ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস ভেনেজুয়েলায় নি’হ’তে’র সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়াল এবার শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার কর্মসূচি ঘোষণা

তিস্তা নদী রক্ষায় ৪৮ ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি । আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পাড়ের ১৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখো মানুষ এই অবস্থান কর্মসুচিতে অংশ নেবে । তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের মিলনায়তনে আন্দোলন কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার মানুষেরা তিস্তা নদীর পানি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের কাছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সেই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে তিস্তা পানি চুক্তি নাকি ক্ষমতায় থাকবে তা বেছে নিতে বললে তারা ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, আমরা চাই না, তিস্তায় ভাঙনরোধে বিক্ষিপ্তভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করা হোক। এর আগে কিছু কিছু কাজ করা হয়েছে যা কাজে লাগেনি। জনগণের অর্থ অপচয় না করে বরং বিলম্ব হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে তিনি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই দাবিতে আগামী ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পাড়ে সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি প্রকল্প ছিল। এটিতে চীন অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। এর আওতায় ছিল, স্যাটেলাইট শহর, হাউজিং ও ইকোনোমিক্যাল জোন নির্মাণ। এটি পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার কথাও ছিল। ২০১৬ সালে এর সমীক্ষাও হয়। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা অনতিবিলম্বে ওই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই। তিনি আরোও বলেন, তিস্তা একসময় নদীর দুই পাড়ের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির উৎস ছিল। এখন তা আর নেই। তিস্তা এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ। উচ্ছল জলধারার এই নদীর পানি এখন হাঁটুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই তিস্তা নদী ও এর অববাহিকার মানুষ রক্ষায় পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। রংপুরের মানুষ আশাবাদী ছিল এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী তার যৌবন ফিরে পাবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবে নদীপাড়ের মানুষের জীবন রক্ষার প্রকল্প।কিন্তু সেই প্রকল্প পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়ন করেনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা বাকস্বাধীনতা পেয়েছি। রংপুরের মানুষ তিস্তা প্রকল্প নিয়ে জেগে উঠেছে। এ লক্ষ্যে তিস্তা নদীর পানিচুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের ৫ জেলার তিস্তা নদীর ১১টি পয়েন্টে লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তিস্তা পানি নিয়ে বৈষম্যের বিষয়টি গোটা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, সম্প্রতি সরকারের দুই উপদেষ্টা রংপুরে তিস্তা নদী গণশুনানিতে বলে গেছেন, তারা এ বছর তিস্তা নদীতে কিছু কাজ করতে চান। এ বিষয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে আপত্তি রয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে তিস্তায় বিক্ষিপ্ত কাজ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করার প্রয়োজনীয়তা নেই। তিস্তাপাড়ের মানুষ অনেক কষ্ট স্বীকার করেছে। বিলম্ব হলেও পরিকল্পিতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চাওয়া সকলের।

সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু, সদস্য এমদাদুল হক ভরসা, সালেকুজ্জামান সালেক উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেট সময় ০৮:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

তিস্তা নদী রক্ষায় ৪৮ ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি । আগামী ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পাড়ের ১৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাখো মানুষ এই অবস্থান কর্মসুচিতে অংশ নেবে । তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের মিলনায়তনে আন্দোলন কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার মানুষেরা তিস্তা নদীর পানি বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের কাছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়ে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সেই সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। ভারত সরকার আওয়ামী লীগকে তিস্তা পানি চুক্তি নাকি ক্ষমতায় থাকবে তা বেছে নিতে বললে তারা ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, আমরা চাই না, তিস্তায় ভাঙনরোধে বিক্ষিপ্তভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করা হোক। এর আগে কিছু কিছু কাজ করা হয়েছে যা কাজে লাগেনি। জনগণের অর্থ অপচয় না করে বরং বিলম্ব হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে তিনি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই দাবিতে আগামী ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পাড়ে সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি প্রকল্প ছিল। এটিতে চীন অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। এর আওতায় ছিল, স্যাটেলাইট শহর, হাউজিং ও ইকোনোমিক্যাল জোন নির্মাণ। এটি পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার কথাও ছিল। ২০১৬ সালে এর সমীক্ষাও হয়। কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা অনতিবিলম্বে ওই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চাই। তিনি আরোও বলেন, তিস্তা একসময় নদীর দুই পাড়ের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির উৎস ছিল। এখন তা আর নেই। তিস্তা এখন উত্তরাঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ। উচ্ছল জলধারার এই নদীর পানি এখন হাঁটুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই তিস্তা নদী ও এর অববাহিকার মানুষ রক্ষায় পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। রংপুরের মানুষ আশাবাদী ছিল এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা নদী তার যৌবন ফিরে পাবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা হবে নদীপাড়ের মানুষের জীবন রক্ষার প্রকল্প।কিন্তু সেই প্রকল্প পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বাস্তবায়ন করেনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা বাকস্বাধীনতা পেয়েছি। রংপুরের মানুষ তিস্তা প্রকল্প নিয়ে জেগে উঠেছে। এ লক্ষ্যে তিস্তা নদীর পানিচুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের ৫ জেলার তিস্তা নদীর ১১টি পয়েন্টে লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তিস্তা পানি নিয়ে বৈষম্যের বিষয়টি গোটা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, সম্প্রতি সরকারের দুই উপদেষ্টা রংপুরে তিস্তা নদী গণশুনানিতে বলে গেছেন, তারা এ বছর তিস্তা নদীতে কিছু কাজ করতে চান। এ বিষয়ে তিস্তাপাড়ের মানুষের মাঝে আপত্তি রয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে তিস্তায় বিক্ষিপ্ত কাজ করে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করার প্রয়োজনীয়তা নেই। তিস্তাপাড়ের মানুষ অনেক কষ্ট স্বীকার করেছে। বিলম্ব হলেও পরিকল্পিতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চাওয়া সকলের।

সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিছুর রহমান লাকু, সদস্য এমদাদুল হক ভরসা, সালেকুজ্জামান সালেক উপস্থিত ছিলেন।