ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ঢাকাসহ সারাদেশে হঠাৎ সর্বোচ্চ সতর্কতা জা‌রি করলো পুলিশ সদর দপ্তর ৭ কেজি সোনা নিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে ধরা পড়লেন যুবক অপরিকল্পিত কেনাকাটায় অচল কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও করে ধরা খেলেন শফিকুল বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে কেউ বাস করতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাহী পরিচালকদের দায়িত্ব বাড়াল বিএসইসি মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৬ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগে আদালতে মামলা

  • এমডি আকাশ
  • আপডেট সময় ১১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • ৭৩০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর শনিআখরা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারপিটের অভিযোগে আদালতে স্বামী বিল্লাল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আসমা। মারপিটের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আঘাতের চিহ্নগুলো ডাক্তারি চিকিৎসা সনদ পত্রে উল্লেখ থাকলেও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে উঁচিয়ে ধরলে গলায় ফাঁস লেগে স্পট পরে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুলবশত চিকিৎসা সনদে উল্লেখ করেননি চিকিৎসক। আদালতে পিটিশন মামলায় একাধিক ইনজুরি উল্লেখ থাকলেও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল এর চিকিৎসক মোজাহার ভুল করে মেডিকেল রিপোর্টে গলায় ফাঁস লাগানো ইনজুরি উল্লেখ করেননি।

জানা গেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে আসমার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের এক বছর পর দেশে ফিরে আসমাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিছুদিন দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে কাটলেও কিছু দিন পর পরিবারের কু-পরামর্শে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করে পাষণ্ড স্বামী। কারণ যৌতুক অন্যদিকে বড় ভাই জাকারিয়ার স্ত্রী মাসুকের সঙ্গে ছিল পরকীয়া প্রেম। বিদেশ থেকে ভাই জাকারিয়ার কাছে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে আত্মসাৎ করলে বিদেশ যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় বিল্লালের। পরে আসমার বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়া পাঠানো হয়। তিন বছর পর মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হলে দেশে পাঠিয়ে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। আমাকে কোন ভরণপোষণ না দিয়ে পুনরায় চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবি তুলে মারপিট শুরু করেন যৌতুক লোভী বিল্লাল। এ নির্যাতন এড়াতে আসমার বাবা-মা ভাই-বোন স্বামীর কাছে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আমাকে নেওয়ার জন্য উভয় পক্ষের অভিভাবকসহ আত্মীয়-স্বজন মিলে একাধিকবার বৈঠকে বসেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবে এমন চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর সাজানোর সব জিনিসপত্র এবং পাঁচ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তাঁকে স্বামীর ঘরে তুলে দেন।

ওই স্বর্ন চুরি করার উদ্দেশ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার নাম করে শশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় আসমাকে।পরে স্বর্ন ও কিছু রেখে দেওয়া জমানো টাকা চুরি করে। কিন্তু চুরির নাটক সাজিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমি বিদেশে গিয়ে তোমাকে আরও বেশি স্বর্ন এনে দেবো। আমি এগুলো বিক্রি করেছি। কয়েকদিন পরে তার ওই গহনা পাষণ্ড স্বামীর পরকীয়া ভাবি মাসুকের গলায় দেখতে পায়। ভূক্তভোগী আসমা প্রতিবাদ করলে মারাপিট শুরু করে। মারামারির একপর্যায়ে তার পরকীয়া প্রেমিকা , বড় ভাই জাকারিয়া , ও তার বোন আফি মিলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় ও চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে গুরুতর যখন এবং স্বামী গলায় ওড়না ফাঁস দিয়ে উঁচিয়ে ধরে রাখে। ফলে গলায় ফাঁস লেগে স্পট পরে এবং আঘাত প্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে গেলে বিবাদীরা পালিয়ে যায়। পরে আসমার ভাই খবর পেয়ে বাসায় এসে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে বাসায় এসে সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন।
এসব বিষয় জানতে চাইলে আসমা আমাদের মাতৃভূমি কে বলেন, বিয়ের পড়ে প্রবাসে থাকাকালীন আমাকে এবং সন্তান কে কোন ভরণপোষণ দেয়নি। তবে অর্জিত সব টাকা তার বড় ভাই জাকারিয়াকে দিয়ে আমার কাছে সব সময় যৌতুক দাবি করে আসছে। আমি বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছি যা বিচারাধীন রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগে আদালতে মামলা

