ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস ভেনেজুয়েলায় নি’হ’তে’র সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকে জ্ঞানদান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে’ (সুরা: বাকারাহ, আয়াত: ২৬৯)। ইসলামী স্কলারদের মতে, জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র। একইভাবে বহুদিন আগে আমাদের দেশেরই প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও গবেষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, “যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না।” আজকের সমাজে এই উক্তিটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি যে আমাদের সমাজ থেকে নীতি, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এরই প্রমাণ হিসেবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি মঞ্চে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। পরে রফিকুন নবী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। একজন স্বনামধন্য শিল্পীর প্রতি এ ধরনের অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কিছুদিন আগেই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত সলিমুল্লাহ খানসহ অন্যান্য গুণীজনদেরকে পেছনে দাঁড় করিয়ে ফটোসেশনের ছবি ব্যাপক সমালোচিত হয়। ৫ আগস্টের পর আমরা আরও কয়েকটি উদ্বেগজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং কোনো কোনো শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এমনকি কিছু শিক্ষককে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে।
আমরা যদি আমাদের গুণীজনদের সম্মান করতে না জানি, তবে ভবিষ্যতে আমাদের সমাজে আর কোনো গুণীর জন্ম হবে না। গুণীজনদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের প্রতি অসদাচরণ একটি জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত। তাই আমাদের উচিত সমাজের প্রতিটি স্তরে গুণীজনদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা। তাহলেই আমরা একটি নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সক্ষম হব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না

আপডেট সময় ১০:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকে জ্ঞানদান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে’ (সুরা: বাকারাহ, আয়াত: ২৬৯)। ইসলামী স্কলারদের মতে, জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র। একইভাবে বহুদিন আগে আমাদের দেশেরই প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও গবেষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, “যে দেশে গুণীর কদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মায় না।” আজকের সমাজে এই উক্তিটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করছি যে আমাদের সমাজ থেকে নীতি, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এরই প্রমাণ হিসেবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এই অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। কিন্তু আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি মঞ্চে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না। পরে রফিকুন নবী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। একজন স্বনামধন্য শিল্পীর প্রতি এ ধরনের অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কিছুদিন আগেই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত সলিমুল্লাহ খানসহ অন্যান্য গুণীজনদেরকে পেছনে দাঁড় করিয়ে ফটোসেশনের ছবি ব্যাপক সমালোচিত হয়। ৫ আগস্টের পর আমরা আরও কয়েকটি উদ্বেগজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং কোনো কোনো শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এমনকি কিছু শিক্ষককে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে।
আমরা যদি আমাদের গুণীজনদের সম্মান করতে না জানি, তবে ভবিষ্যতে আমাদের সমাজে আর কোনো গুণীর জন্ম হবে না। গুণীজনদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের প্রতি অসদাচরণ একটি জাতির জন্য অশনিসঙ্কেত। তাই আমাদের উচিত সমাজের প্রতিটি স্তরে গুণীজনদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা। তাহলেই আমরা একটি নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সক্ষম হব।