ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত

নিয়োগ ছাড়াই ১৬ বছর সরকারি দপ্তরে চাকরি করছে বিকাশ মণ্ডল

স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি যে জেঁকে বসেছিল তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে অন্য সব দপ্তরের ন্যায় এই অফিসেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক রদবদল হয়।

কিন্তু তারপরেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই অফিসটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং যত দিন গড়াচ্ছে, তত এই অফিসটির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে।

এবার এমন একটি তথ্য-উপাত্ত সামনে এসেছে, যা শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। বরিশাল শহরের লঞ্চঘাটসংলগ্ন পোর্ট রোডের এই অফিসটিতে গত ১৬ বছর নিয়োগ ছাড়াই চাকরি করেন বিকাশ মণ্ডল নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি।

তার কাছেই থাকত অফিসের চাবি এবং তিনি দপ্তরের বিভিন্ন রুমে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতেন। ছদ্মবেশধারী এই ব্যক্তি সরকারিভাবে কোনো বেতন না পেলেও ঘুষের টাকায় মেটানো হতো তার চাহিদা।

আমাদের মাতৃভূমির অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বিকাশ মণ্ডলকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানী সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ মণ্ডল নামের এই ব্যক্তি শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন গোটা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস চষে বেড়াতেন এবং কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকে তাদের কাজে সহযোগিতা করাসহ সেবাগ্রহীতাদের সাথে কর্মকর্তাদের আর্থিক রফাদফা করিয়ে দিতেন। দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবিও থাকত তার কাছে। সর্বশেষ তিনি সদর উপজেলার সার্ভেয়ার আ স ম রাসেলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজ করছিলেন।

গত সপ্তাহে এই ব্যক্তিকে সেটেলমেন্ট অফিসের নিচ তলার রেকর্ড রুমের ভিতরে প্রবেশ করে নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখা যায়। এবং সেখান থেকে তিনি বের হয়ে সার্ভেয়ার রাসেলের রুমে প্রবেশ করে তার কাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ না করে বিকাশকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ নামের এই ব্যক্তি প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসে দালালি করতেন। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আইনসিদ্ধ নয় এমন কাজগুলো করিয়ে নিতেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শুরুর দিকে তিনি ছদ্মবেশে অফিসে ঢুকে পড়েন।

এরপর থেকে তিনি নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিতেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে ওঠাবসা করতেন। এবং একপর্যায়ে তিনি কর্মকর্তাদের অবৈধ উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠেন। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার প্রতি কর্মকর্তাদের সুনজরও দেখা যায়।

অভিযোগ আছে, বিকাশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হওয়ায় বিগত সময়ে তাকে নিয়ে অফিসের কেউ টু শব্দ করেনি। বরং তার সাথে সখ্যতা রেখে একাধিক কর্মকর্তা ব্যাপক অর্থকড়ি কামিয়েছেন; বিকাশও হয়েছেন ক্রোড়পতি। সার্ভেয়ার রাসেলও সবকিছু যেন শুনে অনুরূপ পদাঙ্ক অবলম্বন করতে চাইছিলেন। কিন্তু বিধি বাম!  অনুসন্ধান রাসেলের এই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

সার্ভেয়ার রাসেলের উপস্থিতিতে বিকাশের কাছে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেন। এবং তার বেতন কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার রাসেল বলেন, ‘বিকাশ নিয়োগ ছাড়া কাজ করেন—বিষয়টি আগের কর্মকর্তারাও জানতেন।’

এখন যারা আছেন তারাও জানেন এবং বিকাশের বেতন প্রকল্প করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। যখন সার্ভেয়ার রাসেলের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলোচনা চলছিল ঠিক তখনও বিকাশকে ফাইলপত্র সরবরাহ করতে দেখা যায়।

নিয়োগ ছাড়া বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি দপ্তরে ১৬ বছর ধরে কাজ করেন—এই বিষয়ে জানতে জোনাল সেটেলমেন্ট মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার নুরুল আমিন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে নতুন যোগদানের কথা জানিয়েছেন।

এবং বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা দুজন মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তবে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে যে দিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেদিনই ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

ছদ্মবেশী বিকাশ অফিসের কোনো ফাইলপত্র এদিক-সেদিক করেছেন কি না এবং তাকে অফিস করার অনুমতি কে দিয়েছেন—এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দুই কর্মকর্তার কেউ দিতে পারেননি। বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও বিকাশ বা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সার্ভেয়ার রাসেলের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি জোনাল সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে দপ্তরটির অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।

এই বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ কর্মচারীদের একটি অংশ বলছেন, কোনো প্রকার নিয়োগ ছাড়া একজন বহিরাগত কীভাবে সরকারি দপ্তরে কাজ করেন এবং তার পক্ষে সার্ভেয়ার রাসেল সাফাই গাইলেন—তা রীতিমতো সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। কিন্তু আরও অবাক করেছে, এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরেও অভিযুক্তকে আইনে সোপর্দ না করা।

তাদের ভাষায়, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু

নিয়োগ ছাড়াই ১৬ বছর সরকারি দপ্তরে চাকরি করছে বিকাশ মণ্ডল

আপডেট সময় ০১:২৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি দপ্তরসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি যে জেঁকে বসেছিল তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে অন্য সব দপ্তরের ন্যায় এই অফিসেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক রদবদল হয়।

