ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস ভেনেজুয়েলায় নি’হ’তে’র সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

দোয়ারাবাজারে বিটিসিএল এর সবগুলো টেলিফোন সংযোগ বিকল

জরাজীর্ণ ভবন, জনবল সংকট ও বিকল যন্ত্রপাতি দিয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) অফিসের নামেমাত্র কার্যক্রম চলছে। প্রায় এক যুগ ধরে উপজেলা বিটিসিএল অফিসে কোনো কর্মকর্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে মাত্র একজন লাইনম্যান দিয়েই চলছে পুরো কার্যক্রম। সেবা না পাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। উপজেলা বিটিসিএল অফিস সূত্র জানা গেছে, ২০০৬ সালে উপজেলায় বিটিসিএল এর কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়। পুরো উপজেলা জুড়ে বিটিসিএল এর মাত্র ৩৫টি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। এই ৩৫টি টেলিফোন সংযোগের সবগুলোই বিকল। দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এখনো সচল করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা বিটিসিএল অফিসের টেলিফোন সংযোগটিও বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে গ্রাহকেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দোয়ারাবাজার উপজেলা বিটিসিএল অফিস। অফিসের সামনে নাম সংবলিত কোনো সাইনবোর্ডও নেই। আশির দশকে নির্মিত দুইতলা বিটিসিএল অফিসটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মেছে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে অফিস ভবনের ভেতরের অনেক জায়গায় শেওলা জমেছে। এছাড়াও ভবনের দরজা, জানালা ও কাচ ভেঙে গেছে। বর্তমানে অফিসে কর্মরত লাইনম্যান ও তাঁর পরিবার ভাঙা দরজা জানালা জোড়াতালি
দিয়ে অফিস ভবনে বসবাস করছেন। অফিসের সামনের কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এখানে কোনোদিন আসতে দেখা যায় না। যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম নষ্ট অবস্থাতেই পড়ে আছে দীর্ঘদিন। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সিএ সফিক রহমান বলেন, ‘আমাদের অফিসের টেলিফোনটি অনেক দিন ধরেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বিটিসিএল অফিস থেকেও কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।’ উপজেলা বিটিসিএল অফিসের লাইনম্যান মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘জনবল না থাকায় দোয়ারাবাজারে বিটিসিএল অফিসের সবকিছু আমিই দেখাশোনা করছি।
জেলা অফিস থেকে আমাদের এই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।’

সুনামগঞ্জ বিটিসিএল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহন কুমার পন্ডিত বলেন, ‘আমাদের কাজের পরিধি কম থাকায় উপজেলা প্রতি একজন লাইনম্যান দিয়েই কাজ চলছে। ফাইবার এক্সচেঞ্জ না থাকায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সবকটি টেলিফোন সংযোগ বিকল রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিস ও হাসপাতালে আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা বিটিসিএল অফিসটি সংস্কার করা হবে। এছাড়া ফাইবার এক্সচেঞ্জ চালুর কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দোয়ারাবাজারে বিটিসিএল এর সবগুলো টেলিফোন সংযোগ বিকল

আপডেট সময় ০১:৫৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জরাজীর্ণ ভবন, জনবল সংকট ও বিকল যন্ত্রপাতি দিয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) অফিসের নামেমাত্র কার্যক্রম চলছে। প্রায় এক যুগ ধরে উপজেলা বিটিসিএল অফিসে কোনো কর্মকর্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে মাত্র একজন লাইনম্যান দিয়েই চলছে পুরো কার্যক্রম। সেবা না পাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। উপজেলা বিটিসিএল অফিস সূত্র জানা গেছে, ২০০৬ সালে উপজেলায় বিটিসিএল এর কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়। পুরো উপজেলা জুড়ে বিটিসিএল এর মাত্র ৩৫টি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। এই ৩৫টি টেলিফোন সংযোগের সবগুলোই বিকল। দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এখনো সচল করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা বিটিসিএল অফিসের টেলিফোন সংযোগটিও বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে গ্রাহকেরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দোয়ারাবাজার উপজেলা বিটিসিএল অফিস। অফিসের সামনে নাম সংবলিত কোনো সাইনবোর্ডও নেই। আশির দশকে নির্মিত দুইতলা বিটিসিএল অফিসটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা জন্মেছে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে অফিস ভবনের ভেতরের অনেক জায়গায় শেওলা জমেছে। এছাড়াও ভবনের দরজা, জানালা ও কাচ ভেঙে গেছে। বর্তমানে অফিসে কর্মরত লাইনম্যান ও তাঁর পরিবার ভাঙা দরজা জানালা জোড়াতালি
দিয়ে অফিস ভবনে বসবাস করছেন। অফিসের সামনের কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীরের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এখানে কোনোদিন আসতে দেখা যায় না। যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম নষ্ট অবস্থাতেই পড়ে আছে দীর্ঘদিন। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সিএ সফিক রহমান বলেন, ‘আমাদের অফিসের টেলিফোনটি অনেক দিন ধরেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। বিটিসিএল অফিস থেকেও কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।’ উপজেলা বিটিসিএল অফিসের লাইনম্যান মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘জনবল না থাকায় দোয়ারাবাজারে বিটিসিএল অফিসের সবকিছু আমিই দেখাশোনা করছি।
জেলা অফিস থেকে আমাদের এই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।’

সুনামগঞ্জ বিটিসিএল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহন কুমার পন্ডিত বলেন, ‘আমাদের কাজের পরিধি কম থাকায় উপজেলা প্রতি একজন লাইনম্যান দিয়েই কাজ চলছে। ফাইবার এক্সচেঞ্জ না থাকায় দোয়ারাবাজার উপজেলার সবকটি টেলিফোন সংযোগ বিকল রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিস ও হাসপাতালে আমাদের ইন্টারনেট সংযোগ সচল আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলা বিটিসিএল অফিসটি সংস্কার করা হবে। এছাড়া ফাইবার এক্সচেঞ্জ চালুর কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’