সংবাদ শিরোনাম ::
ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে : ডা. শফিকুর রহমান ফেনী আলিয়ার বিতর্কিত অধ্যক্ষ কারাগারে জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য করার দাবি প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে রাতে বেইজিং যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী বড়লেখায় ৩২ হাজার শিশু পাচ্ছে ভিটামিন ‘এ’প্লাস ক্যাপসুল ‘বিয়ের কাগজ দেখাতে পারলে যা চাইবেন তা-ই করব’ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ববি সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বললেন নাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের বড় অভিযান: ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে দুই শিশুর মৃত্যুর ১০ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নে কাবিটা প্রকল্পে দুই সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে ঘুষ, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। চট্টগ্রামের সাবেক আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) এবং বর্তমানে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক ব্যক্তি। বিশেষ করে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শেষ মুহূর্তে করা একাধিক পদায়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তার নাম।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রাম থেকে অবমুক্ত হওয়ার আগে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদে পদায়ন করেন এস. এম. কায়ছার আলী। এসব পদায়নের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পদ অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়নের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

জানা গেছে, ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদ থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় যেতে অনাগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালান। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বিদায়ের আগে তিনি ব্যাপক বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৪টি স্মারকে ১৪ জন কর্মকর্তাকে নতুন পদায়ন দেওয়া হয়। ২৮ মার্চ ২৮৬(ম), ২৮৮(ম), ২৮৯(ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নম্বর স্মারকে, ২৯ মার্চ ২৯৩(ম), ২৯৪(ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নম্বর স্মারকে এবং ৩০ মার্চ ৩১৫(ম), ৩১৬(ম), ৩১৭(ম) ও ৩১৮(ম) নম্বর স্মারকে এসব আদেশ জারি করা হয়।

খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, বদলির আদেশ জারির আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এবং পরে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ আরও রয়েছে যে, ওই সময় চট্টগ্রামের আরসি ফুড কার্যালয়েই ঘুষের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার জন্য তার অফিস কক্ষে একটি পিস্তলও রাখা হয়েছিল বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় যখন এসব পদায়নের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে দেখে এবং অবিলম্বে সব পদায়নের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে ৩০ মার্চ রাতেই এস. এম. কায়ছার আলী পূর্বে জারি করা সব বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ জারি করা সংশ্লিষ্ট সব স্মারকের পদায়ন আদেশ বাতিল করা হলো এবং এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

এদিকে পদায়নের আদেশ বাতিল হলেও অভিযোগ উঠেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা এখন বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘুষের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে তারা অনীহা দেখাচ্ছেন।

এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, বদলি-পদায়নের নীতিমালায় সর্বোচ্চ তিন বছর একই কর্মস্থলে থাকার বিধান থাকলেও তিনি কুমিল্লার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) পদে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মার্চে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পান।

খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, ২০২৫ সালে তার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পরও তাকে চট্টগ্রামে বহাল রাখা হয়। পরে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে খুলনায় বদলির আদেশ জারি করা হলেও মাত্র এক দিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়।

এরপর ২০২৬ সালের মার্চে আবারও তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। কিন্তু এবার বদলি ঠেকানোর চেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত খুলনায় যোগদান করতে বাধ্য হন তিনি।

তবে খুলনায় তার অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত ১৪ মে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ইকবাল বাহার চৌধুরীকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পদায়ন কার্যকর না হয়ে ২ জুন জারি হওয়া আরেক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন দেওয়া হয়।

এ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, খুলনায় যোগদানের মাত্র দুই মাসের মধ্যে রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পাওয়ার পেছনে প্রভাব খাটানো ও আর্থিক লেনদেনের ভূমিকা ছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

রাজশাহীতে পদায়নের পর কায়ছার আলী বিভিন্ন মহলে প্রচার করেন যে তিনি রাজশাহীতে যেতে আগ্রহী নন এবং খুলনায় থাকতে চান। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলেও প্রচার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এমন কোনো সরকারি নথির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি বলে দাবি করেছে।

এদিকে চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ এখনও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, পদায়নের আদেশ বাতিল হওয়ার ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং যেসব অর্থ দেওয়া হয়েছিল তা ফেরত পাওয়া উচিত।

এস. এম. কায়ছার আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয় বা খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মেঘ এখনও কাটেনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে : ডা. শফিকুর রহমান

এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে ঘুষ, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:০০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। চট্টগ্রামের সাবেক আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) এবং বর্তমানে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক ব্যক্তি। বিশেষ করে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শেষ মুহূর্তে করা একাধিক পদায়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তার নাম।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রাম থেকে অবমুক্ত হওয়ার আগে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৪ জন খাদ্য কর্মকর্তাকে ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পদে পদায়ন করেন এস. এম. কায়ছার আলী। এসব পদায়নের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পদ অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়নের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

জানা গেছে, ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদ থেকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি খুলনায় যেতে অনাগ্রহী ছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালান। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে বিদায়ের আগে তিনি ব্যাপক বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৪টি স্মারকে ১৪ জন কর্মকর্তাকে নতুন পদায়ন দেওয়া হয়। ২৮ মার্চ ২৮৬(ম), ২৮৮(ম), ২৮৯(ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম) নম্বর স্মারকে, ২৯ মার্চ ২৯৩(ম), ২৯৪(ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম) নম্বর স্মারকে এবং ৩০ মার্চ ৩১৫(ম), ৩১৬(ম), ৩১৭(ম) ও ৩১৮(ম) নম্বর স্মারকে এসব আদেশ জারি করা হয়।

খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্রের দাবি, বদলির আদেশ জারির আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এবং পরে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ আরও রয়েছে যে, ওই সময় চট্টগ্রামের আরসি ফুড কার্যালয়েই ঘুষের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার জন্য তার অফিস কক্ষে একটি পিস্তলও রাখা হয়েছিল বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন।

তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় যখন এসব পদায়নের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে দেখে এবং অবিলম্বে সব পদায়নের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে ৩০ মার্চ রাতেই এস. এম. কায়ছার আলী পূর্বে জারি করা সব বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ২৮, ২৯ ও ৩০ মার্চ জারি করা সংশ্লিষ্ট সব স্মারকের পদায়ন আদেশ বাতিল করা হলো এবং এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

এদিকে পদায়নের আদেশ বাতিল হলেও অভিযোগ উঠেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা এখন বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছ থেকে টাকা ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘুষের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে তারা অনীহা দেখাচ্ছেন।

এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা। তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, বদলি-পদায়নের নীতিমালায় সর্বোচ্চ তিন বছর একই কর্মস্থলে থাকার বিধান থাকলেও তিনি কুমিল্লার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) পদে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মার্চে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পান।

খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, ২০২৫ সালে তার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পরও তাকে চট্টগ্রামে বহাল রাখা হয়। পরে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে খুলনায় বদলির আদেশ জারি করা হলেও মাত্র এক দিনের মাথায় সেই আদেশ বাতিল হয়ে যায়।

এরপর ২০২৬ সালের মার্চে আবারও তাকে খুলনায় বদলি করা হয়। কিন্তু এবার বদলি ঠেকানোর চেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত খুলনায় যোগদান করতে বাধ্য হন তিনি।

তবে খুলনায় তার অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত ১৪ মে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ইকবাল বাহার চৌধুরীকে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই পদায়ন কার্যকর না হয়ে ২ জুন জারি হওয়া আরেক প্রজ্ঞাপনে এস. এম. কায়ছার আলীকে রাজশাহীর আরসি ফুড পদে পদায়ন দেওয়া হয়।

এ নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, খুলনায় যোগদানের মাত্র দুই মাসের মধ্যে রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পাওয়ার পেছনে প্রভাব খাটানো ও আর্থিক লেনদেনের ভূমিকা ছিল। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

রাজশাহীতে পদায়নের পর কায়ছার আলী বিভিন্ন মহলে প্রচার করেন যে তিনি রাজশাহীতে যেতে আগ্রহী নন এবং খুলনায় থাকতে চান। এমনকি তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলেও প্রচার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এমন কোনো সরকারি নথির অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি বলে দাবি করেছে।

এদিকে চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঘুষ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ এখনও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই মনে করছেন, পদায়নের আদেশ বাতিল হওয়ার ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং যেসব অর্থ দেওয়া হয়েছিল তা ফেরত পাওয়া উচিত।

এস. এম. কায়ছার আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয় বা খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এসব নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও এস. এম. কায়ছার আলীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মেঘ এখনও কাটেনি।