কিন্তু তারপরেও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই অফিসটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। বরং যত দিন গড়াচ্ছে, তত এই অফিসটির অভ্যন্তরীণ অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসছে।

এবার এমন একটি তথ্য-উপাত্ত সামনে এসেছে, যা শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। বরিশাল শহরের লঞ্চঘাটসংলগ্ন পোর্ট রোডের এই অফিসটিতে গত ১৬ বছর নিয়োগ ছাড়াই চাকরি করেন বিকাশ মণ্ডল নামের ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি।

তার কাছেই থাকত অফিসের চাবি এবং তিনি দপ্তরের বিভিন্ন রুমে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতেন। ছদ্মবেশধারী এই ব্যক্তি সরকারিভাবে কোনো বেতন না পেলেও ঘুষের টাকায় মেটানো হতো তার চাহিদা।

আমাদের মাতৃভূমির অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বিকাশ মণ্ডলকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানী সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ মণ্ডল নামের এই ব্যক্তি শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন গোটা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস চষে বেড়াতেন এবং কর্মকর্তাদের কাছাকাছি থেকে তাদের কাজে সহযোগিতা করাসহ সেবাগ্রহীতাদের সাথে কর্মকর্তাদের আর্থিক রফাদফা করিয়ে দিতেন। দপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবিও থাকত তার কাছে। সর্বশেষ তিনি সদর উপজেলার সার্ভেয়ার আ স ম রাসেলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজ করছিলেন।

গত সপ্তাহে এই ব্যক্তিকে সেটেলমেন্ট অফিসের নিচ তলার রেকর্ড রুমের ভিতরে প্রবেশ করে নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে দেখা যায়। এবং সেখান থেকে তিনি বের হয়ে সার্ভেয়ার রাসেলের রুমে প্রবেশ করে তার কাজে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ না করে বিকাশকে কৌশলে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র জানিয়েছে, বিকাশ নামের এই ব্যক্তি প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসে দালালি করতেন। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আইনসিদ্ধ নয় এমন কাজগুলো করিয়ে নিতেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শুরুর দিকে তিনি ছদ্মবেশে অফিসে ঢুকে পড়েন।

এরপর থেকে তিনি নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিতেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে ওঠাবসা করতেন। এবং একপর্যায়ে তিনি কর্মকর্তাদের অবৈধ উপার্জনের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠেন। ফলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার প্রতি কর্মকর্তাদের সুনজরও দেখা যায়।

অভিযোগ আছে, বিকাশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হওয়ায় বিগত সময়ে তাকে নিয়ে অফিসের কেউ টু শব্দ করেনি। বরং তার সাথে সখ্যতা রেখে একাধিক কর্মকর্তা ব্যাপক অর্থকড়ি কামিয়েছেন; বিকাশও হয়েছেন ক্রোড়পতি। সার্ভেয়ার রাসেলও সবকিছু যেন শুনে অনুরূপ পদাঙ্ক অবলম্বন করতে চাইছিলেন। কিন্তু বিধি বাম!  অনুসন্ধান রাসেলের এই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

সার্ভেয়ার রাসেলের উপস্থিতিতে বিকাশের কাছে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে নিজেকে অফিস সহায়ক পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করেন। এবং তার বেতন কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার রাসেল বলেন, ‘বিকাশ নিয়োগ ছাড়া কাজ করেন—বিষয়টি আগের কর্মকর্তারাও জানতেন।’

এখন যারা আছেন তারাও জানেন এবং বিকাশের বেতন প্রকল্প করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। যখন সার্ভেয়ার রাসেলের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলোচনা চলছিল ঠিক তখনও বিকাশকে ফাইলপত্র সরবরাহ করতে দেখা যায়।

নিয়োগ ছাড়া বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি দপ্তরে ১৬ বছর ধরে কাজ করেন—এই বিষয়ে জানতে জোনাল সেটেলমেন্ট মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার নুরুল আমিন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয়ে নতুন যোগদানের কথা জানিয়েছেন।

এবং বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা দুজন মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তবে সংবাদকর্মীর মাধ্যমে যে দিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেদিনই ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

ছদ্মবেশী বিকাশ অফিসের কোনো ফাইলপত্র এদিক-সেদিক করেছেন কি না এবং তাকে অফিস করার অনুমতি কে দিয়েছেন—এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দুই কর্মকর্তার কেউ দিতে পারেননি। বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও বিকাশ বা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া সার্ভেয়ার রাসেলের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি জোনাল সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে দপ্তরটির অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।

এই বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধ কর্মচারীদের একটি অংশ বলছেন, কোনো প্রকার নিয়োগ ছাড়া একজন বহিরাগত কীভাবে সরকারি দপ্তরে কাজ করেন এবং তার পক্ষে সার্ভেয়ার রাসেল সাফাই গাইলেন—তা রীতিমতো সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। কিন্তু আরও অবাক করেছে, এই ছলচাতুরি ধরা পড়ার পরেও অভিযুক্তকে আইনে সোপর্দ না করা।

তাদের ভাষায়, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।