ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পীরগঞ্জের খাসতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের খাসতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা। ঘটনার পর আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা কমিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে তাদের উপবৃত্তির পুরো টাকা আদায় করে আসছেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এমনকি থুতু ফেলে তা চাটতে বাধ্য করার মতো অমানবিক আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের ঘটনায় রিয়ন ও আয়শা নামে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আদায়ের ঘটনায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আখতার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার আরও ২০টির বেশি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের জামদানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠলে মোটা অংকের অর্থ গচ্চা দিয়ে ধামাচাপ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সে ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোকে চান ট্রাম্প

পীরগঞ্জের খাসতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৩৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের খাসতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা। ঘটনার পর আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা কমিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রহিমের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে তাদের উপবৃত্তির পুরো টাকা আদায় করে আসছেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এমনকি থুতু ফেলে তা চাটতে বাধ্য করার মতো অমানবিক আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের ঘটনায় রিয়ন ও আয়শা নামে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আদায়ের ঘটনায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আখতার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার আরও ২০টির বেশি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহ বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের জামদানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠলে মোটা অংকের অর্থ গচ্চা দিয়ে ধামাচাপ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সে ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।