ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডেমরায় বাড়ি থেকে ২ বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার জাপানে ভারি বৃষ্টিতে ৮ জনের মৃত্যু, টোকিও বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী মোংলা নদীতে দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ হবে : নৌপরিবহনমন্ত্রী যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না: রিজভী শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে; কালিহাতীতে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

সেদিন রাস্তায় নেমেছিল গণমুক্তির মহামিছিল

৫ আগস্ট ২০২৪। ক্ষোভ আর প্রতিবাদ নিয়ে সেদিন রাস্তায় নেমেছিল সব শ্রেণি-পেশার লাখো-কোটি জনতা। তারা নেমেছিল সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের কবর দিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে মুক্তির আনন্দ দিতে। মুক্তির মিছিল না করে সেদিন ঘরে না ফেরার প্রতিজ্ঞাও ছিল তাদের। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই গণমুক্তির মহামিছিল করতে পেরেছে মুক্তিপাগল জনতা। সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক আর অলিগলিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক করেছিল।

টানা সাড়ে ১৫ বছর জাতির কাঁধে চেপে বসেছিল এক জগদ্দল পাথর। আর তার মূল কারিগর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা, যিনি বিনা ভোটে অবৈধভাবে ক্ষমতার মসনদ দখল করে স্বাধীন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের বিরোধী রাজনীতিকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিজের স্বৈরশাসন টেনে নিয়েছিলেন দেড় দশকেরও বেশি সময়। তাকে সরিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলন করেও ব্যর্থ হয় রাজনৈতিক দলগুলো। অবশেষে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে চব্বিশের জুলাইতে মাঠে নামে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা। যৌক্তিক দাবি আদায়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে স্বৈরশাসক হাসিনা নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় তার পেটুয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত পুলিশসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রথমে রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। আবু সাঈদ শহীদ হলে মানুষের ক্ষোভের অনল ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও মিছিল-মিটিং করে সরকার পতনের দিকে হাঁটতে থাকে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাত্র-আন্দোলনে পুরোপুরি একাত্মতা জানায়। দল দুটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির তাদের সর্বোচ্চ মেধা ও পরিকল্পনা নিয়ে রাজপথে নামে। বলতে গেলে ছাত্রদের আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যায় ছাত্রদল ও শিবির। এ দুটি ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি আওয়ামী বিরোধী মতের অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করে; আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ে; বাড়ে লাশের সংখ্যাও। তবুও থামেন না রক্তপিপাসু হাসিনা। তার এমন মনোভাব যেন রক্তের ওপর দিয়েই তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। জনতাও তার এমন স্বৈরাচারী মনোভাবের জবাব দিতে থাকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে। ছাত্ররা ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের। অসহযোগ সফলতার পর ছাত্ররা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দেন। সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার ডাক দেন ছাত্ররা। সরকারের দমন-পীড়ন আরও বাড়তে থাকে। তবু মানুষকে ঘরে বন্দি করে রাখায় যায়নি। ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজপথে লোকসমাগম খুব বেশি দেখা যায়নি। তবে ১২টার পর থেকে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে যায়। রাজধানীর সব সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে ছাত্র-জনতার মিছিল গণভবনের দিকে এগোতে থাকে। ছাত্র-জনতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন ঘিরে ফেলার জন্য এগিয়ে আসছে—এমন সংবাদ পেয়ে আর টিকতে পারলেন না ফ্যাসিস্ট হাসিনা। তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা সেনাপ্রধানের বেঁধে দেওয়া মাত্র ৪৫ মিনিটে প্রস্তুতি নিয়ে পালিয়ে চলে যান প্রতিবেশী দেশ ভারতে। হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ মুহূর্তেই বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তির আনন্দে ভাসতে থাকে পুরো জাতি। এমনকি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও আনন্দন মিছিল বের করেন।

সেই থেকে এখনো হাসিনাবিরোধী মিছিল-মিটিং চলছে। এসব মিছিল-মিটিং থেকে দেশ গঠনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আর সুযোগ না দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের সুতোয় স্বপ্ন বুনে বিশ্বজয়ের পথে উইন্ডি গ্রুপ

