ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট ইউপি সদস্য ফিরোজের বিরুদ্ধে, বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আগস্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোড়াই কটনমিল পরিদর্শন করলেন শরীফুল আলম বালুর ড্রেজার বসানো নিয়ে বাকবিতন্ডা, স্থানীয়দের হাতে মার খেলেন ববি ছাত্রদলের তিন নেতা কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শাড়ি-মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

বছর অতিবাহিত হলেও জাজিরার পৌরসভার সড়কের পাশে আলোকসজ্জা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি

অনুমোদনের পর বছর পেড়িয়ে গেলেও শরীয়তপুর জেলার অন্তর্গত জাজিরা পৌরসভার সড়কে আলোকসজ্জা প্রকল্পের বাস্তাবায়ন হয়নি। জানতে চাইলে দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র।

জাজিরা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ৭৫ টি সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স জেরিন ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অথচ ঠিকাদার বলছেন কাজটি কে করবে তা মেয়র জানে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাজিরা পৌরসভাটি “খ” শ্রেণি থেকে উন্নীত হয়ে “ক” শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু পৌরবাসীর দাবী, “খ” শ্রেণি থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এখন “ক” শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, পৌরসভার শ্রেণি উন্নত হওয়ায় আসলে লাভ হয়েছে কার? পৌরবাসীর নাকি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। কারন যেখানে পৌরসভাটি “খ” শ্রেণির থাকা অবস্থায় একটি সড়কবাতি স্থাপনের টেন্ডার অনুমোদন হয়েছে তার মেয়াদ শেষ হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ পৌরসভাটি “ক” শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরদের সম্মানি ও কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ঠিকই বেড়েছে।

সড়কবাতি স্থাপণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ না দেখে পৌরসভার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জাজিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। রাজধানী থেকে সরাসরি দিন-রাত আসা যাওয়া করে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। অথচ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সড়কবাতি না থাকায় রাত হলে পৌরসভা এলাকা একটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, “আমরা জাজিরার মানুষ আসলে অনেক আবেগী। যারা মুখে একটু হাসি নিয়ে কথা বলে তাদের অনেক ভালোবেসে ফেলি এবং বিশ্বাস করে নিজেদের প্রতিনিধি বানাই। অথচ তারা নির্বাচিত হয়ে আমাদের কথা মনে রাখেনা। সবাই নিজেদের আখের গুছানোয় ব্যস্ত। তারা আরো বলেন, সড়কবাতির মত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও মেয়রের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলোনা। তাহলে কি মেয়র আমাদের থেকে অসাধু ঠিকাদারদের কথা বেশী ভাবেন?”

এবিষয়ে সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেরিন ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী জাকির সরদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদকে বলেন, “আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও কাজটি আমি নিজে করছিনা। কে করবে তা মেয়র জানে। আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে আমাদের মেয়র অনেক প্রকল্পের কাজ করেন। আমি শুধু বিল উঠানোর সময় স্বাক্ষর করে দেই। সেখানে আমার একটি পারসেন্টিস থাকে।”

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাজিরা পৌরসভার মেয়র মো: ইদ্রিস মাদবর সংবাদকে বলেন, “সড়কের পাশে গাছ থাকার কারনে সড়কবাতি প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। এখন গাছ কাটা ছাড়াই কাজ শুরু করা হবে। মালামাল ক্রয়ের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মেয়রের কাছে সড়কবাতি(আলোকসজ্জা) প্রকল্পের অনুমোদনের কপি চাইলে, “তিনি বলেন, এগুলো দেখার সাংবাদিকদের কোন এখতিয়ার নেই। চাইলে তথ্য দেয়া যেতে পারে।”

এবিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, সড়কবাতি প্রকল্পের কাজ পৌরসভার নিজস্ব কাজ। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নাই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো কি কারণে সড়কবাতির (আলোকসজ্জা) কাজ শুরু করা হয়নি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

বছর অতিবাহিত হলেও জাজিরার পৌরসভার সড়কের পাশে আলোকসজ্জা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি

আপডেট সময় ১০:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪

অনুমোদনের পর বছর পেড়িয়ে গেলেও শরীয়তপুর জেলার অন্তর্গত জাজিরা পৌরসভার সড়কে আলোকসজ্জা প্রকল্পের বাস্তাবায়ন হয়নি। জানতে চাইলে দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র।

জাজিরা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ৭৫ টি সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স জেরিন ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অথচ ঠিকাদার বলছেন কাজটি কে করবে তা মেয়র জানে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাজিরা পৌরসভাটি “খ” শ্রেণি থেকে উন্নীত হয়ে “ক” শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু পৌরবাসীর দাবী, “খ” শ্রেণি থাকা অবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এখন “ক” শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, পৌরসভার শ্রেণি উন্নত হওয়ায় আসলে লাভ হয়েছে কার? পৌরবাসীর নাকি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। কারন যেখানে পৌরসভাটি “খ” শ্রেণির থাকা অবস্থায় একটি সড়কবাতি স্থাপনের টেন্ডার অনুমোদন হয়েছে তার মেয়াদ শেষ হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ পৌরসভাটি “ক” শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরদের সম্মানি ও কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি ঠিকই বেড়েছে।

সড়কবাতি স্থাপণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কর্তৃপক্ষের কোন পদক্ষেপ না দেখে পৌরসভার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে জাজিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। রাজধানী থেকে সরাসরি দিন-রাত আসা যাওয়া করে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। অথচ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সড়কবাতি না থাকায় রাত হলে পৌরসভা এলাকা একটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, “আমরা জাজিরার মানুষ আসলে অনেক আবেগী। যারা মুখে একটু হাসি নিয়ে কথা বলে তাদের অনেক ভালোবেসে ফেলি এবং বিশ্বাস করে নিজেদের প্রতিনিধি বানাই। অথচ তারা নির্বাচিত হয়ে আমাদের কথা মনে রাখেনা। সবাই নিজেদের আখের গুছানোয় ব্যস্ত। তারা আরো বলেন, সড়কবাতির মত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও মেয়রের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলোনা। তাহলে কি মেয়র আমাদের থেকে অসাধু ঠিকাদারদের কথা বেশী ভাবেন?”

এবিষয়ে সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেরিন ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী জাকির সরদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদকে বলেন, “আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও কাজটি আমি নিজে করছিনা। কে করবে তা মেয়র জানে। আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে আমাদের মেয়র অনেক প্রকল্পের কাজ করেন। আমি শুধু বিল উঠানোর সময় স্বাক্ষর করে দেই। সেখানে আমার একটি পারসেন্টিস থাকে।”

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জাজিরা পৌরসভার মেয়র মো: ইদ্রিস মাদবর সংবাদকে বলেন, “সড়কের পাশে গাছ থাকার কারনে সড়কবাতি প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। এখন গাছ কাটা ছাড়াই কাজ শুরু করা হবে। মালামাল ক্রয়ের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মেয়রের কাছে সড়কবাতি(আলোকসজ্জা) প্রকল্পের অনুমোদনের কপি চাইলে, “তিনি বলেন, এগুলো দেখার সাংবাদিকদের কোন এখতিয়ার নেই। চাইলে তথ্য দেয়া যেতে পারে।”

এবিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বলেন, সড়কবাতি প্রকল্পের কাজ পৌরসভার নিজস্ব কাজ। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নাই। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো কি কারণে সড়কবাতির (আলোকসজ্জা) কাজ শুরু করা হয়নি।’