ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার, ত্রিভুজ প্রেমের বলি? চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩১০টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ, গ্রেপ্তার ১ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রবিবার কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে চরিত্রহননের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ব্যবসায়ী নিরবের সংবাদ সম্মেলন নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী আগামী ৫ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, মিলল স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রা জোয়ারের স্রোতে ভেসে গেছে যোগাযোগ, ব্রিজের অভাবে বিপাকে হাসাননগরের মানুষ কালিহাতীতে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

উজিরপুরের ভূমিদস্যু মামুন মল্লিক গং দের বিরুদ্ধে ভুক্তভুগী এক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

  • বরিশাল প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৩৪ বার পড়া হয়েছে

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মো. দেলোয়ার হোসেন মল্লিক (দুলাল) ৫২, পিতা- মৃত, ইসমাইল মল্লিক, গ্রাম-ইসলাদি, পোস্ট- ধামসর, থানা- উজিরপুর, জেলা- বরিশাল। অদ্য ২৩/০৯/২০২৫ইং দুপুর ১২ ঘটিকায় বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভা কক্ষে হাজির হাইয়া আমার প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক ভূমি দস্যু মব সন্ত্রাস বাহীনির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন করিতেছি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আছেন আমি ও আমার ভূক্তভোগী পরিবার।
আমার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পতি নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে পার্শ্ববর্তী মাদারশি গ্রামের বাসিন্দা মৃত হালিম মল্লিকের ছেলে-মেয়ে সহ পরিবারের সদস্যরা। মো. আল মামুন মল্লিক ও তার ভাই আলামিন মল্লিক এবং আল মাহামুদ এবং বোন জিন্নাতুল নেছা উর্মি, খালেদা আক্তার, শামিমা আক্তার মা আলেয়া বেগম।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন মল্লিক বলেন, উজিরপুর উপজেলাধীন ৮৯ নং ইচলাদী মৌজার এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় সোনাবান তার সকল জমি গত ২৭/০৭/১৯৮৬ তারিখে তার পুত্র হালিম মল্লিককে ২ একর ৩৪ শতাংশ জমি ২৪৬২/৮৬ নং দলিলমূলে হস্তান্তর করেন। তবে তার প্রাপ্যর চেয়ে অতিরিক্ত ৩৩ শতাংশ জমি বেশি দলিলে দেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিকের পিতা হালিম মল্লিক উপরোক্ত ২৪৬২ নং দলিলমূলে মালিক থেকে গত ২১/০৪/৮৮ তারিখে ১১৪০ নং দলিলে ১ একর ১৭ শতাংশ ও গত ২৭/০২/১৯৯০ তারিখে ৮৫৯ নং দলিলমূলে ৯৭শতাংশ এবং গত ২২/০৩/২০০৯ তারিখে ৮৩২ নং দলিলে ২.৫০ (আড়াই) শতাংশ একুনে ২ একর সাড়ে ১৬ শতাংশ দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও নাসরিন সুলতানা ও মরিয়ম বেগম এবং দুধ মেহের বিবির কাছে জমি বিক্রি করেন। এবং রেকর্ডীয় এসমাইল মল্লিকের নিজ রেকর্ডীয় ৬৫ শতাংশ জমি পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক আমি সহ ৩ বোন।
অপরদিকে ৮৯ নং ইচলাদি মৌজায় সিএস ৮৯ তথা আরএস ২৬৩, এসএ ১৫৯ নং। সিএস খতিয়ানে রেকর্ডীয় বছির উদ্দিন ৮ আনা অংশের মালিক থাকিয়া তার মৃত্যুতে ১ পুত্র সেকেন্দার আলী (অবিবাহিত মৃত) ও ১ কন্যা সোনাবান বিবি ও ১ স্ত্রী নবাবজান বিবি। উক্ত সেকান্দার আলী (অবিবাহিত) মৃত্যুবরণ করিলে ওয়ারিশ থাকেন- ১ মাতা নবাবজান বিবি ও ১ বোন সোনাবান বিবি। উল্লেখিত নবাবজান বিবি তার স্বামীর স্বত্ব ও মৃত পুত্রের প্রাপ্ত অংশ থেকে গত ২৭/১২/১৯৪৮ তারিখে তিনি আমার পিতা ইসমাইল মল্লিকের নিকট ৩৮২৭/৪৮ নং হেবানামা দলিলমূলে ১ একর ৫৪ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন।
