ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত জাপানিজ স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম স্যারকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি।
অব্যাহতির নোটিশে দেখানো হয়েছে “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগটি ছিলো ২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে প্রফেশনালস মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের বরখেলাপ বলে চালানো হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম লিখিত কোনো নিয়ম ছিল না যে প্রফেশনালস মাস্টার্সে একাধিকবার পরীক্ষা নেয়া যাবে না।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটা মেইনস্ট্রিম নিউজপেপার থেকে ” ২৬ জনের পরীক্ষা নিয়ে ২৭ জনকে ভর্তি করানো হয়েছে”- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সবার পরীক্ষা নেওয়ার ডকুমেন্টস ডিপার্টমেন্ট সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আছে। এই প্রকাশিত ভুল সংবাদের প্রতিবাদে বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে “প্রতিবাদলিপি” পাঠায়।
অভিযোগটি ভিত্তিহীন হওয়ায় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধান করেন এবং ডিপার্টমেন্টকে প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামটি চালিয়ে যেতে বলেন। এর কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার পরীক্ষা নেওয়ার বিষয় নিয়ে একটি স্মারক প্রকাশ করেন। যেহেতু বিষয়টি পূর্বেই সমাধান করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি তাই ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষার্থী প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নাকচ করেছে এবং জাহাঙ্গীর স্যারকে পুনরায় একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কাজে সসম্মানে পুনর্বহালের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে, বিভাগের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসহ।
ভিসি স্যার তখন ১ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
১ সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পরেও ভিসি স্যার কোনো সিদ্ধান্ত জানান নি বলে জানায় বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
এরই মধ্যে বিভাগের এক্টিং চেয়ারম্যান সকল ব্যাচের সি আর দের ভিসি এবং প্রো ভিসির নাম করে আজকে(১৭ই ফেব্রুয়ারি) মিটিংয়ে ডাকেন। যেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে ভিসি/প্রো ভিসি উপস্থিত থাকবেন।
পরবর্তীতে আজ সোমবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) শিক্ষার্থীরা ভিসি অফিসে গেলে জানতে পারে যে তিনি(ভিসি) ঢাকায় ই উপস্থিত নেই, এবং প্রো ভিসির সাথে কথা বলে জানতে পারে যে তিনি এবং ভিসি স্যার তাদেরকে কোনো মিটিংয়ে ডাকেন নি।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তাদের তথাকথিত ডাকা মিটিংয়ে গিয়ে দেখতে পারে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ,প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং সামাজিক বিজ্ঞানের ডিন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জহু হলের প্রভোস্ট ফারুক শাহ ও উপস্থিত ছিলেন যেখানে তাঁর উপস্থিত থাকার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। মিটিং এ তাঁদের কথা বলার ভঙ্গি কোনোভাবেই শিক্ষার্থী বান্ধব ছিলো না এবং পরোক্ষভাবে একপ্রকার হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মিটিংয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অভিযোগকারীর ব্যাপারে জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ জানান যে, ”কোনো অভিযোগকারীর প্রয়োজন নেই, জাহাঙ্গীর স্যারের বিরুদ্ধে একশন নেয়ার জন্য, তারা চাইলে আগের প্রকাশিত নিউজের ভিত্তিতেই একশন নিতে পারেন।” যেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগটিই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক।
বিভাগে খবর নিয়ে জানা যায়, ওই পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিভাগের অন্য একজন শিক্ষক।তাছাড়া কমিটিতে ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও আরো ২ জন সদস্য ছিলেন, যাদের সকলের স্বাক্ষরে ভর্তি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় এবং ছাত্রদের ভর্তি করানো হয়।এককভাবে কেনো জাহাঙ্গীর আলম স্যারের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হলো- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি,তাদের সাবেক চেয়ারম্যানকে অপসারণের পিছনে প্রসাসনের উপরমহলের হাত আছে যা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক।
আজকের এই ঘটনার পর বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, যতদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্টু তদন্ত শেষ করে ড. মো.জাহাঙ্গীর আলমকে সসম্মানে পুনর্বহাল না করবেন এবং এই সকল ষড়যন্ত্রের পিছনের আসল ইন্ধনদাতা কে- তা প্রকাশ্যে নিয়ে না আসবেন, ততদিন পর্যন্ত তারা(শিক্ষার্থীরা) সকল প্রকার ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে।
মোঃ নাইম নিজস্ব প্রতিবেদক 






















