ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা বোরহানউদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, আহত ৩ হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ও স্থানীয় ভোট নিয়ে সিইসির সঙ্গে ১১-দলীয় জোটের বৈঠক এলজিইডির পিডি বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজিতে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ১১-দলীয় জোটের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করতে ১২ দফা নির্দেশনা মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ময়মনসিংহে সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কনস্টেবল থেকে কোটিপতি: গুলিবর্ষণ মামলার আসামি আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল এখনো পুলিশে বহাল তবিয়তে

সরকারি চাকরি মানেই নিরাপত্তা, নিয়মশৃঙ্খলা আর জনগণের সেবক হওয়ার দায়িত্ব। কিন্তু পুলিশের কনস্টেবল হয়েও কোটিপতির জীবনযাপন আর একের পর এক গুলিবর্ষণ মামলায় নাম উঠে আসা—এমন বৈপরীত্য নিয়েই আলোচনায় ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে কনস্টেবল আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল।

আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও রাজধানীতে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন তিনি। প্রথমে কর্মরত ছিলেন ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায়। কিন্তু সময়ের সাথে তার নাম জড়িয়ে পড়ে নানা বিতর্কে।
স্থানীয়রা বলছেন, কনস্টেবল হলেও তিনি দ্রুত সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসা—সবকিছুতে তার নাম শোনা যায়। অথচ তার অফিসিয়াল বেতন-ভাতা দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

যাত্রাবাড়ীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজলা ফুলের বক্স এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তিনি নির্বিচারে গুলি চালান। এতে বহু ছাত্র-জনতা আহত হন, আতঙ্কে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় একাধিকবার তার নাম উঠে আসে:
মামলা নং ৩৪ – আসামি নং ১৬৮: আব্দুর রশিদ মণ্ডল
মামলা নং ২৫ – আসামি নং ৪৪৪: আব্দুর রশিদ মণ্ডল
অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালানো মামলায় তিনি সরাসরি অভিযুক্ত।
সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক দলীয়করণ হয়। এর সুযোগে আব্দুর রশিদ রানা প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে কাজ করেন, এমনকি সরকারি চাকরিতে থেকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার প্রচারণা চালাতেও দ্বিধা করেননি।
এর ফলেই—গুলিবর্ষণ মামলার আসামি হয়েও তিনি পদে বহাল থেকেছেন।

বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের মতোই তিনি দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। থানার ভেতরে ও বাইরে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম উঠলেই প্রশ্ন জাগে—একজন নামীয় আসামি কীভাবে পুলিশে চাকরি চালিয়ে যেতে পারেন?
আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল কেবল একটি নাম নয়; তিনি প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা

কনস্টেবল থেকে কোটিপতি: গুলিবর্ষণ মামলার আসামি আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল এখনো পুলিশে বহাল তবিয়তে

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকারি চাকরি মানেই নিরাপত্তা, নিয়মশৃঙ্খলা আর জনগণের সেবক হওয়ার দায়িত্ব। কিন্তু পুলিশের কনস্টেবল হয়েও কোটিপতির জীবনযাপন আর একের পর এক গুলিবর্ষণ মামলায় নাম উঠে আসা—এমন বৈপরীত্য নিয়েই আলোচনায় ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে কনস্টেবল আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল।

আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডলের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও রাজধানীতে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন তিনি। প্রথমে কর্মরত ছিলেন ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানায়। কিন্তু সময়ের সাথে তার নাম জড়িয়ে পড়ে নানা বিতর্কে।
স্থানীয়রা বলছেন, কনস্টেবল হলেও তিনি দ্রুত সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসা—সবকিছুতে তার নাম শোনা যায়। অথচ তার অফিসিয়াল বেতন-ভাতা দিয়ে এসব সম্পদ অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

যাত্রাবাড়ীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজলা ফুলের বক্স এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তিনি নির্বিচারে গুলি চালান। এতে বহু ছাত্র-জনতা আহত হন, আতঙ্কে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় একাধিকবার তার নাম উঠে আসে:
মামলা নং ৩৪ – আসামি নং ১৬৮: আব্দুর রশিদ মণ্ডল
মামলা নং ২৫ – আসামি নং ৪৪৪: আব্দুর রশিদ মণ্ডল
অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে গুলি চালানো মামলায় তিনি সরাসরি অভিযুক্ত।
সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক দলীয়করণ হয়। এর সুযোগে আব্দুর রশিদ রানা প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে কাজ করেন, এমনকি সরকারি চাকরিতে থেকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়ার প্রচারণা চালাতেও দ্বিধা করেননি।
এর ফলেই—গুলিবর্ষণ মামলার আসামি হয়েও তিনি পদে বহাল থেকেছেন।

বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের মতোই তিনি দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। থানার ভেতরে ও বাইরে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম উঠলেই প্রশ্ন জাগে—একজন নামীয় আসামি কীভাবে পুলিশে চাকরি চালিয়ে যেতে পারেন?
আব্দুর রশিদ রানা মণ্ডল কেবল একটি নাম নয়; তিনি প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন।