ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণপূর্তে একই কাজে কয়েকবার বিল দুই প্রকৌশলীর নামে ।

একই উন্নয়ন কাজে বিল করেছেন কয়েকবার। প্রমাণিত হয়েছে অনিয়ম। লঘুদণ্ড হিসেবে শুধু বদলি করা হয়। কিন্তু সেই বদলিও মানছেন না দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা। মার্চ মাসের শেষের দিকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও দুই মাসেও নতুন কর্মস্থলে যাননি সংশ্লিষ্টরা। উল্টো এমন আদেশের বিরুদ্ধে নেমেছেন আন্দোলনে। আলোচিত এ ঘটনা ঘটেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে। বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করায় সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীকে অপমান এবং মারধরের চেষ্টাও করা হয়। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এমন চিত্র।

জানা যায়, রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাংলো নং-৯-এর ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী। তবে সেখানে তারা একই কাজে দুবার বিল জমা দেন। এ ছাড়া গত অর্থবছরও সেখানে একই কাজ করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এর মধ্যে মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। তদন্ত প্রতিবেদনেও একই কাজের বিল দুবার জমা দেওয়ার প্রমাণ মেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের ছাদের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, ভেতর ও বাইরের রংসহ সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, পুলিশ ব্যারাক, পশু পালন শেড মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ১২৩ টাকা মূল্যমানের একখানা প্রাক্কলন থোক বরাদ্দ থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা দপ্তরে পাঠানো হয়। উল্লেখিত প্রাক্কলনে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন।
প্রাক্কলনটি পরীক্ষাকালে দেখা যায় যে, এতে অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-১৩-এ ছাদ ও প্যারাপেট ওয়ালে ওয়াটার প্রুফিং প্লাস্টার, আইটেম নং-১৪-এ কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, আইটেম নং-২৫-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-২৬-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-২৭-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রংকরণের আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই ভবনে সিভিল মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যমানের একখানা প্রাক্কলন কারিগরি অনুমোদনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা

গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা-এর দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন।

প্রাক্কলনটি পরীক্ষাকালে দেখা যায়, এতে অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-১২-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-১৪-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-১৫-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রং করানোর আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরও একই ভবনের বিশেষ মেরামত কাজের ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা মূল্যমানের একটি প্রাক্কলন কারিগরি অনুমোদনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা-এর দপ্তরে পাঠানো হয়। এতেও উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন। প্রাক্কলনটি পরীক্ষায় দেখা যায় যে, অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-২৩-এ হান ও প্যারাপেট ওয়ালে ওয়াটার প্রুফিং প্লাস্টার, আইটেম নং-২৪-এ কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, আইটেম নং-১৭-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-২০-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-১৮-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রংকরণের আইটেম অন্তর্ভুক্তসহ নতুনভাবে যেসব কাজ করা হয়েছে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একই কাজ বারবার করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া রমনা গণপূর্ত উপবিভাগ-১, ঢাকা থেকে প্রেরিত অন্যান্য প্রাক্কলন পরীক্ষাকালে কাজের দ্বৈধতা পরিলক্ষিত হয়। প্রাক্কলনগুলোতে একই আইটেম একাধিকবার কিংবা প্রতি বছর বারবার অন্তর্ভুক্ত করায় আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের লঘুদণ্ড ঠেকাতেও আন্দোলনে নেমেছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি। মো. মনিরুজ্জামানকে বদলি করায় আদেশ প্রত্যাহার চান তারা। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চলছে অঘোষিত আন্দোলন। তাদের দাবি অনুযায়ী বদলির আদেশ পরিবর্তন না করায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে গত বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত বাদানুবাদ হয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের।

ওই সময়ের চারটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে কালবেলার হাতে। এতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নেতা বারবার তেড়ে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলীর দিকে। মিটিং থেকে বের হওয়ার পরও তাকে শাসাতে দেখা যায় নেতাদের। অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, রাতে প্রধান প্রকৌশলী অফিস থেকে বের হওয়ার সময় গাড়ি আটকে দেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা। পরে দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যান প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার। ওই সময় তার গাড়ি আটকে রাখার চেষ্টাকালে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে দাবি করে সংগঠনটি।

জানা যায়, গতকাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী অফিসে আসেননি। তবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনে আন্দোলন করেন।

এ বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি রায়হান মিয়া কালবেলাকে বলেন, দুই মাস ধরে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি সুযোগ দেননি। অনেক বিষয়ের মধ্যে মনিরুজ্জামানের বিষয়টিও ছিল। পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি আসবেন বলেও আসেননি। পরে তার রুমে কথা বলতে গেলেও সময় দেননি। যাওয়ার সময় তার গাড়ির সামনে দাঁড়ালেও তিনি গাড়ি থামাননি। এ সময় দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ায় আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহত হন।

উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তে একই কাজে কয়েকবার বিল দুই প্রকৌশলীর নামে ।

