সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পবিপ্রবি’র হিট প্রজেক্টের দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত জন্মদিনের আনন্দের একদিন পরই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু মাদকমুক্ত ফুলবাড়ী উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে জনসচেতনামূলক শোভাযাত্রা ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৯ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না : প্রধানমন্ত্রী ৪২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে বাংলাদেশ এনবিআর কর্মকর্তা সম্পদের পাহাড় গড়ে হাজার কোটি টাকা লুট করে পালালেন শহিদুল যমুনা অয়েলে গণবদলি নিয়ে আলোচনা, তালিকায় নেই আওয়ামী পন্থী দেলোয়ার সিন্ডিকেট

এর চেয়ে জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখিনি: সামিনা লুৎফা

কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর চেয়ে আর কোনো জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা দেখিনি।

রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‌‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সামিনা লুৎফা বলেন, পুরো বছরজুড়ে যখন শ্রমিক, তথ্য আপা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তখন কিন্তু কাউকে আমরা কথা বলতে দেখিনি। এখন যেহেতু সরকারের উপদেষ্টারা নিন্দা জানাচ্ছেন, যেখানে তাদের দায় হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতে হবে।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, চব্বিশ ছিল কথা বলার স্বাধীনতা। কথা বলতে গিয়ে এখন মানুষ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্টের পর নিজেদের ক্ষমতায়িত মনে করছে একটি গোষ্ঠী, দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকোচন দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই বলি দেশের ঘাড়ে আসলে ভূত চেপেছে। এই ভূত আমাদের সরাতে হবে।
এই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। সময় তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সভা করতে গিয়ে হামলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা হামলা করেছে, বুয়েটের ছাত্রদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই চরিত্র আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা। সভায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের কাজী মারুফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী

এর চেয়ে জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখিনি: সামিনা লুৎফা

আপডেট সময় ০৮:০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর চেয়ে আর কোনো জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা দেখিনি।

রোববার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‌‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সামিনা লুৎফা বলেন, পুরো বছরজুড়ে যখন শ্রমিক, তথ্য আপা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে তখন কিন্তু কাউকে আমরা কথা বলতে দেখিনি। এখন যেহেতু সরকারের উপদেষ্টারা নিন্দা জানাচ্ছেন, যেখানে তাদের দায় হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা। সেটা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় তাদের নিতে হবে।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, চব্বিশ ছিল কথা বলার স্বাধীনতা। কথা বলতে গিয়ে এখন মানুষ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্টের পর নিজেদের ক্ষমতায়িত মনে করছে একটি গোষ্ঠী, দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মতপ্রকাশের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকোচন দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই বলি দেশের ঘাড়ে আসলে ভূত চেপেছে। এই ভূত আমাদের সরাতে হবে।
এই সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। সময় তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সভা করতে গিয়ে হামলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা বিধানে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা হামলা করেছে, বুয়েটের ছাত্রদের ওপর যেভাবে আক্রমণ হয়েছে, সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এই চরিত্র আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা। সভায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের কাজী মারুফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজলী সেহরীন ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মার্জিয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন।