ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ লালমনিরহাটের আদিতমারীতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে বিএনপির দোয়া মাহফিল কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে : নুরুল হক নুর একাত্তরে ভুল করা দলকে উসকানির রাজনীতি বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর, জামায়াত-গণঅধিকারের সংঘর্ষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার আবারও ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ৪৭ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসছে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’

স্কুলে যেতে রশি টানা নৌকাই একমাত্র ভরসা

  • রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় ০২:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬১২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার নওগাঁ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শিব নদী। এই নদী পারাপারে চালকবিহীন ছোট নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রায় ১০০ গজ দীর্ঘ এই নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত রশি টানা। নৌকার দুপাশে সেই রশি ধরে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা।

এই বিপজ্জনক পারাপারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। তবুও নিরুপায় হয়ে সন্তানদের এভাবেই বিদ্যালয়ে পাঠান অভিভাবকেরা।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যায়। অন্য সহপাঠীরা দ্রুত তার হাত ধরে ফেলায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিভাবকরা জানান, এই ধরনের ঘটনা এখানে নিত্যদিনের।

এদিন সকালে দেখা যায়, নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সহকারী শিক্ষক শিরিন আক্তারের সঙ্গে ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছে।

স্কুলছাত্র ফারুক বলে, একা একা নৌকায় নদী পার হতে ভয় লাগে। মাঝে গিয়ে স্রোতে নৌকা পূর্বদিকে চলে যায়, তখন রশি টেনে ধরে রাখতে কষ্ট হয়।
শিক্ষার্থী সম্পা খাতুন বলে, বৃষ্টির সময় পাড় থেকে নদীতে নামতে গিয়ে পড়ে যাই। অনেকে নৌকা থেকেও পড়ে যায়। বই-খাতা ভিজে যায়।

অভিভাবক নূরেসা বেগম বলেন, আমাদের সব সময় মনের মধ্যে উৎকণ্ঠা নিয়ে থাকতে হয়। আমাদের চোখের সামনেই গতকাল চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র নদীতে পড়ে গিয়েছিল।

আরেক অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুল যেতে এই নদী পারাপারের কারণে অনেকেই অন্য স্কুলে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেছেন। আমাদের দাবি, এখানে একটা ব্রিজ হলে চার-পাঁচ গ্রামের মানুষের উপকৃত হবে।

নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিন আক্তার বলেন, আমরা বড় মানুষই নৌকা নিয়ে নদী পার হতে ভয় পাই, ছোটদের কথা তো বলাই বাহুল্য। এখানে বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটি ভেঙে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এখানে একটি ব্রিজ হলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি কমবে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী কমে গেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে ২০০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রী ছিল, এখন তা কমে ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে তাদের সন্তানদের দূরের স্কুলে ভর্তি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জিলা সরদার বলেন, আগে এখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটি ভেঙে গেছে। এখন এই ছোট ডিঙি নৌকায় ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। এখানে একটি ব্রিজ হলে চার থেকে পাঁচ গ্রামের মানুষের অনেক উপকার হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ দু’নেতাকে অব্যাহতি: তৃণমূলে ক্ষোভ ও উত্তেজনা

স্কুলে যেতে রশি টানা নৌকাই একমাত্র ভরসা

আপডেট সময় ০২:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার নওগাঁ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শিব নদী। এই নদী পারাপারে চালকবিহীন ছোট নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রায় ১০০ গজ দীর্ঘ এই নদীর এপার থেকে ওপার পর্যন্ত রশি টানা। নৌকার দুপাশে সেই রশি ধরে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা।

এই বিপজ্জনক পারাপারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নৌকা থেকে পানিতে পড়ে যায়। তবুও নিরুপায় হয়ে সন্তানদের এভাবেই বিদ্যালয়ে পাঠান অভিভাবকেরা।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যায়। অন্য সহপাঠীরা দ্রুত তার হাত ধরে ফেলায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিভাবকরা জানান, এই ধরনের ঘটনা এখানে নিত্যদিনের।

এদিন সকালে দেখা যায়, নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সহকারী শিক্ষক শিরিন আক্তারের সঙ্গে ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছে।

স্কুলছাত্র ফারুক বলে, একা একা নৌকায় নদী পার হতে ভয় লাগে। মাঝে গিয়ে স্রোতে নৌকা পূর্বদিকে চলে যায়, তখন রশি টেনে ধরে রাখতে কষ্ট হয়।
শিক্ষার্থী সম্পা খাতুন বলে, বৃষ্টির সময় পাড় থেকে নদীতে নামতে গিয়ে পড়ে যাই। অনেকে নৌকা থেকেও পড়ে যায়। বই-খাতা ভিজে যায়।

অভিভাবক নূরেসা বেগম বলেন, আমাদের সব সময় মনের মধ্যে উৎকণ্ঠা নিয়ে থাকতে হয়। আমাদের চোখের সামনেই গতকাল চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র নদীতে পড়ে গিয়েছিল।

আরেক অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, স্কুল যেতে এই নদী পারাপারের কারণে অনেকেই অন্য স্কুলে ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেছেন। আমাদের দাবি, এখানে একটা ব্রিজ হলে চার-পাঁচ গ্রামের মানুষের উপকৃত হবে।

নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিন আক্তার বলেন, আমরা বড় মানুষই নৌকা নিয়ে নদী পার হতে ভয় পাই, ছোটদের কথা তো বলাই বাহুল্য। এখানে বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটি ভেঙে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এখানে একটি ব্রিজ হলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি কমবে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র নদী পারাপারের ঝুঁকির কারণে স্কুলের শিক্ষার্থী কমে গেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে ২০০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রী ছিল, এখন তা কমে ১১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে তাদের সন্তানদের দূরের স্কুলে ভর্তি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুঞ্জিলা সরদার বলেন, আগে এখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল, সেটি ভেঙে গেছে। এখন এই ছোট ডিঙি নৌকায় ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। এখানে একটি ব্রিজ হলে চার থেকে পাঁচ গ্রামের মানুষের অনেক উপকার হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।