উক্ত দলিলমূলে আমার পিতার নামে এসএ রেকর্ড না হয়ে এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানে ভুলবসতক্রমে রেকর্ডীয় মালিক আফছের ওরফে আজাহার আলী, ধলু মল্লিক ও সোনাবান বিবির নামে রেকর্ড হয়। এই ভুল রেকর্ডের কারণে আমার পিতা ইসমাইল মল্লিক বাদী হয়ে মোকাম বরিশাল ১ম মুন্সেফী আদালতে দেওয়ানী ২১১/১৯৫৭নং মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন বিজ্ঞ আদালত গত ২৩/০২/১৯৫৯ ইং তারিখে দোতরফা সোলেসূত্রে ৯৫ শতাংশ জমি আমার পিতা এসমাইল মল্লিক প্রাপ্ত হন। উক্ত জমি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে আমরা মালিক।
একত্র ১১৯ নং খতিয়ানে সোনাবানের প্রাপ্ত হালট বাদে ১ একর ৯৭ শতাংশ জমি। কিন্তু আমাদের ভুল দুভাইয়া ২ একর ১৬.৫০ শতাংশ জমি দলিল দেয় প্রতিপক্ষ মামুনের পিতা হালিম মল্লিক। উল্লেখ্যে প্রতিশব্দের পূর্ববর্তী ওয়ারিশদের হতে আমাদের ক্রয়কৃত জমি ৩৮২৭/৪৮ নং দলিলে ১ একর ৫৪ শতাংশ আমি, ১১৪০/৮৮ নং দলিলে ১ একর ১৭ শতাংশ, ৮৫৯/৯০ নং দলিলে ৯৭ শতাংশ ও ৮৩২/০৯ নং দলিলে ২.৫০ (আড়াই) শতাংশ একুনে ৩ একর ৭০.৫০ শতাংশ এবং আমার পিতার নিজ নামে ৬৫ শতাংশ। অত্র এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানে মোট প্রাপ্ত ভূমি ৪ একর ৩৫.৫০ শতাংশ জমির মালিক থাকিয়া নামজারি করে সরকারী খাজনাদী পরিশোধ করে বর্তমান মাঠ জরীপে রেকর্ড সংশোধন পূর্বক আমরা ভোগদখলে আছি।
উল্লেখ্য যে, প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক গং এবং রতন রায় চৌধুরি দালাল নামক তার সঙ্গভঙ্গ নিয়ে জালা জালিয়াতির কাগজ পত্রের মাধ্যমে অতি গোপনে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালত-কে ভুল বুঝাইয়া ৩০০০(১)/২০২২-২৩ নং নামজারী করে রাখেন। আমি খাজনা দিতে গেলে জানিতে পারি প্রতিপক্ষের নামে একটি নামজারী নোট করা রয়েছে। পরবর্তীতে আমি উক্ত নামজারীর বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে ১৫০ ধারার বিধানমতে মিস কেস ১১৬/২০২৩-২৪ নং মামলা দায়ের করিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করিলে প্রতিপক্ষের নামজারী ভুয়া প্রতীয়মান হয় এবং ইং ৩০/০৭/২০২৪ তারিখে প্রতিপক্ষের কোন জমি না থাকায় নামজারী বাতিল হয়ে যায়। পরে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হইয়া আমাদের নামজারীর বিরুদ্ধে মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ নং দায়ের করেন। সেই মামলাও আমরা রায় প্রাপ্ত হই। উক্ত রায়ে উল্লেখ আছে, সরকারী অধিগ্রহনকৃত জমি বাদ দিয়ে অনলাইন নামজারী নেওয়ার আদেশ দেন। এরপরে পূনঃরায় আবারও হয়রানী করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ মামুন গাং ৩০/২০২৪-২৫ নং মিস কেস দায়ের করিলে উক্ত কেসে আমরা রায় প্রাপ্ত হই। এবং ৬৮/৮৭ নং দেওয়ানী মোকদ্দমায় তৎকালীন তর্কিত দলিল বাতিল হয় এবং ২৪৬২/৮৬ নং দলিল বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, সোনাবান এবং হালিম মল্লিক মিলে আমাকে দলিল দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়। আমার অনুপস্থিতে হালিম মল্লিক প্রতারণাপূর্বক তার নামে সোনাবান হইতে ২৪৬২/৮৬ নং দলিল করে নেয়। তখন আমি গ্রামে ছিলাম না। উল্লেখ্য যে, মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ নং মামলার আদেশ মোতাবেক নামজারীর আবেদন করিলে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী প্রকৃতির বিভিন্ন লোকজন নিয়া আমাকে সহ আমার পরিবারকে পথে ঘাটে খুন জখমের হুমকি ধামকি দেয় এবং অত্র অফিস কর্মচারীদের প্রতিপক্ষগনদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন