রংপুরের বদরগঞ্জে দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে ভাড়াটিয়া ও দোকান মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপি’র এক কর্মী নিহতের ঘটনায় রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকারসহ দলের ৮ নেতা কর্মীকে বহিষ্কারের পর এবার তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ের মামলা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি বদরগঞ্জ আদালতে মানহানির অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম রংপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফি কামাল বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সদ্য বহিষ্কৃত রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৩ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক, পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমন সরদার ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক কয়েল, উপজেলার ১০ নম্বর মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, কালুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক এবং বিষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বদরগঞ্জ পৌর শহরে জাহিদুল হক নামে এক জনের দোকান ভারাকে কেন্দ্র করে আসামিরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে লাভলু সরকার নামে আহত এক বিএনপি কর্মী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসামিরা নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি স্বার্থে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলহ ও বিবাদে জড়িত। তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির দলীয় সুনাম ক্ষুণ্ণ করে মানহানিকর অপরাধ করেছেন। বিএনপির দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে আসামিরা মানহানীকর অপরাধ করেছেন।
এ ঘটনায় তারেক রহমানের নির্দেশের আলোকে এই মামলা করা হয়েছে বলে জানান বাদী অ্যাডভোকেট শফি কামাল বলেন, একটি দোকানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বহিষ্কৃত আট নেতাসহ অজ্ঞাত দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় তাদের বিরুদ্ধে ৫০০ ধারায় মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে উপস্থিত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু বলেন, জমি দখল, দোকান দখলসহ অন্যান্য কোনো অপরাধে কোনো নেতা যদি জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এ মামলার মাধ্যমে নজির স্থাপন করা হলো।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল শনিবার বদরগঞ্জে একটি দোকান ভারাকে কেন্দ্র করে মালিক ও ভাড়াটিয়ার দ্বন্দ্বের জেরে মানববন্ধন কে কেন্দ্র করে তাদের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের অনুসারীর। বিএনপি’র এই দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষে নিহত হন বিএনপি কর্মী লাভলু সরকার। এছাড়া সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আরও ২০ জন আহত হন। এ ঘটনার পরদিন রোববার ৮ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন বিএনপি।
বিএনপি কর্মী লাভলু সরকার নিহতের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক ও তার ছেলে তমালসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর গত সোমবার নিহতের ছেলে রায়হান কবির বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেন বদরগঞ্জ থানা পুলিশ।
নুরুন্নবী,ব্যুরো চিফ : 






















