ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাঃ লি প্রহরীরা বেতন না পেয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করা অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাইভেট লিমিটেডের  নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীরা মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী প্রহরীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে বেতন না দেওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে।
প্রহরীরা জানান, তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত কয়েক মাস ধরে বেতন পরিশোধ করছে না। এতে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি অনেকের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর কাকরাইলে দায়িত্বে থাকা এক প্রহরী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু বেতন নিয়মিত পাওয়া তো দূরের কথা, তিন মাস ধরে এক টাকাও পাইনি। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।”
উত্তরা সেক্টর ১৪ রোড ১৯, হাউজ-৫৮ এ কর্মরত আব্দুল কাদের কাদের বলেন আমি গত ৬ মাসের বেতন পাইনি, পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাদের কাছে বেতন চাইতে গেলেই হুমকি দেয়।
আব্দুল কাদেরের আরেক সহকর্মী নাসির উদ্দিন জানান আমার পরিবার না খেয়ে আছে তারা আমার ৪ মাসের বেতন দিচ্ছে না।
আরেকজন প্রহরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোম্পানি আমাদের দিয়ে কোটি টাকার চুক্তি করে, কিন্তু গার্ডদের ন্যায্য পাওনা দেয় না। আমরা কোথায় গিয়ে বিচার পাবো?”
অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রহরীদের বকেয়া বেতনের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দিচ্ছেন না। বরং বেতন চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়।
এ বিষয়ে অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাঃ লি.-এর কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী যেকোনো শ্রমিক বা কর্মচারীর বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত বেতন না দেওয়া শ্রমিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
শ্রম অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো কোম্পানি যদি গার্ড বা শ্রমিকদের সময়মতো বেতন দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা আইনের লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীরা চাইলে শ্রম আদালতে অভিযোগ করতে পারেন।”
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাঃ লি প্রহরীরা বেতন না পেয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

আপডেট সময় ০১:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করা অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাইভেট লিমিটেডের  নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীরা মাসের পর মাস বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী প্রহরীদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে বেতন না দেওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে।
প্রহরীরা জানান, তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত কয়েক মাস ধরে বেতন পরিশোধ করছে না। এতে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি অনেকের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর কাকরাইলে দায়িত্বে থাকা এক প্রহরী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ১২ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু বেতন নিয়মিত পাওয়া তো দূরের কথা, তিন মাস ধরে এক টাকাও পাইনি। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।”
উত্তরা সেক্টর ১৪ রোড ১৯, হাউজ-৫৮ এ কর্মরত আব্দুল কাদের কাদের বলেন আমি গত ৬ মাসের বেতন পাইনি, পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। তাদের কাছে বেতন চাইতে গেলেই হুমকি দেয়।
আব্দুল কাদেরের আরেক সহকর্মী নাসির উদ্দিন জানান আমার পরিবার না খেয়ে আছে তারা আমার ৪ মাসের বেতন দিচ্ছে না।
আরেকজন প্রহরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোম্পানি আমাদের দিয়ে কোটি টাকার চুক্তি করে, কিন্তু গার্ডদের ন্যায্য পাওনা দেয় না। আমরা কোথায় গিয়ে বিচার পাবো?”
অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রহরীদের বকেয়া বেতনের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দিচ্ছেন না। বরং বেতন চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়।
এ বিষয়ে অরবিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রাঃ লি.-এর কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী যেকোনো শ্রমিক বা কর্মচারীর বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত বেতন না দেওয়া শ্রমিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
শ্রম অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো কোম্পানি যদি গার্ড বা শ্রমিকদের সময়মতো বেতন দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা আইনের লঙ্ঘন। ভুক্তভোগীরা চাইলে শ্রম আদালতে অভিযোগ করতে পারেন।”
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।