প্রতিনিয়ত বিদেশে বা দেশে প্রতারণার স্বীকার হয়ে প্রবাসীরা দ্বারস্থ হন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি)। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ বিভাগটির কাজ অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের কর্মোপযোগী জনগোষ্ঠীকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। বিভিন্নভাবে প্রতারণার স্বীকার হওয়া শ্রমিকরা বিএমইটিতে অনলাইন কিংবা সশরীরে অভিযোগ করতে পারেন।
সম্প্রতি ঢাকার কাকরাইলের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোতে (বিএমইটি) অভিযোগ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে প্রতারণার শিকার হওয়া প্রবাসীদের। অভিযোগ ডেস্কে বসা কর্মকর্তারা অভিযোগ না নিয়ে ভুক্তভোগীদের জেলা শহরে থাকা বিএমইটিতে অভিযোগ করতে বলছেন। অথচ ভুক্তভোগীরা চাইলে অনলাইনে, ঢাকার মূল অফিসে কিংবা জেলা শহরে থাকা বিএমইটিতে অভিযোগ করতে পারবেন। কিন্তু ঢাকার বিএমইটি অফিসে অন্য জেলার প্রবাসীদের অভিযোগ নিতে ঠেলাঠেলি করছে কর্মকর্তারা।
রবিবার (১৯ মে) ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম থেকে ১৮ যুবক অভিযোগ নিয়ে ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত বিএমইটিতে আসেন। বিকেল সাড়ে তিনটায় তারা অভিযোগ নিয়ে ডেস্কে যান। কিন্তু দায়িত্বরত ব্যক্তি সেই অভিযোগ না নিয়ে জেলা শহরে জমা দিতে বলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের ইচ্ছে ঢাকাতেই তারা অভিযোগ দিবেন। যাতে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু তাদের অভিযোগ না নিয়ে জেলা শহরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফেনী থেকে অভিযোগ করতে আসা রায়হান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমিসহ ১৮ জন আজ ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম থেকে বিএমইটিতে অভিযোগ দিতে যাই। কিন্তু ডেস্কে থাকা এক ভদ্রলোক আমাদের অভিযোগ না নিয়ে জেলায় দিতে বলেন। কিন্তু আমরা ঢাকাতেই অভিযোগ দিতে চাই। পরে তিনি বসতে বলেন। প্রায় ১ ঘণ্টা বসে থাকার পর ফের তার কাছে গেলে তিনি একই কথা বলেন।’
তিনি আরও বলেন, পরে বিএমইটির অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (কর্মসংস্থান) উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হাই স্যার বিষয়টি জানতে পেরে ডেস্কে ফোন দিয়ে অভিযোগ নিতে বলেন। তার কথার পরেও ওই কর্মকর্তা অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি অভিযোগ জমা নেন। এরকম হলে আমরা কোথায় গিয়ে সহায়তা পাবো।’
এসব বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (কর্মসংস্থান) উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল হাই দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী প্রবাসীরা যেখানে ইচ্ছে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। সেটা জেলা হোক কিংবা ঢাকা অফিসে হোক। আজ এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে আমি অভিযোগ নিতে বলেছি এবং অভিযোগ নিয়েছে।’
আমাদের মার্তৃভূমি ডেস্ক : 





















