ঢাকা ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঘোষণাপত্রে বিএনপি-এনসিপিকে সন্তুষ্ট করা হয়েছে, দাবি বিশ্লেষকদের

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ছবি: পিআইডি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশেষ করে বিএনপি ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সন্তুষ্ট করার প্রবল চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্র মূলত অভ্যুত্থানকারীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও তা সাম্প্রতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর মধ্যে নতুন কিছু নেই। প্রথাগত আওয়ামী বিরোধিতা আছে। বিএনপিকে সন্তুষ্ট করার জন্য এক-এগারো সরকারকে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা বলেছে।’

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেকজন অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপি ও এনসিপির বিষয়টি যেভাবে এসেছে অন্যান্য শক্তিগুলোর ভূমিকা সেভাবে আসেনি।’

তবে রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মামুন আল মোস্তফা বলেন, ‘এনসিপি নামে কোনো সংগঠন আন্দোলনে ছিল না। যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য, কেউ কেউ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। পরে তাদের একাংশ এনসিপি গঠন করেছেন।’

‘প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে গত এক বছরে নারী ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত ঘটনা, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেসব উদাহরণ দেখা গেছে—তা এই ঘোষণাপত্রের ভাষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নীতি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে’, বলেন ড. মামুন।

অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘এই ঘোষণাপত্র নির্মোহভাবে লেখা হয়নি। এতে শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদ বলা হলেও, দেশে ফ্যাসিবাদী চর্চা তার আগেও ছিল, বিশেষত সামরিক শাসনের সময়। ১৯৭৫-৯০ সময়কাল এবং আগের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা যদি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হতো তাহলে এই ঘোষণাপত্রে নির্মোহতা বজায় থাকত।’

ঘোষণাপত্রের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘জুলাই বিদ্রোহ ছিল আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য একটি বিশাল সাফল্য। অবশ্য এদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল ভিন্ন ভিন্ন—বাম, মধ্যপন্থী, ডান এবং চরম ডানপন্থী। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা জনগণকে জানিয়ে দিল যে, তারা কেবল আওয়ামী-বিরোধিতার বাইরেও একটি যৌথ রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই স্বীকৃতির তাৎপর্য মূলত প্রতীকী।’

‘তবে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয়ভাবেই, এই বিদ্রোহের সুফল তারা উপভোগ করছে—যেমনটা এর আগের আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে নিজেদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক লাভ তুলেছিল।’

‘স্বল্পমেয়াদে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে—এটাই সম্ভবত অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ তাদের দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দেওয়ার চিন্তা করছে, যা তাদের দেশের ভেতর ও বাইরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আবার, বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, দায়মুক্তি খুব একটা টেকে না।’ বলছিলেন অধ্যাপক মামুন।

রাজনীতি বিশ্লেষক সাইমন মহসীন মনে করেন, ‘এই ঘোষণায় প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনগত সংস্কারের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই। এটি সংস্কারের রূপরেখার চেয়ে বেশি করে একটি আবেগনির্ভর দলিল, যার মূল উদ্দেশ্য জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের জন্য নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও এর নেতৃত্বকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে যেন তারা ভবিষ্যতে কোনো আইনি বা সাংবিধানিক তদন্তের আওতার বাইরে থাকেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্রের শেষের দিকে বলেছেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা মনে করেন, এই প্রতিশ্রুতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দিতে পারেন না, তিনি কেবল আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারেন। এই নিশ্চয়তা দিতে পারে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং এদেশের মানুষ।

এই জুলাই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে ড. মামুন বলেন, ‘রাজনীতি সবার মধ্য দিয়ে করে আনার বিষয়। কোনো একজন মহানায়ক ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।’

‘অধ্যাপক ইউনূস যত মহান ব্যক্তিই হন, তার যত ইচ্ছাই থাকুক; রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের আচরণগত পরিবর্তন দরকার। সেটার জন্য কোনো ঘোষণাপত্র দিয়েই সেটি সম্ভব নয়,’ বলে মনে করেন তিনি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

ঘোষণাপত্রে বিএনপি-এনসিপিকে সন্তুষ্ট করা হয়েছে, দাবি বিশ্লেষকদের

আপডেট সময় ১১:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ছবি: পিআইডি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিশেষ করে বিএনপি ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সন্তুষ্ট করার প্রবল চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘোষণাপত্র মূলত অভ্যুত্থানকারীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হলেও তা সাম্প্রতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এর মধ্যে নতুন কিছু নেই। প্রথাগত আওয়ামী বিরোধিতা আছে। বিএনপিকে সন্তুষ্ট করার জন্য এক-এগারো সরকারকে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা বলেছে।’

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেকজন অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিএনপি ও এনসিপির বিষয়টি যেভাবে এসেছে অন্যান্য শক্তিগুলোর ভূমিকা সেভাবে আসেনি।’

তবে রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মামুন আল মোস্তফা বলেন, ‘এনসিপি নামে কোনো সংগঠন আন্দোলনে ছিল না। যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য, কেউ কেউ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। পরে তাদের একাংশ এনসিপি গঠন করেছেন।’

‘প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তবে গত এক বছরে নারী ও সংখ্যালঘু নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত ঘটনা, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেসব উদাহরণ দেখা গেছে—তা এই ঘোষণাপত্রের ভাষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নীতি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে’, বলেন ড. মামুন।

অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘এই ঘোষণাপত্র নির্মোহভাবে লেখা হয়নি। এতে শেখ হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদ বলা হলেও, দেশে ফ্যাসিবাদী চর্চা তার আগেও ছিল, বিশেষত সামরিক শাসনের সময়। ১৯৭৫-৯০ সময়কাল এবং আগের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা যদি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হতো তাহলে এই ঘোষণাপত্রে নির্মোহতা বজায় থাকত।’

ঘোষণাপত্রের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘জুলাই বিদ্রোহ ছিল আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য একটি বিশাল সাফল্য। অবশ্য এদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল ভিন্ন ভিন্ন—বাম, মধ্যপন্থী, ডান এবং চরম ডানপন্থী। এই ঘোষণার মাধ্যমে তারা জনগণকে জানিয়ে দিল যে, তারা কেবল আওয়ামী-বিরোধিতার বাইরেও একটি যৌথ রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই স্বীকৃতির তাৎপর্য মূলত প্রতীকী।’

‘তবে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয়ভাবেই, এই বিদ্রোহের সুফল তারা উপভোগ করছে—যেমনটা এর আগের আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে নিজেদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক লাভ তুলেছিল।’

‘স্বল্পমেয়াদে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে—এটাই সম্ভবত অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ তাদের দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দেওয়ার চিন্তা করছে, যা তাদের দেশের ভেতর ও বাইরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আবার, বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, দায়মুক্তি খুব একটা টেকে না।’ বলছিলেন অধ্যাপক মামুন।

রাজনীতি বিশ্লেষক সাইমন মহসীন মনে করেন, ‘এই ঘোষণায় প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনগত সংস্কারের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই। এটি সংস্কারের রূপরেখার চেয়ে বেশি করে একটি আবেগনির্ভর দলিল, যার মূল উদ্দেশ্য জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের জন্য নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও এর নেতৃত্বকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে যেন তারা ভবিষ্যতে কোনো আইনি বা সাংবিধানিক তদন্তের আওতার বাইরে থাকেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদার সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্রের শেষের দিকে বলেছেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

অধ্যাপক মামুন আল মোস্তফা মনে করেন, এই প্রতিশ্রুতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দিতে পারেন না, তিনি কেবল আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারেন। এই নিশ্চয়তা দিতে পারে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং এদেশের মানুষ।

এই জুলাই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে ড. মামুন বলেন, ‘রাজনীতি সবার মধ্য দিয়ে করে আনার বিষয়। কোনো একজন মহানায়ক ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।’

‘অধ্যাপক ইউনূস যত মহান ব্যক্তিই হন, তার যত ইচ্ছাই থাকুক; রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের আচরণগত পরিবর্তন দরকার। সেটার জন্য কোনো ঘোষণাপত্র দিয়েই সেটি সম্ভব নয়,’ বলে মনে করেন তিনি।