বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় খিচুড়ি রান্না করে জনসমাগম ঘটিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেন চেয়ারম্যান পদে আনারস মার্কার সমর্থকদের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
এছাড়া তার নির্দেশে ডেচকিতে ময়লা (ছাগলের বিষ্ঠা) দিয়ে শতাধিক মানুষের খাবার (খিচুড়ি) নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাতে উপজেলার কাশিমালা ও শিয়ালশন গ্রামে জরিমানা ও কেশরতা গ্রামে খাবার নষ্ট করা হয়।
এছাড়াও তিনি ছোট জিনইর গ্রামে প্রার্থীর নির্বাচনি বৈঠকে কাউকে না পেয়ে ব্যবসায়ী জামিল হোসেন ও রাসুর মোটরসাইকেলের টায়ার কেটে ফেলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এহেন আচরণে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে নির্বাচনি টহলে থাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেন পরে কথা বলতে চেয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরে কথা বলতে চান।
অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার দ্বিতীয় ধাপে আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালত রোববার রাতে টিম নিয়ে টহলে বের হন। আদমদীঘি সদরের কাশিমালা গ্রামে জনগণ পিকনিকে খিচুড়ি রান্না করেন।
এ সময় ওই খিচুড়ি কোন প্রার্থীর এবং এতে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য বাবলু প্রামাণিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই অপরাধে শিয়ালশন গ্রামের গোলাম রব্বানীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কেশরতা গ্রামের মোকলেছুর রহমান ও ধলা মিয়া জানান, তারা ৫০ টাকা ও আড়াইশ গ্রাম চাল তুলে পিকনিকের আয়োজন করেন। সেখানে খিচুড়ি রান্না করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গাড়িচালক হযরত আলী খিচুড়ির ডেচকিতে ময়লা (ছাগলের বিষ্ঠা) ফেলে খাবার নষ্ট করেন।
উপজেলার ছোট জিনইর গ্রামের ব্যবসায়ী জামিল হোসেন ও রাসু জানান, তারা রাতে আদমদীঘি বাজারে দোকানপাট বন্ধ করে আনারস মার্কার নির্বাচনী বৈঠকে যান। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে না পেয়ে তাদের দুজনের মোটরসাইকেলের সামনের চাকার টায়ার কেটে ফেলেন। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এহেন আচরণে নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এর আগেও আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলার ডহরপুর গ্রামে যুব সমবায় সমিতির পুকুরের লাখ টাকার মাছ জাল দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সময় জনগণ উত্তেজিত হলে তিনি বিকল্প পথে গ্রাম থেকে চলে আসেন।
আমাদের মার্তৃভূমি ডেস্ক : 





















