গতকাল বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে মজলুম নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ একত্রিত হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশটি ছিল প্রদর্শনীমূলক এবং গণজাগরণের প্রতীক।
সমাবেশ শুরু হয় বিকাল ৩টায় এবং এটি বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের ঢল নেমে আসে বিভিন্ন স্থান থেকে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, তৃণমূলের কর্মী, সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “এটিএম আজহারুল ইসলাম আমাদের মজলুম নেতা। তাকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা সবাই মিলে এই মুক্তির দাবি নিয়ে জেগে উঠেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে প্রস্তুত। আমাদের কাজ হবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শেখ মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হুসাইন, এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ মুস্তাইন বিল্লাহ। বক্তারা একে অপরকে সমর্থন করে বলেন, “আমাদের আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু দৃঢ়।”
সমাবেশে বাগেরহাট ১ আসনের নমিনি অধ্যক্ষ মশিউর রহমান, বাগেরহাট ২ আসনের নমিনি শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম রাহাদ, বাগেরহাট ৩ আসনের নমিনি এ্যাড:মাও:শেখ আব্দুল ওয়াদুদ এবং বাগেরহাট ৪ আসনের নমিনি অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনগণও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং বলেন, “আমরা আমাদের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করবো। আমাদের নেতা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করবো”
সমাবেশের শেষে একটি জোরালো শপথ গ্রহণ করা হয়, যেখানে সবাই একসাথে বলে, “এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির জন্য আমরা সবাই একত্রিত হব।”
এই সমাবেশটি ছিল শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ নয়, বরং এটি বাগেরহাটের জনগণের মধ্যে একতা, শক্তি এবং সংকল্পের প্রতীক। জামায়াতে ইসলামী তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে এবং আগামী দিনে আরও কার্যকরী আন্দোলনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পুনরায় প্রমাণ করেছে যে, তারা জনগণের পাশে সবসময় থাকবে এবং তাদের অধিকার আদায়ে অটল থাকবে।
মিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি 






