আপডেট সময় ১১:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

রাজধানীর শনিআখরা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারপিটের অভিযোগে আদালতে স্বামী বিল্লাল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী আসমা। মারপিটের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আঘাতের চিহ্নগুলো ডাক্তারি চিকিৎসা সনদ পত্রে উল্লেখ থাকলেও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে উঁচিয়ে ধরলে গলায় ফাঁস লেগে স্পট পরে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুলবশত চিকিৎসা সনদে উল্লেখ করেননি চিকিৎসক। আদালতে পিটিশন মামলায় একাধিক ইনজুরি উল্লেখ থাকলেও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল এর চিকিৎসক মোজাহার ভুল করে মেডিকেল রিপোর্টে গলায় ফাঁস লাগানো ইনজুরি উল্লেখ করেননি।

জানা গেছে মালয়েশিয়া প্রবাসী বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে আসমার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের এক বছর পর দেশে ফিরে আসমাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিছুদিন দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে কাটলেও কিছু দিন পর পরিবারের কু-পরামর্শে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করে পাষণ্ড স্বামী। কারণ যৌতুক অন্যদিকে বড় ভাই জাকারিয়ার স্ত্রী মাসুকের সঙ্গে ছিল পরকীয়া প্রেম। বিদেশ থেকে ভাই জাকারিয়ার কাছে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে আত্মসাৎ করলে বিদেশ যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় বিল্লালের। পরে আসমার বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পুনরায় মালয়েশিয়া পাঠানো হয়। তিন বছর পর মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হলে দেশে পাঠিয়ে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। আমাকে কোন ভরণপোষণ না দিয়ে পুনরায় চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবি তুলে মারপিট শুরু করেন যৌতুক লোভী বিল্লাল। এ নির্যাতন এড়াতে আসমার বাবা-মা ভাই-বোন স্বামীর কাছে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আমাকে নেওয়ার জন্য উভয় পক্ষের অভিভাবকসহ আত্মীয়-স্বজন মিলে একাধিকবার বৈঠকে বসেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবে এমন চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর সাজানোর সব জিনিসপত্র এবং পাঁচ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তাঁকে স্বামীর ঘরে তুলে দেন।

ওই স্বর্ন চুরি করার উদ্দেশ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার নাম করে শশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় আসমাকে।পরে স্বর্ন ও কিছু রেখে দেওয়া জমানো টাকা চুরি করে। কিন্তু চুরির নাটক সাজিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমি বিদেশে গিয়ে তোমাকে আরও বেশি স্বর্ন এনে দেবো। আমি এগুলো বিক্রি করেছি। কয়েকদিন পরে তার ওই গহনা পাষণ্ড স্বামীর পরকীয়া ভাবি মাসুকের গলায় দেখতে পায়। ভূক্তভোগী আসমা প্রতিবাদ করলে মারাপিট শুরু করে। মারামারির একপর্যায়ে তার পরকীয়া প্রেমিকা , বড় ভাই জাকারিয়া , ও তার বোন আফি মিলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় ও চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে গুরুতর যখন এবং স্বামী গলায় ওড়না ফাঁস দিয়ে উঁচিয়ে ধরে রাখে। ফলে গলায় ফাঁস লেগে স্পট পরে এবং আঘাত প্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে গেলে বিবাদীরা পালিয়ে যায়। পরে আসমার ভাই খবর পেয়ে বাসায় এসে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করান। চিকিৎসা শেষে বাসায় এসে সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন।
এসব বিষয় জানতে চাইলে আসমা আমাদের মাতৃভূমি কে বলেন, বিয়ের পড়ে প্রবাসে থাকাকালীন আমাকে এবং সন্তান কে কোন ভরণপোষণ দেয়নি। তবে অর্জিত সব টাকা তার বড় ভাই জাকারিয়াকে দিয়ে আমার কাছে সব সময় যৌতুক দাবি করে আসছে। আমি বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছি যা বিচারাধীন রয়েছে।