আমরা করে। এভাবে একাধিকবার নামজারীর আবেদন করিলেও প্রতিপক্ষ যামুন মল্লিক গং ও রতন রায় চৌধুরি তার সঙ্গভঙ্গ ভয়ে নামজারীর আদেশ দিতে গড়িমশি করেন সহকারী কমিশনার ভূমি। এমনকি বিগত ইং ০৪/১২/২০২৪ তারিখে আমি ও আমার ছেলে ও বোন মরিয়ম এবং কনু বেগমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ মামুন গং উজিরপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ভিতরে বিচার কার্যক্রম চলাকালীন সময় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনার আমি উজিরপুর থানায় এ??? সাধারণ ডাইরী দায়ের করি। যার নন জি.আর নং- ০৩/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিপক্ষ মামুনের ভাই আল মাহামুদের নামে একাধিক মামলা থাকার পরও দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায়।
এই প্রতিপক্ষ মামুন ও তার ভাইরা মিলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে আসছে। আমার জমিজমা মামলার মোকদ্দমা পরিচালনার তদ্বিরকারক গনদেরকেও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী দ্বারা ছমকি প্রদর্শন করে। সর্বশেষ প্রতিপক্ষগন গত ১৮/০৯/২০২৫ তারিখ অনুমান বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় আমার নামজারীর প্রতিবেদন দেওয়ার কারণে উজিরপুর উপজেলার সার্ভেয়ার অফিসারকে হুমকি প্রদর্শন করে। পরে আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পাই। যাবার পথে আমাকে মামুন গং সন্ত্রাস বাহিনী নিয়া ভাড়া করে এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। এমনকি জাল জালিয়াতির ওয়ারিশ সনদ সৃজন করে হয়রানী মূলক অপরের সম্পত্তি রেকর্ড করার পায়তারা করে। এমন অনেক ঘটনা প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক গংদের বিরুদ্ধে রয়েছে।
মিউটিশন ৭২০/১৯৮৬-৮৭ নং নামজারীটি দেওয়ানী ৬৮/১৯৮৭ নং মোকদ্দমার বলে তখন বাতিল হয়। আমি জমিজমা সম্পর্কে অবুঝ হওয়ায় উক্ত নামজারীটি খতিয়ানে নোট করিতে সক্ষম হয়নি। মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ এর সংশোধনী মিস কেস ৩০/২০২৪-২৫ নং মোকদ্দমায় যাহা ৭২০/১৯৮৬-৮৭ নং নামজারী বাতিল হয় এবং ১৫১/২০২৩-২৪ মিস কেস ১৯/১১/২০২৪ ইং তারিখের শেষ আদেশে উল্লেখ্য আছে আমাদের দলিলকৃত জমি এবং পৈত্রিক ওয়ারিশী জমি ও দেওয়ানী ২১১/১৯৫৭নং ডিক্রীমূলে আফছের ওরফে আজাহার আলীর জমি সোলেসূত্রে ইসমাইল মল্লিক প্রাপ্ত হয়। সেই মোতাবেক অনলাইনে নামজারী আবেদন করিলে তহসিলদার সাহেব ও সার্ভেয়ার সাহেবসহ সকল অফিসারগন কাগজ পর্যালোচনা করে আমার নামজারীর প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ভূমি দস্যু মামুন মল্লিক গ্যাং তাহারা অন্যায়ভাবে আমিসহ আমার পরিবার পরিজনদের হুমকি প্রদানসহ খুন জখমের ঘটনা ঘটাইবার পায়তারা করিতেছে এবং নানা ভাবে বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষ গত ২১/০৯/২০২৫ইং তারিখে উজিরপুরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। যা স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। মূলত প্রতিপক্ষ ভূমি অফিসের রায়ের আদেশ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আদেশ না মানিয়া ঐ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
এমতাবস্থায় আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আমার প্রতিপক্ষ ভূমিদস্যু মামুন মল্লিক গ্যাং দ্বাল প্রানহানীর আশংকা করিতেছি। এ বিষয়ে উক্ত ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রশাসনের সহায়তায় এবং ভূমিদস মামুন মল্লিক কর্তৃক মিথ্যা সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।]

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার, ত্রিভুজ প্রেমের বলি?

