সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

রোনালদোকে কান্নায় ভাসিয়ে আফ্রিকান রূপকথা লিখল মরক্কো

মরোক্কানরা তখন এক গোলে এগিয়ে। বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে আক্রমণের পর আক্রমণ করেই যাচ্ছে পর্তুগাল। পেপের একটা হেডার বেরিয়ে গেল পোস্ট ঘেঁষে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ পর্তুগিজদের আফসোসটা চোখেমুখে ফুটে উঠছিল, সমতা ফেরানোর মোক্ষম সুযোগটা যে বেরিয়ে গেল হাত ফসকে!

সেই সমতা আর ফেরাতে পারেনি পর্তুগাল। ১-০ গোলে জিতে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কো। তাতেই বিশ্বকাপে আফ্রিকান রূপকথা লিখল মরোক্কানরা। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া হয়ে গেছে তাদের।

তবে বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল মরক্কো। প্রতি আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত রাখছিল পর্তুগালকে। প্রথমার্ধে গোলটাও পেয়ে গেল সেই এক প্রতি আক্রমণ থেকেই। আতিয়াত-আল্লাহর দারুণ এক ক্রস দেখে দারুণভাবে লাফিয়ে ওঠেন ইউসেফ এন-নেসিরি। সেই এক লাফে পর্তুগিজ রক্ষণকে ফেললেন নিচে, গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তার আগে বলের নাগাল পেলেন, মাথা ছোঁয়ালেন, সেই এক গোলই পর্তুগালকে স্তব্ধ করে এগিয়ে দিলো মরক্কানদের।

দ্বিতীয়ার্ধে সময় যত গড়াচ্ছিল, পর্তুগিজদের মেজাজও যেন চড়ে যাচ্ছিল। শুরুর অর্ধে ক্রসবারের বাঁধায় গোলের দেখা না পাওয়া ব্রুনো ফের্নান্দেস যখন বিরতির পরেও একটা দারুণ সুযোগ নষ্ট করলেন, তখন নিজেকেই যেন দশটা গাল দিচ্ছিলেন। এই দৃশ্যটা ছিল পুরো পর্তুগালেরই প্রতিচ্ছবি।

তা হয়নি, তাই পর্তুগালকে ধরতে হয়েছে বাড়ির পথ। ম্যাচ শেষে খুব বেশিক্ষণ মাঠে থাকেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে যাওয়ার সময় চোখের কান্না মুছতে মুছতে বেরিয়েছেন টানেল দিয়ে। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নটার ইতি যে ঘটে গেছে এখানেই!

নিজেদের ইতিহাসে এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে হারল পর্তুগাল। তাদের হারিয়েছে যারা, সেই মরক্কো ইতিহাসও গড়ে ফেলেছে রীতিমতো। এর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে চারটি আফ্রিকান দল, কিন্তু শেষ চারের চৌকাঠ মারানো হয়নি কারোই।

তবে মরক্কানরা এখানেই যে থামতে চাইবে না, তা আর বলতে। ইংল্যান্ড বা ফ্রান্স, যে-ই আসুক সেমিফাইনালে, ক্রোয়েশিয়াকে রুখে দেওয়া, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগালের মতো গোলিয়াথদের হারানো ‘কিং স্লেয়ার ডেভিড’ মরক্কো যে ছেড়ে কথা বলবে না কাউকেই!

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

রোনালদোকে কান্নায় ভাসিয়ে আফ্রিকান রূপকথা লিখল মরক্কো

আপডেট সময় ১০:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২২

মরোক্কানরা তখন এক গোলে এগিয়ে। বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে আক্রমণের পর আক্রমণ করেই যাচ্ছে পর্তুগাল। পেপের একটা হেডার বেরিয়ে গেল পোস্ট ঘেঁষে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ পর্তুগিজদের আফসোসটা চোখেমুখে ফুটে উঠছিল, সমতা ফেরানোর মোক্ষম সুযোগটা যে বেরিয়ে গেল হাত ফসকে!

সেই সমতা আর ফেরাতে পারেনি পর্তুগাল। ১-০ গোলে জিতে শেষ হাসি হেসেছে মরক্কো। তাতেই বিশ্বকাপে আফ্রিকান রূপকথা লিখল মরোক্কানরা। প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া হয়ে গেছে তাদের।

তবে বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল মরক্কো। প্রতি আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত রাখছিল পর্তুগালকে। প্রথমার্ধে গোলটাও পেয়ে গেল সেই এক প্রতি আক্রমণ থেকেই। আতিয়াত-আল্লাহর দারুণ এক ক্রস দেখে দারুণভাবে লাফিয়ে ওঠেন ইউসেফ এন-নেসিরি। সেই এক লাফে পর্তুগিজ রক্ষণকে ফেললেন নিচে, গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তার আগে বলের নাগাল পেলেন, মাথা ছোঁয়ালেন, সেই এক গোলই পর্তুগালকে স্তব্ধ করে এগিয়ে দিলো মরক্কানদের।

দ্বিতীয়ার্ধে সময় যত গড়াচ্ছিল, পর্তুগিজদের মেজাজও যেন চড়ে যাচ্ছিল। শুরুর অর্ধে ক্রসবারের বাঁধায় গোলের দেখা না পাওয়া ব্রুনো ফের্নান্দেস যখন বিরতির পরেও একটা দারুণ সুযোগ নষ্ট করলেন, তখন নিজেকেই যেন দশটা গাল দিচ্ছিলেন। এই দৃশ্যটা ছিল পুরো পর্তুগালেরই প্রতিচ্ছবি।

তা হয়নি, তাই পর্তুগালকে ধরতে হয়েছে বাড়ির পথ। ম্যাচ শেষে খুব বেশিক্ষণ মাঠে থাকেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে যাওয়ার সময় চোখের কান্না মুছতে মুছতে বেরিয়েছেন টানেল দিয়ে। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নটার ইতি যে ঘটে গেছে এখানেই!

নিজেদের ইতিহাসে এই প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে হারল পর্তুগাল। তাদের হারিয়েছে যারা, সেই মরক্কো ইতিহাসও গড়ে ফেলেছে রীতিমতো। এর আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে চারটি আফ্রিকান দল, কিন্তু শেষ চারের চৌকাঠ মারানো হয়নি কারোই।

তবে মরক্কানরা এখানেই যে থামতে চাইবে না, তা আর বলতে। ইংল্যান্ড বা ফ্রান্স, যে-ই আসুক সেমিফাইনালে, ক্রোয়েশিয়াকে রুখে দেওয়া, বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগালের মতো গোলিয়াথদের হারানো ‘কিং স্লেয়ার ডেভিড’ মরক্কো যে ছেড়ে কথা বলবে না কাউকেই!