সেদিন রাস্তায় নেমেছিল গণমুক্তির মহামিছিল

আপডেট সময় ১১:২১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

৫ আগস্ট ২০২৪। ক্ষোভ আর প্রতিবাদ নিয়ে সেদিন রাস্তায় নেমেছিল সব শ্রেণি-পেশার লাখো-কোটি জনতা। তারা নেমেছিল সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের কবর দিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে মুক্তির আনন্দ দিতে। মুক্তির মিছিল না করে সেদিন ঘরে না ফেরার প্রতিজ্ঞাও ছিল তাদের। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই গণমুক্তির মহামিছিল করতে পেরেছে মুক্তিপাগল জনতা। সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক আর অলিগলিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক করেছিল।

টানা সাড়ে ১৫ বছর জাতির কাঁধে চেপে বসেছিল এক জগদ্দল পাথর। আর তার মূল কারিগর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা, যিনি বিনা ভোটে অবৈধভাবে ক্ষমতার মসনদ দখল করে স্বাধীন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের বিরোধী রাজনীতিকে দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিজের স্বৈরশাসন টেনে নিয়েছিলেন দেড় দশকেরও বেশি সময়। তাকে সরিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলন করেও ব্যর্থ হয় রাজনৈতিক দলগুলো। অবশেষে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে চব্বিশের জুলাইতে মাঠে নামে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা। যৌক্তিক দাবি আদায়ে ছাত্র-জনতার মিছিলে স্বৈরশাসক হাসিনা নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় তার পেটুয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত পুলিশসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রথমে রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। আবু সাঈদ শহীদ হলে মানুষের ক্ষোভের অনল ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও মিছিল-মিটিং করে সরকার পতনের দিকে হাঁটতে থাকে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাত্র-আন্দোলনে পুরোপুরি একাত্মতা জানায়। দল দুটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির তাদের সর্বোচ্চ মেধা ও পরিকল্পনা নিয়ে রাজপথে নামে। বলতে গেলে ছাত্রদের আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যায় ছাত্রদল ও শিবির। এ দুটি ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি আওয়ামী বিরোধী মতের অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোও আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করে; আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ে; বাড়ে লাশের সংখ্যাও। তবুও থামেন না রক্তপিপাসু হাসিনা। তার এমন মনোভাব যেন রক্তের ওপর দিয়েই তাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। জনতাও তার এমন স্বৈরাচারী মনোভাবের জবাব দিতে থাকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে। ছাত্ররা ডাক দেন অসহযোগ আন্দোলনের। অসহযোগ সফলতার পর ছাত্ররা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দেন। সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার ডাক দেন ছাত্ররা। সরকারের দমন-পীড়ন আরও বাড়তে থাকে। তবু মানুষকে ঘরে বন্দি করে রাখায় যায়নি। ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজপথে লোকসমাগম খুব বেশি দেখা যায়নি। তবে ১২টার পর থেকে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে যায়। রাজধানীর সব সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে ছাত্র-জনতার মিছিল গণভবনের দিকে এগোতে থাকে। ছাত্র-জনতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন ঘিরে ফেলার জন্য এগিয়ে আসছে—এমন সংবাদ পেয়ে আর টিকতে পারলেন না ফ্যাসিস্ট হাসিনা। তিনি ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা সেনাপ্রধানের বেঁধে দেওয়া মাত্র ৪৫ মিনিটে প্রস্তুতি নিয়ে পালিয়ে চলে যান প্রতিবেশী দেশ ভারতে। হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সংবাদ মুহূর্তেই বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তির আনন্দে ভাসতে থাকে পুরো জাতি। এমনকি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও আনন্দন মিছিল বের করেন।

সেই থেকে এখনো হাসিনাবিরোধী মিছিল-মিটিং চলছে। এসব মিছিল-মিটিং থেকে দেশ গঠনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আর সুযোগ না দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো।