ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ের শঙ্কায় বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আমানুল্লাহর টেন্ডার কেলেঙ্কারি আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন নীলফামারী সদরের ইটাখোলায় রাস্তার সংস্কার কাজ বিলম্ব করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসবায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বাস, আহত অন্তত ২০ শতাধিক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শুরু আইপিএসসি বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উৎসব হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

সরাসরি ট্রেন চালু না হলে চরম মূল্য দিতে হবে, পাবনাবাসীর হুঁশিয়ারি

পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ও ঈশ্বরদীর বিমানবন্দর চালুসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে পাবনাবাসী। এ সময় চারদফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রোববার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী আব্দুল হামিদ সড়কের শহীদ চত্বর থেকে শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের ব্যানারে পুরো শহরজুড়ে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাবনার রাজনৈতিক সংগঠনের চরম ব্যর্থতায় আমরা ট্রেনের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছি। এটাতো রাজনৈতিক দলের কাজ। পাবনা থেকে মাঝপাড়া পর্যন্ত অকার্যকর একটি রেললাইন চালু করা হয়েছে। সেটি কার্যকর করে দ্রুত পাবনা-ঢাকা ট্রেন সার্ভিস চালু করে ঢাকায় যাতায়াত সহজীকরণ করতে হবে। কাজিরহাটের ফেরিঘাট খয়েরচরে স্থানান্তর করা হলে দু’ঘণ্টার পথ ১৫ মিনিটে পারাপার হওয়া যাবে। ঈশ্বরদী ইপিজেড, রপপুর প্রকল্পের জন্য বিমানবন্দর চালু করা হোক। যানজট নিরসনে পাবনা শহরে চার লেন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। পাবনা আটঘরিয়া হয়ে মাঝপাড়া দিয়ে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে ট্রেন ঢাকায় যাওয়ার কথা শুনতেছি। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

যেকোনো মূল্যে পাবনা-ঢাকা ট্রেন চালু করতেই হবে। তাছাড়া এর জন্য সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আন্দোলন শেষে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। আমাদের এই দাবি যেন অন্য দাবিতে পরিণত না হয়। আমরা সবদিক থেকেই বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার।

বক্তারা আরও বলেন, পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল নগরবাড়ি আরিচায় নতুন যমুনা সেতু নির্মাণ করা। দ্বিতীয় যমুনা সেতু এখান দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। ইছামতী নদী উদ্ধারে অনেক জটিলতা ছিল। এখন নদী খনন হচ্ছে। যারা মামলা করেছেন দ্রুত মামলা তুলে নিয়ে নদী খননের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সহযোগীতা করুন। এটা হলে পাবনাবাসীর জন্য স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। এছাড়াও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা, মানসিক হাসপাতাল সংস্কার করতে হবে। এটা জুলাইয়ের মাস। এই চত্বরেই দুজন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছিল। এখনো ওসব খুনি গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি খান হাবিব মোস্তফার সভাপতিত্বে ও আতাইকুলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজু ইসলাম ওলির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মো: ইকবাল হোসাইন, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, জামায়াতের পৌর আমির আব্দুল লতিফ, দেশ বরেণ্য শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেক, সাইদুল ইসলাম, কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল আলিম, অ্যাডভোকেট রানা, রোটারিয়ান বিনয় জ্যোতি কুন্ডু, সমন্বয়ক শাওন হোসাইন, আইডিয়াল গ্রুপের পরিচালক সিরাজুল ইসলামসহ পাবনার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মানবন্ধনে পাবনা শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ের শঙ্কায় বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

সরাসরি ট্রেন চালু না হলে চরম মূল্য দিতে হবে, পাবনাবাসীর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০১:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন সার্ভিস ও ঈশ্বরদীর বিমানবন্দর চালুসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে পাবনাবাসী। এ সময় চারদফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রোববার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী আব্দুল হামিদ সড়কের শহীদ চত্বর থেকে শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের ব্যানারে পুরো শহরজুড়ে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাবনার রাজনৈতিক সংগঠনের চরম ব্যর্থতায় আমরা ট্রেনের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছি। এটাতো রাজনৈতিক দলের কাজ। পাবনা থেকে মাঝপাড়া পর্যন্ত অকার্যকর একটি রেললাইন চালু করা হয়েছে। সেটি কার্যকর করে দ্রুত পাবনা-ঢাকা ট্রেন সার্ভিস চালু করে ঢাকায় যাতায়াত সহজীকরণ করতে হবে। কাজিরহাটের ফেরিঘাট খয়েরচরে স্থানান্তর করা হলে দু’ঘণ্টার পথ ১৫ মিনিটে পারাপার হওয়া যাবে। ঈশ্বরদী ইপিজেড, রপপুর প্রকল্পের জন্য বিমানবন্দর চালু করা হোক। যানজট নিরসনে পাবনা শহরে চার লেন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। পাবনা আটঘরিয়া হয়ে মাঝপাড়া দিয়ে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে ট্রেন ঢাকায় যাওয়ার কথা শুনতেছি। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।

যেকোনো মূল্যে পাবনা-ঢাকা ট্রেন চালু করতেই হবে। তাছাড়া এর জন্য সংশ্লিষ্টদের চরম মূল্য দিতে হবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের আন্দোলন শেষে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। আমাদের এই দাবি যেন অন্য দাবিতে পরিণত না হয়। আমরা সবদিক থেকেই বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার।

বক্তারা আরও বলেন, পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল নগরবাড়ি আরিচায় নতুন যমুনা সেতু নির্মাণ করা। দ্বিতীয় যমুনা সেতু এখান দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত হবে। ইছামতী নদী উদ্ধারে অনেক জটিলতা ছিল। এখন নদী খনন হচ্ছে। যারা মামলা করেছেন দ্রুত মামলা তুলে নিয়ে নদী খননের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সহযোগীতা করুন। এটা হলে পাবনাবাসীর জন্য স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। এছাড়াও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আধুনিকায়ন করা, মানসিক হাসপাতাল সংস্কার করতে হবে। এটা জুলাইয়ের মাস। এই চত্বরেই দুজন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছিল। এখনো ওসব খুনি গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।

শেকড় পাবনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি খান হাবিব মোস্তফার সভাপতিত্বে ও আতাইকুলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজু ইসলাম ওলির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মো: ইকবাল হোসাইন, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, জামায়াতের পৌর আমির আব্দুল লতিফ, দেশ বরেণ্য শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেক, সাইদুল ইসলাম, কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল আলিম, অ্যাডভোকেট রানা, রোটারিয়ান বিনয় জ্যোতি কুন্ডু, সমন্বয়ক শাওন হোসাইন, আইডিয়াল গ্রুপের পরিচালক সিরাজুল ইসলামসহ পাবনার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মানবন্ধনে পাবনা শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও নার্সিং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।