রংপুরের বদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলীর সমিল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে খানকায়ে ওয়ারেছিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের জায়গা পুনরুদ্ধার করেছে শতশত এতিম শিক্ষার্থীও বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। গত কাল বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত জায়গা উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে উভয় পক্ষের লোক জনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধা ওয়ার ঘটনাও ঘটেছে সেখানে।
সরেজমিনে জানাযায়,বদরগঞ্জ পৌরশহরের ডাক্তার পাড়ায় অবস্থিত খানকায়ে ওয়ারেছিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোডিং এতিম খানা। সেখানে শতশত এতিম দুস্থ অসহায় শিক্ষার্থীরা পড়া শোনা করে থাকে।ওই মহল্লার মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী ততকালিন সময়ে মাদরাসার জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে সমিল স্থাপন করে ব্যবসা বাণিজ্য করে শুরু করেন। মাদরাসারগা ঘেঁসে ও ঘনবসতি পুর্ন আবাসিক এলাকায় সমিল স্থাপন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি কর জেনে প্রতিবাদী লোক জন সমিল বন্ধের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। কিন্তু সেকেন্দার আলী কাউকে তোয়াক্কা না করেই দাম্ভিকতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। এছাড়াও তিনি তার ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে মাসিক জায়গা ভাড়া পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে ভাড়ানা দিয়ে উল্টো ওই মাদরাসার জায়গা তার নিজের বলে দাবী করেন। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে সেকেন্দার আলী তাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, এবং নানা ক্ষোভের জের ধরে সম্প্রতি কালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নামে আদালতে ষড়যন্ত্র মুলক মামলা দায়ের করেন। সেই সাথে তিনি জোর পুর্বক মাদরাসার জায়গা দখলে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এদিকে গত কাল বুধবার দুপুরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য জবর দখল কারী মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলীর সমিল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে সেখান থেকে তাকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে। সেখানে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শত বাধা বিপত্তির মুখেও জায়গা পুনরুদ্ধার কাজ চালিয়ে যায় এতিম খানার শতশত কোমল মতি শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী স্বদল বলে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে বদরগঞ্জ থানার ওসি একেএম আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে এসে সেখান কার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, লোক জন মাদরাসা ও এতিম খানার জন্য জায়গা জমি দান করেন। আর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এতিম খানার জায়গা দখলের মহোত সবে মেতে উঠেছেন। বিষয়টি সত্যি দু:খ জনক! বিএনপি নেতা ভুট্রু লোহানী বলেন, এই বিষয়টি মিমাংসার লক্ষ্যে একাধিক বার আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী কারো কথায় কর্ণপাত করেন না। তিনি মুক্তিযোদ্ধার দাপট দিখিয়ে আমার নামেও থানায় অভিযোগ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা ও এতিম খানার সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকেদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী মাদরাসার জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে সমিল স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছেন। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করলে সেকেন্দার আলী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী দাপটে মাদরাসার জায়গা তার নিজের বলে দাবী করেন। এর পর থেকে তিনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নামে মামলা মোকদ্দমা করাসহ মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের উপর নানা অন্যায় অত্যাচার শুরু করেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের টয়লেটে যাওয়ার এক মাত্র রাস্তাটি তার সমিলের কাঠের গুড়ি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।এতিম খানার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সেকেন্দার আলীর অন্যায় অত্যাচার থেকে সহ্য করতেনা পেরে সকলে এক জোট হয়ে তার অবৈধ সমিল ভেঙ্গে দিয়ে মাদরাসার জায়গা পুনরুদ্ধার করেছে। ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার আলী মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নামে বদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
সংবাদ শিরোনাম ::
বদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার স’মিল গুড়িয়ে দিয়ে এতিম খানার জায়গা পুনরুদ্ধার
-
নুরুন্নবী,ব্যুরো চিফঃ - আপডেট সময় ০৮:৫২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫
- ৬৫২ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