উজিরপুরের ভূমিদস্যু মামুন মল্লিক গং দের বিরুদ্ধে ভুক্তভুগী এক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় ০৪:১০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মো. দেলোয়ার হোসেন মল্লিক (দুলাল) ৫২, পিতা- মৃত, ইসমাইল মল্লিক, গ্রাম-ইসলাদি, পোস্ট- ধামসর, থানা- উজিরপুর, জেলা- বরিশাল। অদ্য ২৩/০৯/২০২৫ইং দুপুর ১২ ঘটিকায় বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভা কক্ষে হাজির হাইয়া আমার প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক ভূমি দস্যু মব সন্ত্রাস বাহীনির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন করিতেছি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত আছেন আমি ও আমার ভূক্তভোগী পরিবার।
আমার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পতি নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে পার্শ্ববর্তী মাদারশি গ্রামের বাসিন্দা মৃত হালিম মল্লিকের ছেলে-মেয়ে সহ পরিবারের সদস্যরা। মো. আল মামুন মল্লিক ও তার ভাই আলামিন মল্লিক এবং আল মাহামুদ এবং বোন জিন্নাতুল নেছা উর্মি, খালেদা আক্তার, শামিমা আক্তার মা আলেয়া বেগম।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন মল্লিক বলেন, উজিরপুর উপজেলাধীন ৮৯ নং ইচলাদী মৌজার এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় সোনাবান তার সকল জমি গত ২৭/০৭/১৯৮৬ তারিখে তার পুত্র হালিম মল্লিককে ২ একর ৩৪ শতাংশ জমি ২৪৬২/৮৬ নং দলিলমূলে হস্তান্তর করেন। তবে তার প্রাপ্যর চেয়ে অতিরিক্ত ৩৩ শতাংশ জমি বেশি দলিলে দেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিকের পিতা হালিম মল্লিক উপরোক্ত ২৪৬২ নং দলিলমূলে মালিক থেকে গত ২১/০৪/৮৮ তারিখে ১১৪০ নং দলিলে ১ একর ১৭ শতাংশ ও গত ২৭/০২/১৯৯০ তারিখে ৮৫৯ নং দলিলমূলে ৯৭শতাংশ এবং গত ২২/০৩/২০০৯ তারিখে ৮৩২ নং দলিলে ২.৫০ (আড়াই) শতাংশ একুনে ২ একর সাড়ে ১৬ শতাংশ দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও নাসরিন সুলতানা ও মরিয়ম বেগম এবং দুধ মেহের বিবির কাছে জমি বিক্রি করেন। এবং রেকর্ডীয় এসমাইল মল্লিকের নিজ রেকর্ডীয় ৬৫ শতাংশ জমি পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে মালিক আমি সহ ৩ বোন।
অপরদিকে ৮৯ নং ইচলাদি মৌজায় সিএস ৮৯ তথা আরএস ২৬৩, এসএ ১৫৯ নং। সিএস খতিয়ানে রেকর্ডীয় বছির উদ্দিন ৮ আনা অংশের মালিক থাকিয়া তার মৃত্যুতে ১ পুত্র সেকেন্দার আলী (অবিবাহিত মৃত) ও ১ কন্যা সোনাবান বিবি ও ১ স্ত্রী নবাবজান বিবি। উক্ত সেকান্দার আলী (অবিবাহিত) মৃত্যুবরণ করিলে ওয়ারিশ থাকেন- ১ মাতা নবাবজান বিবি ও ১ বোন সোনাবান বিবি। উল্লেখিত নবাবজান বিবি তার স্বামীর স্বত্ব ও মৃত পুত্রের প্রাপ্ত অংশ থেকে গত ২৭/১২/১৯৪৮ তারিখে তিনি আমার পিতা ইসমাইল মল্লিকের নিকট ৩৮২৭/৪৮ নং হেবানামা দলিলমূলে ১ একর ৫৪ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন।
উক্ত দলিলমূলে আমার পিতার নামে এসএ রেকর্ড না হয়ে এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানে ভুলবসতক্রমে রেকর্ডীয় মালিক আফছের ওরফে আজাহার আলী, ধলু মল্লিক ও সোনাবান বিবির নামে রেকর্ড হয়। এই ভুল রেকর্ডের কারণে আমার পিতা ইসমাইল মল্লিক বাদী হয়ে মোকাম বরিশাল ১ম মুন্সেফী আদালতে দেওয়ানী ২১১/১৯৫৭নং মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন বিজ্ঞ আদালত গত ২৩/০২/১৯৫৯ ইং তারিখে দোতরফা সোলেসূত্রে ৯৫ শতাংশ জমি আমার পিতা এসমাইল মল্লিক প্রাপ্ত হন। উক্ত জমি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে আমরা মালিক।
একত্র ১১৯ নং খতিয়ানে সোনাবানের প্রাপ্ত হালট বাদে ১ একর ৯৭ শতাংশ জমি। কিন্তু আমাদের ভুল দুভাইয়া ২ একর ১৬.৫০ শতাংশ জমি দলিল দেয় প্রতিপক্ষ মামুনের পিতা হালিম মল্লিক। উল্লেখ্যে প্রতিশব্দের পূর্ববর্তী ওয়ারিশদের হতে আমাদের ক্রয়কৃত জমি ৩৮২৭/৪৮ নং দলিলে ১ একর ৫৪ শতাংশ আমি, ১১৪০/৮৮ নং দলিলে ১ একর ১৭ শতাংশ, ৮৫৯/৯০ নং দলিলে ৯৭ শতাংশ ও ৮৩২/০৯ নং দলিলে ২.৫০ (আড়াই) শতাংশ একুনে ৩ একর ৭০.৫০ শতাংশ এবং আমার পিতার নিজ নামে ৬৫ শতাংশ। অত্র এসএ ১৫৯ নং খতিয়ানে মোট প্রাপ্ত ভূমি ৪ একর ৩৫.৫০ শতাংশ জমির মালিক থাকিয়া নামজারি করে সরকারী খাজনাদী পরিশোধ করে বর্তমান মাঠ জরীপে রেকর্ড সংশোধন পূর্বক আমরা ভোগদখলে আছি।
উল্লেখ্য যে, প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক গং এবং রতন রায় চৌধুরি দালাল নামক তার সঙ্গভঙ্গ নিয়ে জালা জালিয়াতির কাগজ পত্রের মাধ্যমে অতি গোপনে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালত-কে ভুল বুঝাইয়া ৩০০০(১)/২০২২-২৩ নং নামজারী করে রাখেন। আমি খাজনা দিতে গেলে জানিতে পারি প্রতিপক্ষের নামে একটি নামজারী নোট করা রয়েছে। পরবর্তীতে আমি উক্ত নামজারীর বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে ১৫০ ধারার বিধানমতে মিস কেস ১১৬/২০২৩-২৪ নং মামলা দায়ের করিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করিলে প্রতিপক্ষের নামজারী ভুয়া প্রতীয়মান হয় এবং ইং ৩০/০৭/২০২৪ তারিখে প্রতিপক্ষের কোন জমি না থাকায় নামজারী বাতিল হয়ে যায়। পরে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হইয়া আমাদের নামজারীর বিরুদ্ধে মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ নং দায়ের করেন। সেই মামলাও আমরা রায় প্রাপ্ত হই। উক্ত রায়ে উল্লেখ আছে, সরকারী অধিগ্রহনকৃত জমি বাদ দিয়ে অনলাইন নামজারী নেওয়ার আদেশ দেন। এরপরে পূনঃরায় আবারও হয়রানী করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ মামুন গাং ৩০/২০২৪-২৫ নং মিস কেস দায়ের করিলে উক্ত কেসে আমরা রায় প্রাপ্ত হই। এবং ৬৮/৮৭ নং দেওয়ানী মোকদ্দমায় তৎকালীন তর্কিত দলিল বাতিল হয় এবং ২৪৬২/৮৬ নং দলিল বহাল থাকে।
উল্লেখ্য যে, সোনাবান এবং হালিম মল্লিক মিলে আমাকে দলিল দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়। আমার অনুপস্থিতে হালিম মল্লিক প্রতারণাপূর্বক তার নামে সোনাবান হইতে ২৪৬২/৮৬ নং দলিল করে নেয়। তখন আমি গ্রামে ছিলাম না। উল্লেখ্য যে, মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ নং মামলার আদেশ মোতাবেক নামজারীর আবেদন করিলে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী প্রকৃতির বিভিন্ন লোকজন নিয়া আমাকে সহ আমার পরিবারকে পথে ঘাটে খুন জখমের হুমকি ধামকি দেয় এবং অত্র অফিস কর্মচারীদের প্রতিপক্ষগনদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়া ভয়ভীতি প্রদর্শন আমরা করে। এভাবে একাধিকবার নামজারীর আবেদন করিলেও প্রতিপক্ষ যামুন মল্লিক গং ও রতন রায় চৌধুরি তার সঙ্গভঙ্গ ভয়ে নামজারীর আদেশ দিতে গড়িমশি করেন সহকারী কমিশনার ভূমি। এমনকি বিগত ইং ০৪/১২/২০২৪ তারিখে আমি ও আমার ছেলে ও বোন মরিয়ম এবং কনু বেগমকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ মামুন গং উজিরপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ভিতরে বিচার কার্যক্রম চলাকালীন সময় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনার আমি উজিরপুর থানায় এ??? সাধারণ ডাইরী দায়ের করি। যার নন জি.আর নং- ০৩/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিপক্ষ মামুনের ভাই আল মাহামুদের নামে একাধিক মামলা থাকার পরও দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যায়।
এই প্রতিপক্ষ মামুন ও তার ভাইরা মিলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে আসছে। আমার জমিজমা মামলার মোকদ্দমা পরিচালনার তদ্বিরকারক গনদেরকেও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী দ্বারা ছমকি প্রদর্শন করে। সর্বশেষ প্রতিপক্ষগন গত ১৮/০৯/২০২৫ তারিখ অনুমান বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় আমার নামজারীর প্রতিবেদন দেওয়ার কারণে উজিরপুর উপজেলার সার্ভেয়ার অফিসারকে হুমকি প্রদর্শন করে। পরে আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পাই। যাবার পথে আমাকে মামুন গং সন্ত্রাস বাহিনী নিয়া ভাড়া করে এবং মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। এমনকি জাল জালিয়াতির ওয়ারিশ সনদ সৃজন করে হয়রানী মূলক অপরের সম্পত্তি রেকর্ড করার পায়তারা করে। এমন অনেক ঘটনা প্রতিপক্ষ মামুন মল্লিক গংদের বিরুদ্ধে রয়েছে।
মিউটিশন ৭২০/১৯৮৬-৮৭ নং নামজারীটি দেওয়ানী ৬৮/১৯৮৭ নং মোকদ্দমার বলে তখন বাতিল হয়। আমি জমিজমা সম্পর্কে অবুঝ হওয়ায় উক্ত নামজারীটি খতিয়ানে নোট করিতে সক্ষম হয়নি। মিস কেস ১৫১/২০২৩-২৪ এর সংশোধনী মিস কেস ৩০/২০২৪-২৫ নং মোকদ্দমায় যাহা ৭২০/১৯৮৬-৮৭ নং নামজারী বাতিল হয় এবং ১৫১/২০২৩-২৪ মিস কেস ১৯/১১/২০২৪ ইং তারিখের শেষ আদেশে উল্লেখ্য আছে আমাদের দলিলকৃত জমি এবং পৈত্রিক ওয়ারিশী জমি ও দেওয়ানী ২১১/১৯৫৭নং ডিক্রীমূলে আফছের ওরফে আজাহার আলীর জমি সোলেসূত্রে ইসমাইল মল্লিক প্রাপ্ত হয়। সেই মোতাবেক অনলাইনে নামজারী আবেদন করিলে তহসিলদার সাহেব ও সার্ভেয়ার সাহেবসহ সকল অফিসারগন কাগজ পর্যালোচনা করে আমার নামজারীর প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ভূমি দস্যু মামুন মল্লিক গ্যাং তাহারা অন্যায়ভাবে আমিসহ আমার পরিবার পরিজনদের হুমকি প্রদানসহ খুন জখমের ঘটনা ঘটাইবার পায়তারা করিতেছে এবং নানা ভাবে বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রতিপক্ষ গত ২১/০৯/২০২৫ইং তারিখে উজিরপুরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। যা স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন। মূলত প্রতিপক্ষ ভূমি অফিসের রায়ের আদেশ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আদেশ না মানিয়া ঐ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
এমতাবস্থায় আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আমার প্রতিপক্ষ ভূমিদস্যু মামুন মল্লিক গ্যাং দ্বাল প্রানহানীর আশংকা করিতেছি। এ বিষয়ে উক্ত ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রশাসনের সহায়তায় এবং ভূমিদস মামুন মল্লিক কর্তৃক মিথ্যা সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।]