আপডেট সময় ০৭:২৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

একই উন্নয়ন কাজে বিল করেছেন কয়েকবার। প্রমাণিত হয়েছে অনিয়ম। লঘুদণ্ড হিসেবে শুধু বদলি করা হয়। কিন্তু সেই বদলিও মানছেন না দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রকৌশলীরা। মার্চ মাসের শেষের দিকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও দুই মাসেও নতুন কর্মস্থলে যাননি সংশ্লিষ্টরা। উল্টো এমন আদেশের বিরুদ্ধে নেমেছেন আন্দোলনে। আলোচিত এ ঘটনা ঘটেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে। বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করায় সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীকে অপমান এবং মারধরের চেষ্টাও করা হয়। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এমন চিত্র।

জানা যায়, রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাংলো নং-৯-এর ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্ব পালন করেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী। তবে সেখানে তারা একই কাজে দুবার বিল জমা দেন। এ ছাড়া গত অর্থবছরও সেখানে একই কাজ করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এর মধ্যে মনিরুজ্জামানকে বদলি করা হয় লক্ষ্মীপুর জেলায়। তদন্ত প্রতিবেদনেও একই কাজের বিল দুবার জমা দেওয়ার প্রমাণ মেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনের ছাদের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, ভেতর ও বাইরের রংসহ সংস্কার, বাউন্ডারি ওয়াল, পুলিশ ব্যারাক, পশু পালন শেড মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ১২৩ টাকা মূল্যমানের একখানা প্রাক্কলন থোক বরাদ্দ থেকে প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা দপ্তরে পাঠানো হয়। উল্লেখিত প্রাক্কলনে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন।
প্রাক্কলনটি পরীক্ষাকালে দেখা যায় যে, এতে অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-১৩-এ ছাদ ও প্যারাপেট ওয়ালে ওয়াটার প্রুফিং প্লাস্টার, আইটেম নং-১৪-এ কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, আইটেম নং-২৫-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-২৬-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-২৭-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রংকরণের আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই ভবনে সিভিল মেরামতসহ আনুষঙ্গিক কাজের ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যমানের একখানা প্রাক্কলন কারিগরি অনুমোদনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা

গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা-এর দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন।

প্রাক্কলনটি পরীক্ষাকালে দেখা যায়, এতে অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-১২-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-১৪-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-১৫-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রং করানোর আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরও একই ভবনের বিশেষ মেরামত কাজের ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯৭ টাকা মূল্যমানের একটি প্রাক্কলন কারিগরি অনুমোদনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১, ঢাকা-এর দপ্তরে পাঠানো হয়। এতেও উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে মিঠুন মিস্ত্রী স্বাক্ষর করেন। প্রাক্কলনটি পরীক্ষায় দেখা যায় যে, অন্তর্ভুক্ত আইটেম নং-২৩-এ হান ও প্যারাপেট ওয়ালে ওয়াটার প্রুফিং প্লাস্টার, আইটেম নং-২৪-এ কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, আইটেম নং-১৭-এ বাসভবনের ভেতরের দেয়াল ও সিলিংয়ে অ্যাক্রিলিক ইমালশন (প্লাস্টিক) রংকরণ, আইটেম নং-২০-এ ভবনের বাইরের দেয়ালে এক্সটেরিয়র প্রিমিয়াম অ্যাক্রিলিক ইমালশন রংকরণ, আইটেম নং-১৮-এ দরজা-জানালায় সিনথেটিক এনামেল রংকরণের আইটেম অন্তর্ভুক্তসহ নতুনভাবে যেসব কাজ করা হয়েছে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একই কাজ বারবার করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া রমনা গণপূর্ত উপবিভাগ-১, ঢাকা থেকে প্রেরিত অন্যান্য প্রাক্কলন পরীক্ষাকালে কাজের দ্বৈধতা পরিলক্ষিত হয়। প্রাক্কলনগুলোতে একই আইটেম একাধিকবার কিংবা প্রতি বছর বারবার অন্তর্ভুক্ত করায় আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের লঘুদণ্ড ঠেকাতেও আন্দোলনে নেমেছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি। মো. মনিরুজ্জামানকে বদলি করায় আদেশ প্রত্যাহার চান তারা। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চলছে অঘোষিত আন্দোলন। তাদের দাবি অনুযায়ী বদলির আদেশ পরিবর্তন না করায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে গত বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত বাদানুবাদ হয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের।

ওই সময়ের চারটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে কালবেলার হাতে। এতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নেতা বারবার তেড়ে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলীর দিকে। মিটিং থেকে বের হওয়ার পরও তাকে শাসাতে দেখা যায় নেতাদের। অন্য একটি ফুটেজে দেখা যায়, রাতে প্রধান প্রকৌশলী অফিস থেকে বের হওয়ার সময় গাড়ি আটকে দেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতারা। পরে দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যান প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার। ওই সময় তার গাড়ি আটকে রাখার চেষ্টাকালে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আহত হয়েছেন বলে দাবি করে সংগঠনটি।

জানা যায়, গতকাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী অফিসে আসেননি। তবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সামনে আন্দোলন করেন।

এ বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি রায়হান মিয়া কালবেলাকে বলেন, দুই মাস ধরে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি সুযোগ দেননি। অনেক বিষয়ের মধ্যে মনিরুজ্জামানের বিষয়টিও ছিল। পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি আসবেন বলেও আসেননি। পরে তার রুমে কথা বলতে গেলেও সময় দেননি। যাওয়ার সময় তার গাড়ির সামনে দাঁড়ালেও তিনি গাড়ি থামাননি। এ সময় দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ায় আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহত হন।

উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।