সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মধ্যেই রংপুর সদর উপজেলার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে তালা ভেঙে মাদকসেবীদের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের সেন্টারের হাট এলাকায় অবস্থিত কবি দিলরুবা শাহাদাৎ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের আয়া প্রতিদিনের মতো স্কুলে এসে একটি কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে তিনি লক্ষ্য করেন, দরজার তালা ও হ্যাসবল ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের নানা আলামত এবং মাদকসেবনের চিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মমিনুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি বলতে আমাদের লজ্জা লাগে। সকালে আয়া এসে রুম খুলতে গিয়ে একটি কক্ষের তালা ও হ্যাসবল ভাঙা দেখতে পায়। পরে সেখানে সিগারেটের অবশিষ্টাংশসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়। আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে হতভম্ব হয়ে যাই এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করেছি।
তিনি আরও জানান,এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও প্রায় ২০ থেকে ২২ বার নতুন তালা লাগাতে হয়েছে। এলাকার সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। কারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। ধারণা করা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রবেশ করে মাদকের আসর বসাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের আয়া জানান, সকালে এসে দেখি দরজা খোলা। কাছে গিয়ে দেখি তালা ও হ্যাসবল ভাঙা। রুমের ভেতরে অনেক সিগারেটের অবশিষ্টাংশ এবং নেশাজাতীয় জিনিসপত্র পড়ে ছিল। পরে ভয় পেয়ে স্যারদের খবর দিই।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো:আলমগীর হোসেন বলেন, আমার সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে তালা ভেঙে মাদকসেবনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদকের বিস্তার যে কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, এটি তারই প্রমাণ। যারা এমন কাজ করছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তিনি প্রশাসনের প্রতি বিদ্যালয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল এবং প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
শফিউল মন্ডল, রংপুর প্রতিনিধি 






















