “নিজেকে অসচ্ছল দাবি করে প্রকৃত অবস্থা গোপন করে আবেদন করেছেন আলাউদ্দিন। তদন্ত কমিটি কীভাবে তাঁর পক্ষে মত দিয়েছে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্প যখন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো উচিত, তখন সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত হওয়া জনমনে প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।