সংবাদ শিরোনাম ::
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনিক্যাল ত্রুটি ও কয়লা সংকটে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ঝালকাঠিতে পৌর কবরস্থান-৫ এর উদ্বোধন বাজেট নয়, এটি প্রচারণার দলিল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর জুড়ী-বড়লেখা সফর, ১১ দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নেবে ২ কোটি মানুষ এআই প্রযুক্তির পোষ্টার প্রদর্শনী ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে : আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের ২১ কর্মকর্তাকে বদলি মৌলভীবাজার সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা,কঠোর অবস্থানে বিজিবি নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছু বন্ধ করে দিই: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে। তবে এখাতে খরচ নিয়ে সমালোচনায় মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা সব কিছু বন্ধ করে দিই। আবার ৩ হাজার মেগাওয়াটে ফিরে যাই। ’

সোমবার (১০ জুলাই) অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা ও অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি আমাদের সরকারের কার্যক্রমের হিসাব ১৯৯৬ সাল থেকে দেওয়াই ভালো। তখন তো আরও দুরবস্থা ছিল, মাত্র ১ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। আমরাই বিশেষ আইন করে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমরা বাড়িয়েছিলাম। দ্বিতীয় বার যখন ক্ষমতায় আসি দেখি সেখান থেকে এক হাজার মেগাওয়াট নাই। যাই হোক, তিন হাজার ৮০০ মেগাওয়াট থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের আশু করণীয় ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেই। দীর্ঘ মেয়াদি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার। আমরা যদি আশু করণী ব্যবস্থাটা না নিতাম তাহলে চিন্তা করে দেখেন, ওই ৩ হাজার ৮ ০০ মেগাওয়াট হয়তো একশো-দুইশো করে বাড়ত। কিন্তু ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ তো পৌঁছাতে পারতাম না।

কুইক রেন্টাল নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথাই বলে। কুইক রেন্টাল দেওয়া হলো কেন, হিসেবও বের করে দেয় যে, এতো হাজার কোটি টাকা তাদের (কুইক রেন্টাল) দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, দিয়েছি। কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটুকু এগিয়েছে সে বিবেচনাও তো করতে হবে। চৌদ্দ বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি এটা বাস্তব কথা। কিন্তু এই ৯০ হাজারের বিপরীতে আজ বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়েছে!

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে সর্বশেষ বাজেট দিয়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার সর্বশেষ বাজেট দিয়েছে ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর আমরা ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার আমরা বাড়িয়েছি, এটা কী কখনও সম্ভব হতো? কখনও সম্ভব হতো না।

সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই সব লেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে আবার ৩ হাজার মেগাওয়াটে ফিরে যাই। ফিরে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দিই যে, কী অবস্থা হতো দেশে! মাথায় ঢুকতো কেন এটা করা হলো। সমালোচনার করতে পারেন, সমালোচনা ভালো। কিন্তু সেই সমালোচনাটা আমি মনে করি গঠনমূলক হওয়া উচিত। সেই সমালোচনার মধ্য দিয়ে সংশোধনের সুযোগ থাকা। শুধু তো বলার জন্য বলা না। হ্যাঁ, অপজিট তো বলবেই, তারা কথা বলে টক শো করে, টক শোতে ইচ্ছা মতো বলে যাচ্ছে, যা বলার তাই বলে যাচ্ছে। সব কিছু বলার পর বলে, কথা বলার স্বাধীনতা নাই। স্বাধীনতা ছিল কখন? আইয়ুব খানের আমলে ছিল? জিয়াউর রহমানের আমলে ছিল?, এরশাদের আমলে ছিল ? ২০০১ সালের কথা একবার চিন্তা করেন। খালেদা জিয়া যখন সরকারের এলেন দক্ষিণাঞ্চলে কি কোনো সাংবাদিক যেতে পেরেছিলেন?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছু বন্ধ করে দিই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:২৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে। তবে এখাতে খরচ নিয়ে সমালোচনায় মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা সব কিছু বন্ধ করে দিই। আবার ৩ হাজার মেগাওয়াটে ফিরে যাই। ’

সোমবার (১০ জুলাই) অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা ও অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি আমাদের সরকারের কার্যক্রমের হিসাব ১৯৯৬ সাল থেকে দেওয়াই ভালো। তখন তো আরও দুরবস্থা ছিল, মাত্র ১ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। আমরাই বিশেষ আইন করে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ৪ হাজার ৩শ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমরা বাড়িয়েছিলাম। দ্বিতীয় বার যখন ক্ষমতায় আসি দেখি সেখান থেকে এক হাজার মেগাওয়াট নাই। যাই হোক, তিন হাজার ৮০০ মেগাওয়াট থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের আশু করণীয় ব্যবস্থা এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেই। দীর্ঘ মেয়াদি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার। আমরা যদি আশু করণী ব্যবস্থাটা না নিতাম তাহলে চিন্তা করে দেখেন, ওই ৩ হাজার ৮ ০০ মেগাওয়াট হয়তো একশো-দুইশো করে বাড়ত। কিন্তু ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ তো পৌঁছাতে পারতাম না।

কুইক রেন্টাল নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথাই বলে। কুইক রেন্টাল দেওয়া হলো কেন, হিসেবও বের করে দেয় যে, এতো হাজার কোটি টাকা তাদের (কুইক রেন্টাল) দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, দিয়েছি। কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটুকু এগিয়েছে সে বিবেচনাও তো করতে হবে। চৌদ্দ বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি এটা বাস্তব কথা। কিন্তু এই ৯০ হাজারের বিপরীতে আজ বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় দাঁড়িয়েছে!

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে সর্বশেষ বাজেট দিয়েছে ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার সর্বশেষ বাজেট দিয়েছে ৬৮ হাজার কোটি টাকা। আর আমরা ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রবৃদ্ধির হার আমরা বাড়িয়েছি, এটা কী কখনও সম্ভব হতো? কখনও সম্ভব হতো না।

সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই সব লেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে আবার ৩ হাজার মেগাওয়াটে ফিরে যাই। ফিরে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দিই যে, কী অবস্থা হতো দেশে! মাথায় ঢুকতো কেন এটা করা হলো। সমালোচনার করতে পারেন, সমালোচনা ভালো। কিন্তু সেই সমালোচনাটা আমি মনে করি গঠনমূলক হওয়া উচিত। সেই সমালোচনার মধ্য দিয়ে সংশোধনের সুযোগ থাকা। শুধু তো বলার জন্য বলা না। হ্যাঁ, অপজিট তো বলবেই, তারা কথা বলে টক শো করে, টক শোতে ইচ্ছা মতো বলে যাচ্ছে, যা বলার তাই বলে যাচ্ছে। সব কিছু বলার পর বলে, কথা বলার স্বাধীনতা নাই। স্বাধীনতা ছিল কখন? আইয়ুব খানের আমলে ছিল? জিয়াউর রহমানের আমলে ছিল?, এরশাদের আমলে ছিল ? ২০০১ সালের কথা একবার চিন্তা করেন। খালেদা জিয়া যখন সরকারের এলেন দক্ষিণাঞ্চলে কি কোনো সাংবাদিক যেতে পেরেছিলেন?